একজন মানবতার ফেরিওয়ালা মনিরুল ইসলাম- আবু জাফর সিদ্দিকী

0
501
Monirul-

একজন মানবতার ফেরিওয়ালা মনিরুল ইসলাম- আবু জাফর সিদ্দিকী

সিংড়ায় যোগদানের পর থেকে তিনি অসহায় বৃদ্ধা মাকে সন্তানের কাছে, শিশু সন্তানকে মায়ের কোলে, শিকল পরা গৃহবধূকে উদ্ধার করা সহ বিভিন্ন কাজ করে সিংড়াবাসীর মনে নিজের জায়গা করে নিতে সক্ষম হয়েছেন।

দীর্ঘ ৭ বছরের বেশি সময় তিনি সুনামের সাথে নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম, বাগাতিপাড়া, নলডাঙ্গা ও সিংড়া থানায় ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সম্প্রতি ডিএমপিতে বদলি হয়েছে মনিরুল ইসলামের।

মনিরুল ইসলাম চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার তারাপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৯২ সালে পুলিশ বাহিনীতে উপ-পরিদর্শক (এস আই) হিসেবে যোগদান করেন। এস আই হিসেবে সিরাজগঞ্জ, রাজশাহী ও ডিএমপিতে কর্মরত ছিলেন। অফিসার ইনচার্জ হিসেবে পাবনা, রাজশাহী, নীলফামারী, বগুড়া ও নাটোর জেলার বিভিন্ন থানায় অত্যন্ত দক্ষতা ও সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেন।

ছেলেদের অবহেলার শিকার ৮৫ বছর বয়সী মসিরন বেওয়া প্রায় ২০ বছর যাবৎ সিংড়া পৌর শহরের দমদমা কবরস্থানের পাশে চকলেট ও বিড়ির দোকান দিয়ে আসছিলেন। অসহায় জীবন-যাপনের বিষয়টি ওসি মনিরুল ইসলাম অবগত হয়ে মাকেতাঁর ছেলে আবু সাইদের জিম্মায় জিম্মায় নিয়ে ভরন পোষনের জন্য নির্দেশ দেন। উপজেলার কুষাবাড়ী গ্রামের মৃত হুসেন প্রামাণিকের স্ত্রী রহিমা বেওয়ার মুখে লাথি মেরে ফেলে দেয় ছেলে বেল্লাল হোসেন।

গ্রাম্য প্রধানদের সামনেই করা হয় মারপিট। বৃদ্ধার ছেলে বেল্লালকে থানায় ডেকে তার মাকেহাতে তুলে দেন ও মায়ের সব দায়িত্ব বুঝে দেন ওসি মনিরুল ইসলাম। একইভাবে উপজেলার বেলোয়া গ্রামের মৃত মছির উদ্দিন প্রামাণিকের স্ত্রী ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধা মর্জিনা বেওয়া দীর্ঘ দিন ধরে ছেলেদের অবহেলার শিকারহয়ে আসছিলেন। পরে বিষয়টি ওসি জানতে পেরে অবহেলিত বৃদ্ধাকে তার ছেলে মহাব্বত প্রামাণিকের কাছে দায়িত্ব বুঝে ওসি মনিরুল ইসলাম।

যৌতুক লোভী স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিছানায় যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিলেন মমতাজ বেগম (২২) নামের এক গৃহবধু। স্বামীর মধ্যযূগীয় নির্যাতনের শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। গণমাধ্যম কর্মীদের কাছ থেকে খবর পাওয়ার পর রাত ১টায় হাসপাতালে নির্যাতিতা মমতাজ বেগমের কাছে ছুটে যান সিংড়া থানার ওসি মনিরুল ইসলাম। মমতাজ বেগমের কাছে ঘটনা শুনে দেড় বছরের সন্তানকে রাত৩টায় তার কোলে ফিরিয়ে দেন তিনি।

উপজেলার ডাহিয়া ইউনিয়নের গাড়াবাড়ি গ্রামে রেবেকা নামে একগৃহবধূকে মাঝে মধ্যেই তার স্বামী শিকল দিয়ে বেঁধে রাখতেন। গণমাধ্যম কর্মীদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষনাৎ গভীর রাতে তিনি সঙ্গীয় ফোর্সসহ রওনা দেন উপজেলার দূর্গম এলাকায় এবং তাকে উদ্ধার করে তার পিতার বাড়িতে পৌছে দেয়। মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রহমানের বিধবা মেয়ে দেলচানের মুখে হাসিফুটিয়ে ছিলেন ওসি মনিরুল ইসলাম।

দেলচানের ১ বিঘা জমি আবাদ করলে পার্শ্ববর্তী গুরুদাসপুর উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের হরদমা গ্রামের সোহরাব তার ধান জোরপূর্বক কেটে নেয়। দীর্ঘদিন থেকে ঘুরে কোনসমাধান হয়নি। ওসি বিষয়টি জানতে পেরে দেলচানের সমুদয় টাকা আদায় করে তাঁর হাতে তুলে দেন।মজিরন বেওয়া, বয়স শত বছরের উপরে। উপজেলার পুঠিমারি গ্রামে। বসতবাড়ির জায়গাটুকু জোরপূর্বক লেখে নেন নাতি লালু। এখনজমিটুকু নেয়ার জন্য বারবার চাপ দিচ্ছে। কিন্তু তাকে ঠিকমত দেখভাল করে না। অভিযোগের পরিপেক্ষিতে মুচলেকা নেয়ার পর ওসি মনিরুল ইসলামবৃদ্ধা মজিরন বেওয়াকে তার নাতি লালুর হাতে তুলে দিলেন।

মোছাঃ শাহিদা বেওয়া, বয়স প্রায় ৭০ বছর। বাড়ি নাটোরের সিংড়া উপজেলার খরমকুড়ি গ্রামে। মাঝে মাঝেই ছেলেদের নির্যাতনের শিকার হতেহন তাকে। সম্প্রতি ছেলে সাইদুল ও স্বপন তাকে মারধর করে। ওসি মনিরুল ইসলাম ঘটনা শুনে তার ছেলেদের আটক করে আনে। তারা মুচলেকা দেয় যে, আর কখনো মাকে মারধর করবে না। ছেলেদের হাতে বৃদ্ধা শাহিদা বেওয়াকে তুলে দেনসিংড়া থানা পুলিশ। দুই ছেলের অবহেলার শিকার রেখা বেগম ফিরে পেয়েছে নিজ ভিটাবাড়ি।

রেখা বেগম উপজেলার পারসাঐল গ্রামের মৃত আখের আলীর স্ত্রী। সম্প্রতি আপোষ নামা করে ছেলেদের জিম্মায় দেন মনিরুল ইসলাম।

যেখানেই থাকেন, ভালো এবং সুস্থ থাকেন প্রিয় মনিরুল ভাই

Advertisement
পূর্ববর্তী নিবন্ধস্মৃতিপটে ও অনুপ্রেরনায় শহীদ জননেতা মমতাজ উদ্দিন – প্রভাষক মোয়াজ্জম হোসেন
পরবর্তী নিবন্ধমামলা চালাতে গিয়ে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়াতে হয়েছে, তবুও হাল ছাড়িনি-আবুল কালাম আজাদ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে