কবি অসিত কর্মকার‘এর একগুচ্ছ কবিতা

0
361
‍Asit Karmakar

স্পাইনাল কর্ড

হে রাষ্ট্র প্রধান
যদি ধরে নিই তোমার শরীর-ই রাষ্ট্র,তার ভিতরে
যত ধর্মমত তা রাষ্ট্রদেহেরই যন্ত্রাংশ,তাহলে ধরে নেবো
তোমার রাষ্ট্রদেহই এক পেশাদার সংগঠন।

হে আইন প্রণেতা
যদি ধরে নিই তুমিই মেরুদণ্ড;তুমিই রাষ্ট্র-দেহের
কাঠামো গঠন করো, তুমিই রাষ্ট্র-দেহের উপরাংশসহ
সর্বাঙ্গের সঞ্চালক মাথার ভার বহন করো।

তাহলে আইন প্রণেতা
মেরুদণ্ডের ভিতর স্পাইনাল কর্ড,তোমার মাথা থেকে
জটিল সব রাজনৈতিক সংকেত প্রেরণ করেই কি
এই রাষ্ট্র-দেহের ভারসাম্য রক্ষা করো?

হে ঢাউস জনদাস
মঞ্চ ভাষণের পাশাপাশি বডি ল্যাংগুয়েজ পড়ে,
তোমার মেরুদণ্ড কতটা নমনীয় এবং তার ভিতরে থাকা
স্পাইনাল কর্ড কতটা সক্রিয় তা যাচাই করতে চাই।

দেবে কি সুযোগ, বডি ল্যাংগুয়েজ পড়ুয়ারে?

২৫-০৫-২০২০ ইং
গুরুদেব Anadi Chaudhuri মহাশয় ও গুরুপত্নী
Sachi Chaudhuri মাতাকে উৎসর্গ করলাম।

নিরপেক্ষ হও

অসংখ্য নেতা উপনেতা
অতিদ্রুত উজ্জল নক্ষত্রের মতো হতে চায়
লাইমলাইটের সহযোগিতায়,
এতে দোষের কী ?

অথচ এ দোষের বিপরীতে,
যুবকের উদ্যত ছুরিকায় খুন হয় অন্য যুবক
জর্জ ফ্লয়েডের মাথা থাকে পুলিশের হাঁটুতলে
যে- দৃশ্যে বিশ্ব হবে তোলপাড়
যে দৃশ্য মুহূর্তেই হিলাবে সরকার,তেমনই দৃশ্য রেখে
কৃষ্ণদোষ কেটেছেঁটে লাইমলাইটও
বিশ্বমানের বেণে হতে চায়,
এতে দোষ নেই ?

০৫-০৬-২০২০ ইং

সঁপে দিয়েছি

যারা লাইম লাইটের অপেক্ষায়
মৌলিক অধিকারের ফিরিস্তি হাতে গলা শাণাচ্ছে,
যদি আবারও ক্ষমতায় যায় কোনোদিন,তারাও
হিমঘরে গলা জিরাবে কিছুদিন ।
এরপর অবলীলায় ছিঁড়ে খাবে
মৌলিক অধিকারের ফিরিস্তি,
আর ক্যান্ডেল লাইটে ওল্ডমঙ্ক
রাম গালধঃকরণের পর উগরে দিবে
রুলিংদের মতই সপ্তম অনুচ্ছেদ।
শাঁখের করাতের কাছে সঁপেছি;
নিজেকে বিশ্বায়নের যুগেও ভেবে নিয়েছি পেণ্ডুলাম,
কারণ রাষ্ট্রের মালিকরাই যেখানে
ক্ষমতার তোড়ে দোদুল্যমান।
বাঁশ ফুটো করলেই বাঁশি
অভিব্যক্তি যতই পরিবর্তন হোক
সুর তো বেরয় একই।

০১-০৬-২০২০ ইং

এসো প্রেম

কে বলে হৃদয়হীনা উকিল বা কসাই মুক্তার
পেশার খাতিরে কসাইয়ের হাতে উদ্যত হয় চাপাতি
তেমনই উকিলের হাতে উদ্যত হয় ধারা-
সারাদিন রক্তগঙ্গায় সাঁতার কাটা
রাণীভবাণীর নাটোরে;মুক্তাপাঁঠারও আছে এক মন
দিন শেষে তারও আছে প্রেমের টান।
সব উকিল-ই বখিল প্রেমিক হয় না
কোনও কোনও উকিলের প্রেম বাঁচে অকৃপণ দানে
বয়স পনেতিনকুড়ি হলেও কেউ তা জানে।
তবে বন্ধ করো বয়সের অজুহাত
যেখানে বয়স কোনো বারণ-ই মানে না, সেখানে
কি হবে মেপে বয়ঃসন্ধিকালের সীমানা।
চলো মন বাঁধো আটঘাট
মিলে যাও চল্লিশের সাথে পনেতিনকুড়ি
অথবা ষোলোর সঙ্গে ষাট।

২৯-০৫-২০২০ ইং
বন্ধু তোমার-ই জন্য

অণুজীব-শিশুর অপেক্ষায়

আর কোনোদিন পিছু ছাড়বে না
প্রজন্ম প্রজন্ম ধরে রয়ে যাবে মানুষের সাথে
তোমরা দেখে নিও একদিন।
শুক্রে শুক্রে পাবে তার লেশ
অবলার ডিম্বকোষই হবে নিরাপদ অাশ্রয়স্থল,
ভূমিষ্ঠ হলেই নেবে মানুষের বেশ।
যদি বিশ্বাস নাই করো,তবে
ল্যাবে আরএনএ পরীক্ষা করাও,বলে দেবে
অণুজীব-যুক্ত কী দারুণ শিশু!
তখন দুঃখ কোরোনা,
শুধু এই ছোট্ট কথাটা মনে রেখো
বিষে কিসে বিষের ভয়।

২৭-০৫-২০২০ ইং

 

Advertisement
উৎস ‍Asit Karmakar
পূর্ববর্তী নিবন্ধনাটোরের আজও দুই জন করোনা আক্রান্ত
পরবর্তী নিবন্ধকরোনা আক্রান্ত হয়ে নাটোরের মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে