“আমার সাতকাহন” -মনিমূল হক -পর্ব-০১

1
669
www.natorekantho.com

আমেরিকায় পথচারি মানে আপনি রাজা।

মনিমূল হক মনি তিনি নাটোর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের একজন সরকারী কর্মকর্তা ছিলেন। অবসরের পর যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন। সেখানকার ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ে নিজের ফেসবুক ওয়ালে “আমার সাতকাহন” শিরোনামে তুলে ধরেছেন আদ্যপান্ত। নাটোর কন্ঠের পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো।

আজ প্রথম পর্ব।

আমেরিকার ট্রাফিক ব্যবস্থার সাতকাহন……..

আমেরিকায় বসবাসকারী মানুষ ভালো কি মন্দ সেটা বিবেচ্য বিষয় নয়, বিষয়টা হলো শতভাগ মানুষ ট্রাফিক আইন মানছে, অন্য কথায় মানতে বাধ্য হচ্ছে। লক্ষ্য করলে দেখতে পাবেন পৃথিবীর প্রায় সব দেশের ট্রাফিক আইন প্রায়ই এক। তবে উন্নত দেশে সামান্য কিছু ভিন্নতা রয়েছে। আপনি যদি ভিজিট ভিসা বা অন্য কোনভাবে ‌এদেশে বেড়াতে আসতে চান, আপনার কোন নিকটাত্মীয় যদি পড়াশুনা করতে কিংবা স্থায়ীভাবে বসবাস করতে চায় তবে আপনাকে সর্বপ্রথমে বাংলাদেশ থেকে অবশ্য অবশ্যই আমেরিকার ট্রাফিক আইন সম্পর্কে শতভাগ জানতে হবে। শুধু জানলেই হবে না, দেশ থেকে সে আইন মানার অভ্যাসও করে আসতে হবে, নইলে নিজেই বুঝতে পারবেন- ” কত ক্ষু্দ্র ভুলের জন্য জরিমানা গুনতে পকেট খালি হয়ে যাচ্ছে। যাক, কথা না বাড়িয়ে শুরু করি বিষয়ের সাতকাহন।

শুরু করবো বাংলাদেশের চালক দিয়ে

বাংলাদেশে এখন বড় বড় রাস্তা হচ্ছে। ট্রাফিক ব্যবস্থাও হচ্ছে উন্নত। কিন্তু যারা গাড়ীঘোড়া চালায় তারা ট্রাফিক আইন জানে? কিংবা জানলেও কি মানে? এ বিষয়ে আমার একটা অভিজ্ঞতা শেয়ার করি। এ বছরের প্রথমে আমি নাটোর থেকে একটি প্রাইভেট কার ভাড়া করে চাপাইনবাবগঞ্জ যাচ্ছিলাম রাজশাহীর নওহাটার আমচত্বর বাইবাস দিয়ে। ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে কি-না এ প্রশ্নে চালক গর্বের সাথে জানালো তার লাইসেন্সটি হেভি গাড়ী চালনোর জন্য। ১৩ বছর আগে সে লাইসেন্সটি বিআরটিএ থেকে নিয়েছে। গাড়ী চালাচ্ছে ১৫ বছর ধরে। এর মধ্যেই গাড়ীটি আমচত্বর বাইপাস দিয়ে ৯০ কিঃ মিঃ বেগে ছুটছিলো। আমি চালককে জিজ্ঞেস করলাম এই রাস্তায় স্পীড লিমিট কতো, সে বললো জানিনা।

আমি দেখলাম বড় করে ডানপাশে স্পীড লিমিট ৭০ কিঃ মিঃ লিখা আছে। এরপর তাঁকে বিনয়ের সাথে জিজ্ঞেস করলাম, ভাইজান, আপনি কি জানেন-যে রাস্তা দিয়ে আমরা যাচ্ছি সে রাস্তার মধ্যবর্তী স্থানে মাঝে মাঝে সোজা সাদা দাগ, মাঝে মাঝে কাটা দাগ, মাঝে মাঝে হলুদ দাগ কেন দেয়া হয়েছে ? তিনি গর্বের সাথে উত্তর দিলেন রাতে যাতে ড্রাইভাররা রাস্তা দেখতে পায় সেজন্য। মনে মনে ভাবলাম হায়রে বিআরটিএ, এ লোককে তুই কি দেখে হেভি লাইসেন্স দিলি। আমি চালককে বললাম, ভাইজান- এই দাগ কিন্তু একটা ট্রাফিক সিগনাল। উন্নতবিশ্বে এটা না মানলে শাস্তি অবধারিত হয়ে যায়। এ আইনে শাস্তি দেয়ার বিধান আমাদের দেশেও আছে কিন্তু প্রয়োগ ব্যবস্থা শিথিল। তিনি বললেন,- ” হতে পারে ”। এরপর গন্তব্যে পৌছা পর্যন্ত চালক আমার সাথে কোন কথা বললেন না। একবার তার জানতেও ইচ্ছা করলো না- এসব সংকেত দ্বারা কি বোঝানো হয়েছে? । যাক মুল প্রসঙ্গে আসি।

রাস্তার বিভাজন রেখা (বাংলাদেশ সহ পৃথিবীর সব দেশে আছে)

আমার ছবির দিকে লক্ষ্য করুন। এবার দাগের অর্থ বলি। ছবি-১ : কাটা কাটা সাদা রেখা (Broken White Lane)-”যে রাস্তার মাঝখানে কাটা কাটা সাদা রেখা দেখতে পাবেন, সেখানে চালককে বুঝতে হবে এ রাস্তাতে আপনি যে কোন গাড়ী বা মটর সাইকেল ওভারটেক করতে পারবেন। প্রয়োজনে ”U” টার্ণও নিতে পারেন”। চিত্র-২: একটানা সাদা রেখা (Solid White lane)- ”যতদুর পর্যন্ত এ রেখা থাকবে ততদুর পর্যন্ত কোন গাড়ীকে ওভারটেক করা যাবেনা বা ”U” টার্ণ নিতে পারবেন না”। ছবি-৩ : হলুদ ডবল লাইন (Double Yellow Line) ”রাস্তার মাঝখানে যতদুর পর্যন্ত ডাবল হলুদ লাইন আছে ততদুর পর্যন্ত মনের ভুলে কোন গাড়ীকে ওভারটেক করা যাবে না”। ছবি-৪ :” একটি হলুদ টানা লাইনের পাশে আর একটি কাটা কাটা হলুদ লাইন -”এটির অর্থ হলো আপনি যদি একটানা হলুদ লাইনের দিক দিয়ে গাড়ী চালিয়ে যান সেক্ষেত্রে আপনি ওভারটেক করতে পারবেন না। কিন্তু আপনি যদি কাটা কাটা হলুদ লাইনের দিক দিয়ে যান সেক্ষেত্রে ওভারটেক করতে পারবেন”।….. এবার আসুন, আমেরিকা সহ উন্নত বিশ্বের বিশেষ কিছু সিগনালের কথা বলি।

STOP এবং YIELD সাইন

আমার ৫ ও ৬ নম্বর ছবিটি দেখুন। গাড়ী চালানোর সময় আমেরিকার বিভিন্ন শহরে আপনি এই দুটি সাইন দেখতে পাবেন। এটি আপনাকে কঠোরভাবে মানতে হবে। STOP সাইনের মুল অর্থ হলো আপনি Subroad থেকে Main road এ উঠতে যাচ্ছেন। এ STOP সাইনের কাছে আপনার গাড়ীকে নুন্যতম ৫ সেকেন্ড দাঁড় করিয়ে তারপর Main road এ উঠতে হবে। এ সিগনালকে বাংলাদেশে Dead Slow বলা হয়। YIELD সাইনটি হলো দেখেশুনে আপনার নিজ দায়িত্বে প্রধান সড়কে ওঠা। অর্থাৎ উভয় দিকের কোন গাড়ী দৃশ্যমান হওয়া পর্যন্ত আপনাকে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। ২০১৮ সালে পুরো আমেরিকায় ৪০ হাজার সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে, তার মধ্যে এ দুটি সংকেত না মানার কারণেই ঘটেছে ২৬ হাজার।

এবার বলবো American Highway

সাধারণভাবে আপনার মনে হবে মহাসড়কের ফাঁকা রাস্তায় গাড়ী চালিয়ে খুব আরাম। আসলে তা না। সবচেয়ে কঠিন হলো আমারিকার হাইওয়েতে গাড়ী চালানো। অবশ্য আপনি যদি প্রতিটি নিয়মে অভ্যস্ত হয়ে থাকেন সেক্ষেত্রে আপনার জন্য সহজই বটে। কারণ প্রতিটি মহাসড়কেই গাড়ীগুলো ১০০ কিঃ মিঃ এর বেশী গতিতে চলে।প্রতিটি রাস্তায় স্পীড লিমিট করা আছে, সে লিমিট ধরে আপনাকে চলতে হবে। মহাসড়ক বলতে কিন্তু বিশাল যজ্ঞ। দেখবেন Two wary রাস্তার একদিকে ৭টি লেন তার মাঝে একটি ডিভাইডার এবং অপর পাশে ৭টি লেন।অবশ্য বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ফোর লেন ও টুন লেনের রাস্তাও চোখে পড়বে। মহাসড়কে ছোট গাড়ী কিংবা পথচারি পারাপারের কোন সুযোগ রাখা হয়নি।

আপনি লেন পরিবর্তন করতে চাইলে সেদিকে Indicator দিয়ে লুকিং গ্লাসে পেছনের গাড়ীর অবস্থান দেখে তারপর লেন পরিবর্তন করতে পারবেন।অপর গাড়ী চালকের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য হর্ণ বাজানো বা রাতে আপার-ডিপার লাইট কোনমতেই ব্যবহার করতে পারবেন না। অবশ্য এখানকার চালকরা কোন অবস্থাতেই হর্ণ বাজায় না। তবে কেহ যদি ভুল করে বা সংকেত না দিয়ে অন্য লেনে প্রবেশ করে কিংবা এলোমেলোভাবে গাড়ী চালায় সেক্ষেত্রে ঐ চালকের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য হর্ণ বাজানোর প্রথা এখানে চালু আছে। যে গাড়ী চালকের উদ্দেশ্যে হর্ণ দেয়া হলো সেটি তার জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক হিসেবে এখানে ধরা হয়।আরেকটি কথা,- একটি গাড়ী থেকে আরেকটি গাড়ীকে নুন্যতম ৫০ ফিট দুরত্বে অবস্থান করতে হবে।

ভিআইপি লেন ও বিশেষ লেন

আমার ৭ ও ৮ নম্বর ছবিটি লক্ষ্য করুন।বাংলাদেশে এই দুইটি লেন নেই। ফলে আমাদের দেশের মানুষ এটির সাথে তেমন পরিচিত না। আমেরিকার বড় কিছু হাইওয়েতে গাড়ী চালালেই আপনি দেখতে পাবেন যে, লেনের সর্ববামে দুইটি হলুদ বর্ডার দিয়ে একটি লেনকে দৃশ্যমান করা হয়েছে (চিত্র-৮)। এটিকে আমেরিকান ট্রাফিকে বলা হয় HOV Lane। স্থানীয় ভাষায় একে VIP Lane বলা হয়ে থাকে। মনে করার কোন কারণ নাই যে, ভিআইপি লেন মানে মন্ত্রী-এমপিদের লেন। এই লেন তারাই ব্যবহার করতে পারবেন- যাদের গাড়ীতে চালক বাদে একের অধিক মানুষ বা যাত্রী রয়েছে। মনে করুন একটি কারে চালক সহ ৪ জন যাত্রী আছে। এরা ভিপিআইপি লেন ব্যবহার করতে পারবে। ব্যাখ্যা হলো- আমেরিকান সরকার মনে করছে, এই চারজন যাত্রী ইচ্ছে করলেই পৃথক ৪টি গাড়ী নিয়ে যেতে পারতেন।

কিন্তু তারা একটি গাড়ীতে ৪ জন বহন করছেন। এতে সরকারের যেমন জ্বালানী সাশ্রয় হচ্ছে অন্যদিকে ট্রাফিক জ্যাম কম হচ্ছে। এ দুটির প্রতি সম্মান দেখিয়ে তাদেরকে VIP Lane ব্যবহার করার অনুমতি দিয়েছে সরকার। বলা বাহুল্য এ লেনটি নিরাপদ এবং কোন জ্যাম লক্ষ্য করা যায় না।তবে এই শর্ত পুরন না করে আপনি এই লেনে ঢুকলেই আপনাকে গুনতে হবে মোটা অংকের জরিমানা।মনে রাখবেন,-নিঝুম-নিস্তদ্ধ জনমানবকশুন্য হাইওয়েতেও কিন্তু আপনি পুলিশের নজরদারিতে আছেন।ফলে কখনোই Over Speeding করার ঝুকি নেবেন না। আরেকটি হলো বিশেষ লেন। বড় বড় হাইওয়েতে VIP লেনের সাথে সিঙ্গেল হলুদ মার্কিং করা একটি লেন আপনার চোখে পড়বে(চিত্র-৮)।এটিকে বলা হচ্ছে বিশেষ লেন। এ লেন দিয়ে শুধুমাত্র পুলিশ এবং ফায়াস সার্ভিসের গাড়ী যাতায়াত করবে। তবে বিশেষ কোন অসুবিধায় পড়লে সামান্য সময়ের জন্য সাধারণ মানুষের গাড়ীও এ লেনটি ব্যবহার করতে পারবে।তবে এ লেন ব্যবহারের সময়টুকু আপনাকে গাড়ীর Emergency Light জ্বালিয়ে রাখতে হবে।

আমেরিকার স্কুল বাস

আমেরিকার বিভিন্ন শহরে সম্পুর্ন হলুদ রংয়ের স্কুলবাস আপনার চোখে পড়বে (ছবি-৯)।স্কুলের ছাত্র ছাত্রীরা এ বাসে যাতায়াত করে। তবে সাবধান…….। এটি কিন্তু সাক্ষাত যমদুত।তবে দেহে নয়, আইনে। এ বাসে বিভিন্ন পয়েন্টে বাচ্চারা উঠানামা করে। দাঁড়ানো অবস্থায় স্কুল বাস দুপাশে দুইটি লাল লাইট ফ্ল্যাস করতে থাকে। এসময় উভয় পার্শ্বের সমস্ত গাড়ীকে বাধ্যতামুলকভাবে দাঁড়িয়ে যেতে হবে। এমনকি, পুলিশ, ফায়ার ব্রীগেড কিংবা মন্ত্রীর গাড়ী হলেও। বাচ্চারা নিরাপদ দুরত্বে যাবার পর স্কুল বাসের লাল বাতি বন্ধ হলে আপনি গাড়ী ক্রস করতে পারবেন। এ নিয়মের ব্যতয় হলে জরিমানা তো পরের কথা, আপনাকে জেলেও যেতে হতে পারে। জেনে রাখুন, স্কুল চলাকালে সে এরিয়াতে কিন্তু স্পীড লিমিট ২৫ কিঃ মিঃ নির্ধারণ করা থাকে।মনে রাখবেন আমেরিকান সরকার কিন্তু স্কুল ছাত্র-ছাত্রীদের সোনার খনির চেয়েও বেশী গুরুত্ব দেয়। সুতরাং আপনার হাজার জরুরী থাকলেও স্কুল এরিয়াতে Speeding এর ব্যাপারে কোন ওস্তাদি খাটাবেন না।

রাস্তায় বাধ্যতামুলকভাবে গাড়ী সাইড করা

আমেরিকার বিভিন্ন রাস্তায় গাড়ী নিয়ে চলার সময় মাঝে মধ্যে আপনি সাইরেন দিয়ে কিছু গাড়ী যেতে দেখবেন। মনে রাখবেন পুলিশ, এ্যাম্বুলেন্স এবং ফায়ার সার্ভিসের গাড়ী ছাড়া অন্য কোন গাড়ীকে সাইরেন বাজানোর অধিকার দেয়া হয়নি। যাহোক, যখনই আপনি সাইরেনের শব্দ শুনবেন, তখনই সঙ্গে সঙ্গে আপনাকে গাড়ী নিয়ে নিরাপদ দুরত্বে সাইড করে দাঁড়িয়ে যেতে হবে এবং যতক্ষন পর্যন্ত ঐ গাড়ী ক্রস না করবে বা সাইরেনের শব্দ বন্ধ না হবে তখন আপনাকে আপনার স্থানে ঠাই দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। মনে রাখবেন- আমেরিকার আইনে পুলিশের গাড়ি কোনো আসামিকে তাড়া না করলে, এ্যাম্বুলেন্সে কোনো সিরিয়াস রোগী না থাকলে এবং ফায়ার সার্ভিসের কোথাও আগুন না লাগলে তারা কখনোই সাইরেন বাজাবে পারবে না।

শেষে বলি আমেরিকান পুলিশের কথা

আমেরিকায় কিন্তু পুলিশের কোন ট্রাফিক বিভাগ নাই। সাধারণ পুলিশকেই ট্রাফিকের কাজ করতে হয়। অবশ্য সব ট্রাফিক সিগনালই সেন্সরযুক্ত এবং অটোমেটিক। মুল শহরে পুলিশ হাতে কোন কাজ করে না। ট্রাফিক সিগনালে আপনার কোন ভুল হলে অটোমেটিক একটি লাইট আপনার গোটা গাড়ীর উপর ফ্লাস করবে, আর অপরাধের ধরণ দেখে জরিমানা সহ ভিডিও চিত্র চলে যাবে আপনার ই-মেইলে।

সন্দেহযুক্ত বা বিশেষ প্রয়োজনে পুলিশ কিন্তু আপনার গাড়ী থামাতে পারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই সংকেত হয় সাইরেনের মাধ্যমে। সংকেত পাওয়া মাত্র আপনি গাড়ী সাইড করবেন কিন্তু পুলিশের অনুমতি না পাওয়া পর্যন্ত কখনোই গাড়ী থেকে নামবেন না। পুলিশ অফিসার আপনার কাছে আসবে। এটি তাদের আইন। পুলিশ অফিসার আপনাকে অবশ্যই ”স্যার” বলে এড্রেস করবে এবং বিনয়ের সাথে তাদের কাংখিত প্রশ্ন জানতে চাইবে। ভুলেও মিথ্যে বলতে যাবেন না, কারণ আপনার লাইসেন্স ও গাড়ীর সব তথ্যই তাদের কাছে আছে। আপনার কোন অপরাধ ধরা পড়লে পুলিশকে ঘুষ দেয়ার চিন্তাটা ঘুর্নাক্ষরেও মাথায় আনবেন না।

মনে রাখবেন, পুলিশ যখন আপনার সাথে কথা বলা শুরু করবে তখন থেকেই তার ড্রেসের সাথে সংযুক্ত করা ভিডিও ক্যামারাটি তাকে বাধ্যতামুলকভাবে চালু করতে হবে, যেখানে আপনার এবং পুলিশ কর্মকর্তার সব কথোপকথন এবং ভিডিও চিত্র রেকর্ড হবে। কারণ এখানে পুলিশের কার্যক্রম তদারকি করার জন্য Police intelligence নামে একটি পৃথক বিভাগ আছে। দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যগণ সঠিক দায়িত্ব পালন করছে কি-না কিংবা মানুষের সাথে বন্ধুত্বমুলক আচরণ করছে কি না তা তদারিক করাই এ বিভাগের কাজ।

প্রিয় পাঠক, সাতকাহনের ৪ কাহন জানালাম। অবশিষ্ট ৩ কাহন আরেকদিন লিখবো ইনশাল্লাহ। খুবই ক্ষুদ্র বিষয় জানাতে পারলাম,- এজন্য আলহামদুলিল্লাহ। আর এ লেখায় ১টি মানুষও যদি উপকৃত হয় তাহলে শুকুর আলহামদুলিল্লাহ। দোয়া করবেন…………

Advertisement
পূর্ববর্তী নিবন্ধ“পাহাড়ের স্বরলিপি” কবি শাহিনা রঞ্জুর কবিতা
পরবর্তী নিবন্ধ“আমার সাতকাহন” -মনিমূল হক মনি -পর্ব ০২

1 মন্তব্য

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে