উত্তরা গণভবনের বিরল প্রজাতির ফুল ”হাপরমালি”

0
1637

খন্দকার মাহাবুবুর রহমান : ফুলে ফুলে ছেয়ে গেছে নাটোরের উত্তরা গণভবনের, ইতালিয়ান গার্ডেনে, বিরল প্রজাতির এই ফুলগাছ ”হাপরমালি”। জানা যায় রাজকীয় সময়ে গাছটি রোপণ করা হয়েছিল। প্রায় দুইশত বছরের পুরাতন বলে মনে করেন অনেকে। নাম নিয়ে দ্বিমত থাকলেও ফুলের সৌন্দর্য ও সুগন্ধি নিয়ে কোন দ্বিমত নেই।

উত্তরা গণভবনের দেখভালের দায়িত্বরত কর্মীরা বলছে, গাছটির নাম “এলামন্ড” কিন্তু বৃক্ষপ্রেমিক বৃক্ষবিধ ও বৃক্ষ গবেষকরা বলছে এটা “হাপরমালি” বাংলাদেশের ৬৭ টি বিপন্ন উদ্ভিদের তালিকায় রয়েছে এর নাম, বীজ থেকে সহজেই চারা উৎপাদন হয়, এছাড়া কলম কেটে চারা উৎপাদন করা যায়।

তবে বিপন্ন কেন হলো ? এমন প্রশ্নের উত্তর হয়তো পাওয়া যাবে না! তবে বিপন্ন হওয়ার পেছনে আমরাই দায়ী, এই কথাও অস্বীকার করা সম্ভব না। উত্তরা গণভবনে রাজকীয় সময়ে রোপনকৃত দুর্লভ প্রজাতির এই গাছ মাত্র দুইটি আছে।

উত্তরা গণভবন দেখভালের দায়িত্বে থাকা নয়ন সরকার নাটোর কণ্ঠকে  জানান, এই গাছের নিচে নেমপ্লেটে এই নামটি লেখা আছে, আমরা এই নামেই এই ফুলকে চিনি বা জানি বৈজ্ঞানিকদের মতে অথবা বৃক্ষ গবেষকদের মতে অন্য নাম থাকতে পারে, তা আমাদের জানা নেই। তিনি মনে করেন কোনো বৃক্ষ গবেষকের সহযোগিতায় প্রশাসনের মাধ্যমে এই নেম প্লেট লাগানো হয়েছিল।

উত্তরা গণভবন  কর্তব্যরত নূর মহাম্মদ নাটোর কণ্ঠকে জানান, নেমপ্লেটের নামকরণ অনুযায়ী আমরা এটাকে এলামন্ড বলে জানি, আমরা দুর্লভ প্রজাতির এই গাছটির ইতিমধ্যে কলম করেছি, বর্ষা শুরু হলে প্রচুর পরিমাণে চারা উৎপাদন করব এবং উত্তরা গণভবনের  অনেক স্থানে রোপন করব, এর বংশ টিকিয়ে রাখার লক্ষ্যে, প্রশাসন যদি মনে করেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে তা ছড়িয়ে দেবেন, তার জন্য চারা উৎপাদন করতে আমরা প্রস্তুত রয়েছি।

হাপরমালি

রোজী মোজাম্মেল মহিলা ডিগ্রি কলেজের বোটানিক বিভাগের অধ্যাপক সায়মা চৌধুরী রোশনী ফুলের ছবি দেখে তিনি শনাক্ত করেন এটা ”হাপরমালি” ফুল এবং নাটোর কণ্ঠকে জানান, হাপরমালি আমাদের দেশে এক বিরল ও সুগন্ধি বনফুল, বনবিন্যাস এর ফলে এই চিরসবুজ উদ্ভিদটা কমে গেছে, হাপরমালি বাংলাদেশ ভারত ও মিয়ানমারের আদিবাসী, কাষ্ঠল বনলতা, কান্ড ধূসর, পাতা প্রায় ৫ ইঞ্চি লম্বা হয়, অনেক ওপরে উঠে শাখা-প্রশাখা আকারে বেড়ে ওঠে, ফুলের রং ক্রিম সাদা।

বীজের মাধ্যমে বংশ বিস্তার করে তবে কলম কাটলেও চারা হয়। হাপরমালি পশ্চিমবঙ্গে রামসর ফুল নামে  পরিচিত, বৈজ্ঞানিক নাম vallaris solanacea । আগের বৈজ্ঞানিক নাম  vallaris heynei  প্রজাতির নাম বদলে গেছে, জার্মান উদ্ভিদবিদ ফেডরিক এডলফ হেনিয়ির সম্মানে রাখা হয়েছিল।
শোভাবর্ধনকারী উদ্ভিদ হিসেবে এটা দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশে, বেশ জনপ্রিয় তবে বাংলাদেশের হাতেগোনা কয়েকটি স্থানে এর সন্ধান পাওয়া যায়, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাটোরের উত্তরা গণভবনে।

বৃক্ষ গবেষক বেনুবণার্ অধিকারী নাটোর কণ্ঠকে জানান, নাটোরের উত্তরা গণভবনের দুর্লভ প্রজাতির অসাধারণ বেশকিছু গাছ আছে, তবে কয়েকটা গাছের নামকরণ ভুল আছে।“বৃক্ষকথা” পেইজের সদস্যদেরকে নিয়ে একদিন উত্তরা গণভবনে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে এবং বেশ কিছু বিরল প্রজাতির বৃক্ষ রোপন করা ও ভুল নাম গুলো সংশোধন করে দেওয়ার পরিকল্পনা ইতিমধ্যে আমরা গ্রহণ করেছি।

জেলা প্রশাসক মো.শাহরিয়াজ নাটোর কণ্ঠকে জানান, ইতিমধ্যে উত্তরা গণভবনের বিরল প্রজাতির গাছ কলম করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নামকরণে ভুল আছে কিনা তা তার জানা নেই তবে বিষয়টি তিনি দেখবেন বলে জানিয়েছেন।

হর্টিকালচার সেন্টারের মাধ্যমে বিরল প্রজাতির এই গাছ ছড়িয়ে দেওয়া হোক বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে আরো সবুজে সবুজ হোক আমাদের এই  বসুন্ধরা প্রতিটি নাগরিকের অন্তরে আসুক আরও প্রফুল্লতা, এমনটাই প্রত্যাশা বৃক্ষপ্রেমীদের।

Advertisement
উৎসMahabub Khandakar
পূর্ববর্তী নিবন্ধনাটোরের নলডাঙ্গায় বিদ্যুৎপৃষ্টে এক কলেজ ছাত্রের মৃত্যু
পরবর্তী নিবন্ধবড়াইগ্রামে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তরুণী ধর্ষণ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে