কবি শিরিন আফরোজ‘এর একগুচ্ছ কবিতা

0
926
Shirin Afroz

সকলে থাকুক ভালো

নিন্ম আয়ের লোকেরা এখন
আছে ভীষণ দুখে,
কয়দিন আগেও তাদের সংসার
অল্পতে ছিল সুখে।

পারে না সহজে বলতে কিছু কাউকে
না পারে সহিতে,
রোগের ভয়াবহতা আর সংসার চালানো
কঠিন জ্বালা বহিতে।

কখন শেষ হবে জানি না কেউ
জীবন চলার এতো ভয়াবহতা,
আর কতো কঠিন থেকে কঠিন কি সামনে!
অপেক্ষায় কষ্ঠের তীব্রতা।

নি:শব্দে কান্না অন্তর জ্বালাতন
প্রভু সহায় হও,
এভাবে চলতে থাকলে দেশ কিংবা পৃথিবী
ভালো তো রবে না কেউ।

সব কিছুর তো শেষ আছে নিশ্চয়ই!
এ রোগেরও আছে হয়তো শেষ,
বেশি দেরী হলে কিভাবে কাটবে দিন
ভয় রয়েছে বেশ।

ভালো থাকি সবাই,সুস্থতা পাক পৃথিবী
প্রভু তুমি করো মার্জনা,
রোগের ভয়াবহতায় ও মৃত্যুর মিছিলে
ক্লান্ত পৃথিবী,
প্রভু করো তুমি ক্ষমা।

ভালোলাগা সৈকতে

ওই সেই দূর দূরান্তে কতদিন….
যাওয়া হয়নি,দেখা হয়নি!
রূপালী চাঁদের আলোতে,
কাঁক ডাকা ভোরে,
তোমাকে দেখার নেশা দুচোখে!
জমানো ইচ্ছেরা বলে,
দেখতে যাবো তোমায় সময় করে ,
পৃথিবী সুস্থ হলে।
ভোরে ভোরে দেখবো তোমায় ঠান্ডা
হাওয়ায় নিরিবিলিতে ,
তপ্ত বালি পায়ে মাড়িয়ে দেখবো তোমায়!
দুপুর রোদের ঝলকানিতে।
পড়ন্ত বিকেলে অল্প অল্প জলের
ছোঁয়া নিবো দু’পায়ে,
আবার কিছু সময় বসে দেখবো তোমায়!
মৃদু সমীরণ এসে ছুঁয়ে যাবে গায়ে।
সূর্য ডুবার অপেক্ষায় অপেক্ষায় তাকিয়ে
রবো তোমার পানে,
এ অপরূপ দৃশ্য দেখার নেশাতেই
বেশি বেশি মন টানে।
নীল জল আর ঢেউ মিলেমিশে
সৃষ্ট করে গর্জন ,
ধুঁয়ে মুছে নিয়ে চলে যায় যেন সব,
দু:খভরা ক্রন্দন।

ফুল

বকুল দেখবো ,শিমুল দেখবো
কৃষ্ণচুড়ায় মন ভরাবো,
সুস্থ শহর দেখার আশায় ইচ্ছে গুলো
জমিয়ে রাখবো।

কতশত বেলি দেখবো!
হাসনাহেনার গন্ধ নিবো,
সুস্থ শহর দেখবো যখন ভীষণ
খুশিতে মন ভরাবো।

রজনীগন্ধা আর গোলাপ দেখে
গাঁদা ফুল ও খুঁজে নিবো,
সুস্থ শহর দেখবো বলে বেশি বেশি
স্বপ্ন দেখবো।

গন্ধরাজ আর সন্ধ্যামালতী
খুঁজে নিবো জুঁই!
সুস্থ শহর দেখবো যখন ছাদ বাগান
করবো মন মতই।

ফুলে ফুলে কথামালায় ভালোলাগা
খুঁজে মন,
বেঁচে থাকলে দেখবো সুস্থ শহর
স্বস্থি খুঁজে পাবে জীবন।

পৃথিবীর অসুখ

স্বপ্নে ঘুরি আকাশ পানে
মেলে স্বপ্নের ভেলা,
পৃথিবীতে আসছে মহা অসুখ
ভয়ের হয়েছে মেলা।

আমরা মানব কোথায় যাব
হতাশায় ডুবে আছে মন,
বিজ্ঞানকে সাহায্য করো খোদা
ফিরিয়ে দাও শান্তির জীবন।

তুমি না চাইলে যাবে না অসুখ
সাধ্য কারো নাই,
এতো সুন্দর আকাশের নীচে
শান্তির ছোঁয়া চাই।

ঠিকানা

মেঘের দেশে নীলের বেশে
কতো মেঘের মেলা!
বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়ে মেঘ
খুশিতে ভাসায় ভেলা।

মানব মনের অহংকার গুলো
ঝরে পরুক বৃষ্টি হয়ে,
মানবিকতা আর ভালোবাসা
অন্তরে যাক বয়ে।

কার কখন আসে ওপারের ডাক
আমরা কেউ তো জানি না,
জুলুম ,নির্যাতন আর অহমিকা তো
প্রভু সহ্য করে না।

দুনিয়ায় আগমনের সময় থাকে সবার খুশি
থাকে মিষ্টি বিতরণ,
বিদায় বেলায় চোখের জলের সাথে
আতর গোলাপ চন্দন।

টাকা পয়সা ,ধন ধৌলত
যায় কিছু কবরে,
আমল ,ঈমান ও সুন্দর মন
মর্যাদা পাবে হাশরে।

কিসের এতো বাহাদুরি দস্যু জালিমপনা
সবায় একই জায়গায় যাবে,
শুদ্ধতায় মনোযোগী হলে মানবমন
সাহায্য করবে রবে।

নির্জন সবদিক

সন্ধ্যা হলে শহর জুড়ে
নিরবতার সাজ,
অন্যরকম মন খারাপে
নির্জন চারিপাশ।

ব্যস্ত শহর প্রাণ হারালো
মানুষ ঢুকলো ঘরে,
প্রয়োজনে বের হলেও মানুষ
ভয়ে ভয়ে মরে।

অলিগলি ,পাড়া ,মহল্লা
সবদিকে নিরবতা,
এমনভাবে কতোদিন চলবে
সকলের একই চিন্তা।

কিসের থেকে কি হলো
করোনা এলো দেশে,
ভয়ংকরের রাজা যেন সে
আসলো জমের বেশে।

যেখান থেকে আসছো আসো
এবার বিদায় নাও,
পৃথিবীটাকে শান্ত করো খোদা!
একটু ফিরে চাও।

তুমিই ভরসা

একি শুরু হলো মাবুদ!
দিবানিশি ভয় আর যন্ত্রণা,
কখন যে কার কি হয়ে যায়
দু:চিন্তা আর মনে নানান ভাবনা।

একের কারণে অন্যের ক্ষতি
মানতে পারছি না,
বাঁচানোর মালিক তুমি মাবুদ!
সে তো আর কাউকে মানছে না।

তাকে তুমি থামাও মাবুদ !
তোমার বান্দারা আজ নত,
গৃহবন্দী হয়েও মাবুদ!
মন ভীত,অশান্ত।

দিনের আলোয় শান্ত শহর
বাইরে ভীষণ ভয়,
কারো সাথে কেউ লাগলে হবে
করোনার সংশয়।

ধনী ধনী দেশগুলো আজ
হয়েছে দিশেহারা,
মৃত্যুর মিছিল থামাতে না পেরে তারা
নানান গবেষণায় মাতোয়ারা।

ধনী ,গরীব বুঝেনা করোনা
সবি একি তার কাছে,
আমাদেরকে বাঁচাও মাবুদ!
ফরিয়াদ তোমার কাছে।

সাহায্য করো প্রভু

বদলে গেলো পৃথিবী বিষাক্ত ছোবলে!
তাই অচেনা মনে হয়,
কোভিড নাইনটিন বদলে দিলো সব
বিশ্বকে করলো বিষাদময়।

এ দেশ ,ওদেশ অশান্তিতে সব দেশ
ঝড়ছে প্রাণ অনবরত,
বিষাদ সাগরে ডুবছে মানব মন
ক্ষমা চাই প্রভু প্রতিনিয়ত।

আযানের ধ্বনি ,ভোরের সুভাষ,
পাখির কলতান,
প্রভু শঙ্খামুক্ত করো তোমার
মায়াবী বিশ্ব জাহান।

জ্ঞান দাও প্রভু মানব মনে
তুমি দয়াবান,
মহামারী মেকাবিলায় সফলতা দাও
তুমি রহিম রহমান।

বিজ্ঞানের চেষ্টায় সাহায্য করো প্রভু
প্রতিষেধক আবিষ্কারককে,
প্রভু তুমি ক্ষমা করো,সাহায্য করো
তোমার সেরা সৃষ্টিকে।

ফিরে আসবে আলো

আধার কেঁটে আসবে আলো
মানব পাবে সজীব প্রাণ,
মুক্ত আকাশ,মুক্ত বাতাস
সবার মনে থাকবে সুঘ্রাণ।

অস্ত্রহীন যুদ্ধ চলছে এখন
সাড়া দুনিয়া জুড়ে,
ধনী ,গরীব নাই ভেদাভেদ
সবায় বন্দী হয়েছে নীড়ে।

মানব মনে নেই কোন ব্যস্ততা
জীবানুর ভয়ে ছুটি,
আলো ফিরাবে সর্বশক্তিমান
ক্ষমা করে ভূলত্রুটি।

সুবিধাবাদী ,মুখোশধারী দেশে রয়েছে
কিছু নোংরা লোক,
গরীবের সামান্য টাকা ও খাদ্যে
লোভে ভরা তাদের চোখ।

কুৎসিত মন গুলোতে আসুক
স্বচ্ছতা,শুদ্ধতা,
নিরহের হক দখল,চুরির অবসানে
মন পাক পবিত্রতা।

পৃথিবী সুস্থ হয়ে ফিরে পাক আলো
হিংসামুক্ত হউক মানবমন,
সৌহার্দ আর মানবতায় জাগ্রত হউক
সুন্দর ,সজীব হউক প্রতি প্রাণ।

তুমিই ভরসা

একি শুরু হলো মাবুদ!
দিবানিশি ভয় আর যন্ত্রণা,
কখন যে কার কি হয়ে যায়
দু:চিন্তা আর মনে নানান ভাবনা।
একের কারণে অন্যের ক্ষতি
মানতে পারছি না,
বাঁচানোর মালিক তুমি মাবুদ!
সে তো আর কাউকে মানছে না।
তাকে তুমি থামাও মাবুদ !
তোমার বান্দারা আজ নত,
গৃহবন্দী হয়েও মাবুদ!
মন ভীত,অশান্ত।
দিনের আলোয় শান্ত শহর
বাইরে ভীষণ ভয়,
কারো সাথে কেউ লাগলে হবে
করোনার সংশয়।
হাঁচি,কাশি আর জ্বর হয় বেশি
করোনা রোগের লক্ষণ,
গরম পানি,লেবু পানি ও আদা চা
করোনাকে করতে পারে কিছুটা ভক্ষণ।
ধনী ধনী দেশগুলো আজ
হয়েছে দিশেহারা,
মৃত্যুর মিছিল থামাতে না পেরে তারা
নানান গবেষণায় মাতোয়ারা।
ধনী ,গরীব বুঝেনা করোনা
সবি একি তার কাছে,
আমাদেরকে বাঁচাও মাবুদ!
ফরিয়াদ তোমার কাছে।

শান্তির পরশ বুলিয়ে দাও খোদা

পৃথিবী জুড়ে থামছে না মৃত্যুর মিছিল!
অশান্ত রাতদিন,
বিষাক্ত ভাইরাস জনেজনে ছুঁয়ে ছুঁয়ে
জীবন করে দিচ্ছে মলিন।
ভালো নাই পৃথিবী
ভালো নাই বাংলাদেশ ,
কার ভাগ্যে কি আছে
ভাবনার তো নাই শেষ।
এক দুই করে বেড়ে চলছে
দেশে করোনা রোগী,
মৃত্যুর সংখ্যাও বেড়েই যাচ্ছে
ভয়াবহ হয়ে গেলো জিন্দেগী।
অদৃশ্য জীবানু করে দিলো খোদা
তোমার সেরা সৃষ্টিকে অসহায়,
তোমার দিকে তাকিয়ে আছে মানবজাতি
দয়া করে হও তুমি সহায়।
এমন দিন দেখবো কখনো
ভাবনায়ও আসেনি,
আমরা মানুষ ঘরে বন্দী
চারিদিকে মৃত্যুর হাতছানি।
তোমার প্রিয় সৃষ্টিকে ক্ষমা করো খোদা
তুমিতো পরম করুনাময় ,
শান্তির পরশ বুলিয়ে দিয়ে পৃথিবীকে
করে দাও খোদা মায়াময়।
তোমার সেরা সৃষ্টিতো অভ্যস্ত নয় খোদা,
হয়ে থাকতে ঘরে বন্দী!
আত্মা কেঁদে মরে জীবনের আহবানে
অপারগতায় করতে চায় না সন্ধি।
জ্ঞানে বুদ্ধিতে সেরা মানবজাতি
সবিতো তোমার দান,
এ পরীক্ষায় পার করিয়ে দাও খোদা
তুমিতো রহিম রহমান।
সব ভূল ভ্রান্তির ক্ষমা করো খোদা
এই কঠিনের করো অবসান,
কৃতজ্ঞচিত্তে স্বীকার করি খোদা
তোমার সৃষ্টি দোজাহান।

Advertisement
উৎসShirin Afroz
পূর্ববর্তী নিবন্ধনিমপাতা – কবি আসাদজামানের কবিতা
পরবর্তী নিবন্ধহতভাগা সভ্যতা -কবি কাজী জুবেরী মোস্তাক‘এর কবিতা

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে