করোনা শিশুদের বিশ্রাম দিচ্ছে:- এম আসলাম লিটন

0
459
লিটন-এনকে

করোনা শিশুদের বিশ্রাম দিচ্ছে:- এম আসলাম লিটন

করোনা মারাত্মক শক্তি নিয়ে হাজির হয়েছে পৃথিবিতে। মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। প্রাণহানি ঘটছে। রক্ষে পেতে মানুষ যতটা পারছে ঘরে ঢুকছে। অনেকের পেশা, জীবিকা থেমে গেছে। উৎপাদন, যোগাযোগের চাকা থমকে দাঁড়িয়েছে।
বিপুল ক্ষতির মাঝেও কিছু তো প্রাপ্তি আছে। সবাই এক কথায় মানছে যে, প্রকৃতি সবচে বেশি উপকৃত হচ্ছে। মানুষ প্রকৃতির প্রতি যে অত্যাচার অবিচার করে আসছে, কিছুটা হলেও তা রহিত আছে। কমেছে বায়ু দুষণ, শব্দ দুষণ। এক কথায় প্রকৃতি কিছুটা হলেও বিশ্রাম পাচ্ছে।
আরেকটি দিক, বিশ্রাম পাচ্ছে আমাদের শিশুরা।
আমাদের অভিভাকরা শিশুদের নিয়ে অদ্ভুত এক ঘোড়দৌড়ে মেতে উঠেছেন। নম্বর, গ্রেড আর পজিশনের দৌড়। মেধা ও মানবিক শিক্ষাকে পদদলিত করে অর্থ উপার্জনই এই দৌড়ের একমাত্র লক্ষ। অদ্ভুত সে দৌড়! অভিভাবকরা চাবুক হাতে শিশুদের তাড়িয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছেন স্কুল, স্কুল থেকে কোচিং, কোচিং থেকে প্রাইভেট টিউশন। কাকভোর থেকে ঢুলুঢুলু চোখে ছুটতে শুরু করে শিশুরা। এই যে শুরু, আর থামা নাই। গভীর রাত পর্যন্ত! ছুটছে তো ছুটছেই। নাওয়া নাই, খাওয়া নাই। থামা নাই। বিশ্রাম নাই!! খেলা নাই। বিনোদন নাই। বন্ধু নাই। আড্ডা নাই। শখ নাই। আহ্লাদ নাই। ক্লান্তিতে নুয়ে পড়ারও সুযোগ নাই। বুকফাটা আর্তনাদ শোনার মতও কেউ নাই। সময় নাই। পড়া, পড়া আর পড়া!!
একটা শিশুর কাছে এরচে বড় শাস্তি, বড় অত্যাচার, বড় নির্যাতন আর কী হতে পারে?
অদ্ভুত এই ঘোড়দৌড় থামানোর মতও কেউ নেই।
আমরা এভাবেই ক্রমাগত হত্যা করে চলেছি আমাদের শিশুদের। হত্যা করে চলেছি আগামীর স্বপ্নমালাকে। অনাগত আগামীর সৈনিকদের। চপল, চঞ্চল শিশুরা পরিনত হচ্ছে খাঁচায় পোরা ব্রয়লার মুরগিতে। শৈশব বিপন্ন। কৈশোর বিক্ষত। যৌবন বিকারগ্রস্ত, বিভ্রান্ত, দিশেহারা। ফলাফল কী? মেধাহীন, মানবিকতাহীন, বাণিজ্যনির্ভর এক রাক্ষুষে মানবকূল উপহার পাচ্ছে পৃথিবী!
তাই বলছি করোনা আমাদের শিশুদেরও রক্ষা করেছে। স্কুল বন্ধ, কোচিং বন্ধ। চাবুক বন্ধ। ঘোড়দৌড় বন্ধ।
আমাদের শিশুরা কিছুটা হলেও বিশ্রাম নিচ্ছে। ঘুমাচ্ছে। পরিবারের আপন মানুষের কাছে নিবিড় পরিচর্যায় পড়াশুনা করছে। বাবা-মা সহ পরিবারের অন্যদের সাথে শিশু খেলছে। সময় কাটাচ্ছে। যার যা জুটছে একসাথে ভাগ করে খাচ্ছে। ছোট ছোট গৃহস্থালি কাজেও শিশুরা সহযোগিতা করছে।
কেউ হয়তো মনে করছেন, স্কুল-কোচিং বন্ধ। এতে তারা লেখাপড়ায় পিছিয়ে যাচ্ছে। যে পরিবারে শিশুদেরকে পড়ানোর মত কেউ নাই, তারা আরো পিছিয়ে যাচ্ছে। সিলেবাসের কী হবে!! পরীক্ষার কী হবে!! রেজাল্টের কী হবে!! অামার তো অনুমান, যা হবে ভালই হবে।
হ্যাঁ, কিছু সমস্যা তো হচ্ছেই। কিছু ক্ষতি তো হচ্ছেই। তাতে কী!! তাতেও শিশুদের ভাল হচ্ছে। আপাতদৃষ্টে নম্বর দৌড়ে হয়তো হেরফের হবে, কিন্তু দীর্ঘপথের বিবেচনায় শিশুদের ক্ষতির চেয়ে উপকারই হবে বেশি। কেননা বিশ্রাম ছাড়া দীর্ঘপথ দৌড়ানো যায় না। বিনোদন ছাড়া শিক্ষার ভিত মজবুত হয় না। অানন্দ ছাড়া অর্জন হয়না। হলেও ফল ভাল হয় না।

Advertisement
পূর্ববর্তী নিবন্ধঅসাম্যের নতুন হাতিয়ার, লকডাউন – ডাঃ স্থবির দাশগুপ্ত
পরবর্তী নিবন্ধনাটোরে বন্ধন সমাজ কল্যাণ সংস্থার দুস্থদের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে