কবি আলেয়া আরমিন আলো‘এর একগুচ্ছ কবিতা

0
556
Aleya Armin Alow

প্রার্থনা

হে জগৎ অধীশ্বর
তুমি তো সবজান্তা
রাখো সবারই মনের
সুখদুঃখের খবর।
শ্রেষ্ঠত্বে অসীম তুমি
মালিক দো-জাহানের
তোমার তুলনা তুমিই
তুমিই ভান্ডার রহমতের।
নিবিড় প্রেমে এই মনে
তোমারেই দিয়েছি স্থান
দয়া করো করুণাময়
হে… রহিম রহমান।
বিশ্বজুড়ে অমানিশায়
আলো জ্বেলে দাও
অনুজীবের ধ্বংস করে
মৃত্যুর মিছিল থামাও।
মহিমান্বিত এই রাতে
সাড়া দাও তুমি
হে…জগতের প্রণেতা
তুমিই মাবুদ অন্তর্যামী।
প্রার্থনা কবুল করো
হে…বিশ্ব বিধাতা
সব পাপ ক্ষমা করে
হৃদয়ে ছোঁয়াও পবিত্রতা।
২০-৫-২০২০.

ঘুমহীন রাত

প্রায়ই ঘুমহীন রাত কাটে
অণুক্ষণেই পাশ ফিরি
জানালার ওপাশের আকাশে আনমনেই চেয়ে থাকি
দেখি,আমার মতই জেগে থাকে শুক্লপক্ষের চাঁদ।
কেসেট প্লেয়ারে মৃদু আওয়াজে গান ছেড়ে দিয়ে
বৃথাই চোখ বুজি
হালকা তন্দ্রাচ্ছন্নও হই,
কিন্তু, কিছুতেই ঘুম আসে না দুটি নয়নতারায়
অবসাদগ্রস্ত তন্দ্রাঘোরে ছেঁড়া ছেঁড়া স্বপ্নেরা
বড় বেশি তাড়া করে আমায়।
ঘর্মসিক্ত আমি বিছানা ছেড়ে উঠে বসি
বারান্দায় অকারণ পায়চারি করি,
সমস্ত পৃথিবী যখন গভীর ঘুমে মগ্নপ্রায়
তখন ঝুলবারান্দার গ্রিলে হেলান দিয়ে
গাঢ় নৈঃশব্দের অতলে ডুবে যাই…
গভীর রাতের পিনপতন নীরবতা,
দূর আকাশে নক্ষত্রের সামিয়ানায় মধ্যমনি
ঝলমলে চাঁদ যেন জ্বলন্ত প্রদীপ,
জ্যোৎস্নার আলোআঁধারিতে ছায়াবৃত ঘর বারান্দা,
বাগানে হাসনাহেনার তীব্র ঘ্রাণ,
বাতাসে ধূপের মাদকতা,
সঙ্গীহীন কোন বিষাদী পাখির হঠাৎই ডেকে উঠা,
সব….সব কিছুই আমায়
সাতরং অনুভূতির নিগূঢ় ভাবনায় আচ্ছন্ন করে রাখে।
আমার চারপাশে নিঃশব্দেই সহস্র শব্দের
এক মৌন মিছিল হেঁটে যায় ,
মনের জমিনে অজান্তেই অযুত কবিতার বীজ বপন হয়,
অতঃপর…অন্তরাল থেকেই কে যেন আমাকে
কেবলই কবিতা লেখায়।
২৭-৪-২০১৮

বৃষ্টি বিলাসী মন

তেজদীপ্ত অর্কের রৌদ্র তপ্ততায়
ঝকঝকে নীলাকাশ
ভালো লাগে কতো আর?
এবার একটা মেঘলা আকাশ চাই
চাই মেঘমল্লার আঁধার
গুড়ুম গুড়ুম ব্রজপাতে
চাই বিজলির ঝঙ্কার।
এক পশলা বৃষ্টির আশায়
রৌদ্রনীল অম্বরে চেয়ে আছি,
পিপাসিত চাতকিনী মন
আজ কেবলই চাই
বৃষ্টিজলে ধোয়া
সবুজ তরুপল্লবের স্নিগ্ধ ঘ্রাণ,
কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির সুধাময় স্পর্শে
তৃষ্ণার্ত মাটির সোঁদা সুঘ্রাণ।
ঝিলের জলে পদ্মপাতায়
চাই বৃষ্টির নাচন,
মধ্য পুকুরে বৃষ্টির ফোঁটায়
শুনতে চাই টাপুরটুপুর আলাপন,
জারুল পাপড়ি, হিজলরেণু
আর সিক্ত কৃষ্ণচূড়ার জলকেলিতে
মাতোয়ার চাই আজ বৃন্দাবন।
সদ্য ফোটা কদমের গায়ে
দেখতে চাই
বিন্দু বিন্দু জলের স্পর্শন,
আরো দেখতে চাই
অর্ধ মঞ্জুরিত গোলাপ কুঁড়ির
বৃষ্টিস্নাত অবগুণ্ঠন।
প্রশান্তি মোড়ানো শীতলতায়
বসুধার বুকে চাই
রিমঝিম বারিধারা শ্রাবণ।
ঝুম বৃষ্টির ছোঁয়ায় অবাধ্য হতে চাই
আবেগের বাড়াবাড়িতে
বলিরেখা নয়ন আজ
কিশোরী কল্পনায় হারাতে চাই,
বৃষ্টির জল জমা উঠোনে
কাগজের নৌকো ভাসাতে চাই,
জলকাদা মেখে
অঝোর ধারার শীতল বৃষ্টিতে
মন ভেজাতে চাই।

প্রকৃতি ও কিশোরী

বিকেলের মুখে কমলা রঙের হাসি
শান্ত হাওয়ায় ঝিরঝির শব্দে নারিকেল পাতা দোলে,
শ্যামল কুঁড়ির খোলস চিঁড়ে সন্ধ্যামালতি গুলোও
সদ্য যৌবনের গাঁঢ় গোলাপি আভায় হাসে।
জারুল শাখায় বসে অহেতুকই ডেকে আকুল হয়
বৌ কথা কও
বিলের শান্ত জলে মৃদু ঢেউ তুলে
কূলে এসে ভীড়ে ডিঙি নাও,
গোধূলির আঁচড়ে আকাশের বুকে অঙ্কিত
স্থিরচিত্রের ছায়াছবি চিকচিক করে
বিলের কাকচক্ষু জলে
নীড়মুখো পাখিগুলোও সেই জলে ছায়া ফেলে
ক্লান্ত ডানায় উড়ে।
বিল পাড়ের আলপথ ধরে হেঁটে যায় এক কৃষ্ণকলি
সর্ষে রঙের শাড়ি পড়ে ধান রঙের আঁচল উড়িয়ে
কপালে লাল টিপ, হাতে সবুজ রেশমী চূড়ি
আর তামার কঙ্কনে রিনিঝিনি সুর তুলে
আলতা রাঙানো পায়ে রূপোর মল জড়ায়ে
চঞ্চলা গ্রাম্য কিশোরী হেঁটে যায়
কচি দূর্বাঘাসের মোলায়েম গালিচা মাড়িয়ে।
শেষ বিকেলের এমন অপরূপ সৌন্দর্য্যের বিচিত্রতায়
বিমুগ্ধ চোখে তাকিয়ে দেখি
প্রকৃতি আর কিশোরী মিলেমিশে যেন এক হয়ে যায়।
১৭-৫-২০১৮

প্রতীক্ষা

প্রতীক্ষার চোখেও একসময় ক্লান্তি নামে
অভিমানে শুকিয়ে বোটা হতে ঝরে পরে
টুকটুকে লাল কৃষ্ণচূড়া,
পথিকের পদতলে অনুযোগহীন পিষ্ট হয়
অবহেলিত সেই প্রেম…
কোন আগন্তুক চলার পথে
আবারও ভালোবেসে কুড়িয়ে নেয়
আবেগের মনিকোঠায় ঠাঁই দেয়,
অতপরঃ ঝরা ফুলের আবিরে
বহুকালের জঙধরা ফুলদানিটিও হয় নজরকাড়া।
১৩-৫-২০২০

ফেরারি মন

আমায় ডেকো না
বেঁধো না আর ঘরে
ফেরারি পাখি হবো
উড়বো দূরে বহুদূরে।
স্বর্ণলতায় খেলবো
খাবো ফুলের মধু,
নীলাকাশে ডানা মেলে
হবো মেঘের বন্ধু।
বাতাসের সাথী হবো
পল্লব দোলাবো প্রেমে,
দিনমান মন হারাবো
সবুজের স্নিগ্ধ ঘ্রাণে।
১৩-৫-২০২০

দোহাই

কুঁড়ি থেকে মুকুলে
যৌবনে হেসেখেলে
পরিনত পুষ্পিতায়।
মুক্তির স্বাদ পেতে
সবুজ গুল্মলতায়
হলুদ স্বপ্ন সাজাই।
পঞ্চ ডানা মেলে
উড়তে মেঘের দেশে
অবাধ্য ইচ্ছায়।
নারীত্বের অপরাধে
সমাজ শেকলে বাঁধে
অযুত প্রথার দোহাই।
১২-৫-২০২০

Advertisement
উৎসAleya Armin Alow
পূর্ববর্তী নিবন্ধকবিতার নাম- কবি ! লিখেছেন- সুপ্তি জামান
পরবর্তী নিবন্ধঈদের আগের দিন করোনায় সর্বোচ্চ মৃত্যু ২৮ জন, শনাক্ত ১৫৩২

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে