গুইসাপ নিরীহ প্রাণী, এদের রক্ষা করুন- ফজলে রাব্বী

0
151

গুইসাপ খুবই নিরীহ প্রাণী৷
মানুষ দেখলে পালিয়ে যায়৷

তারা অতি উপকারী প্রাণী৷
বিষধর সাপ ও ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে আমাদের উপকার করে৷
ক্ষতিকর পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ করে ফসলের ফলন বৃদ্ধি করে৷

প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় গুইসাপের ভূমিকা অতূলনীয়৷
এরা খাদ্যশৃঙ্খলে বিশেষ ভূমিকা রাখে৷
এদের সংখ্যা হ্রাস পেলে প্রধান খাদ্য পোকামাকড়রে সংখ্যা বেড়ে যাবে, ইদুরের উৎপাত বেড়ে যাবে, অনুকূল পরিবেশ হবে বিষাক্ত সাপের৷
যা পরিবেশ ও মানুষের জন্য মোটেও সুখকর নয়৷

ফসলের জমিতে পোকামাকড় দমনের জন্য ব্যবহার করা হয় উচ্চমাত্রার কীটনাশক, ফলে অনেক উপকারী অনুজীব ধ্বংশ হয়ে যায়ও মাটির গুনাগুন নষ্ট হয়ে যায়৷ ফসলে সৃষ্টি হয় নিম্নমাত্রার বিষক্রিয়া যা মানুষকে ধীরে ধীরে ক্ষতি করে৷

অন্যদিকে গুইসাপ ও ব্যাঙ এসব কীটনাশকের চেয়ে অনে বেশি কাজ করে কোনোরূপ ক্ষতি ছাড়া৷
এরা মৃত জীবজন্তু খেয়ে পরিবেশকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখে৷

এই উপকারী প্রাণীটি আজ বিলুপ্তির পথে৷
এদের অনেক প্রজাতি হারিয়ে গেছে৷
বর্তমানে যে তিনটি টিকে আছে হয়তো কিছুদিন পর আর থাকবেনা৷

এদের বিলুপ্তির কারণ- চোরাচালান,অতিমাত্রার রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার, বনজঙ্গল ধ্বংশ ও হাওড়া বিলের পরিবেশ বিনষ্টকরা৷ এদের অধিকাংশ মারা যায় মানুষের আক্রমনে৷ খাবারের সন্ধানে যখন হানা দেয় হাঁস মুরগির ডিম ও ছানার দিকে, তখন লাঠি দিয়ে পিঠিয়ে মেরে ফেলা হয়৷

অনেক সময় লোহার তৈরী বিশেষ ফাদে শুটকি মাছ বা মৃত ছানা টোপ দিয়ে মারা হয়৷
কোন কোন উপজাতি জনগোষ্টী খাদ্যের জন্য শিকার করে৷
এভাবেই হারিয়ে যাচ্ছে উপকারী প্রাণীটি৷

গুইসাপ সংরক্ষণ করা অতি জরুরি৷ এদের শিকার ও পাঁচাররোধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে৷ জনসচেতনতা সৃষ্টি করে অবাধ শিকার বন্ধ করতে হবে৷
প্রয়োজনে টেলিভিশন ও পত্র-পত্রিকায় উপকারী প্রাণীদের রক্ষায় বিজ্ঞাপন দিতে হবে৷
প্রাণী সংরক্ষণবিরোধী বিজ্ঞাপন অনুমোদন দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে৷ সরকার, জনগন ও প্রাণী অধিকার সংরক্ষণে জড়তিদের যৌথ উদ্যোগেই সম্ভব প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষা, সতেজ থাকা প্রকৃতি ও সুন্দরের মাঝে৷
সংগৃহীত।

Pc: Fazley Rabbyঞ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে