গ্রাম্য মহাজনের মাসিক সুদের হার ৪০%..দেখার কেউ নেই??- ছাত্রের খোলা চিঠি

0
673
Rinku

আমি গ্রাম থেকে বলছি(মাসিক সুদের হার ৪০%)

অসামাজিকতা,বৈষম্য,শোষণ,অজ্ঞতা,কুসংস্কার,পরনিন্দা,লুটপাট সুদখোর আরও অনেক কিছুই আছে যা আমি সহ্য করতে পারিনা।সামর্থ্য অনুযায়ী প্রতিবাদ ও প্রতিকার করার চেষ্টা করি।করোনা সংক্রান্ত মহামারী আমাদের মানবসমাজকে প্রতিনিয়ত চোখ রাঙাচ্ছে। আমি অন্য প্রসঙ্গে বলতে চাই যার ভয়াবহতা করোনা থেকেও কোন অংশে কম না।

ক্ষুদ্রঋণ সম্পর্কে আমরা সকলেই জানি।এটার কিছু ভালো দিক আছে তাতে কোন সন্দেহ নেই।বর্তমানে গ্রামের ৯০% পরিবার বিভিন্ন এন জি ও দ্বারা ঋণগ্রস্ত।দশ-বিশ হাজার টাকা থেকে শুরুকরে দশ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বা কোন-কোন ক্ষেত্রে তার চেয়েও বেশি টাকা বিভিন্ন মেয়াদে এই ঋন গ্রহীতা রয়েছে।

সাপ্তাহিক বা মাসিক কিস্তিতে উক্ত ঋণ পরিশোধ করতে হয়।ঋণগ্রহীতাদের কোন প্রকার জামানত বা অন্যান্য জটিলতা না থাকায় অতি সহজেই ঋণ পেয়ে যাচ্ছে। ফলে সাধারণত প্রয়োজনেও গ্রামের অসহায় মানুষ এই ঋণের ফাঁদে পা দিচ্ছে। আর একবার যে এই ফাঁদে পা দিচ্ছে সে বা তার পরিবার নিঃস্ব হতে বাধ্য হচ্ছে। নগদ টাকা হাতে পেয়ে দ্রুত শেষ হয়।সীমিত আয় দিয়ে কিস্তির টাকা পরিশোধ করা সম্ভব হয়না।প্রতি সপ্তাহের কিস্তি পরিশোধ করতে না পারলে বাড়ির গরু, ছাগল,হাঁস-মুরগি এমনকি ঘরের টিন পর্যন্ত নিয়ে যায় এই সকল রক্তচোষা এনজিও গুলো।

মাসিক ৪০% সুদের হার সম্পর্কে লিখছি।সাপ্তাহিক কিস্তির টাকা জোগাড় করতে না পেরে অপমান -বঞ্চনার হাত থেকে বাঁচার জন্য অনেকেই অন্যের কাছে হাত পাতে ধারের জন্য।কিন্তু বাস্তবতা বড়ই কঠিন। গ্রামে আর কেউ কাউকে ধারে টাকা দেয়না।লোকটি তখন অসহায় হয়ে পড়ে।এই অসহায়ত্বের সুযোগ নেয় আরেক দল রক্তচোষা।যাদের সুদের ব্যবসায়ী বলা হয়(গ্রামের কিছু লোভী সুদখোর)।তাদের সুদের পদ্ধতি ভিন্ন ও অভিনব।সপ্তাহে একহাজার টাকায় একশত টাকা সুদ নেয়।একহাজার টাকায় মাসে চারশত টাকা সুদ দিতে হয়।যার মাসিক সুদের হার দাঁড়ায় ৪০%।অবাক হচ্ছেন?ভাবছেন এটও কি সম্ভব! হ্যাঁ এটা সম্ভব। এটা বাংলাদেশের প্রত্যেকটা গ্রামের অসহায় মানুষের মরণ ফাঁদ।এখানে একবার যে প্রবেশ করবে তার পরিনতি হয় নিস্ব হয়ে গ্রাম থেকে পালাবে না হয় ঋণ পরিশোধের জন্য কিডনি বিক্রি করবে।সাধারণত মানুষ যে কতটা অসহায় সেটা বুঝতে হলে গ্রামে আসতে হবে।জানতে হবে।শুধু আমলা মন্ত্রীই মানুষ না,অসহায় মানুষের কথা লিখুন।এইসকল সমস্যার প্রতিকার খুঁজুন।

—রিংকু—
২০/০৫/২০
সোবাদাঁইড়,নাটোর।

Advertisement
পূর্ববর্তী নিবন্ধচাইছি ধার ভালবাসা- – রুদ্র অয়নের কবিতা
পরবর্তী নিবন্ধকরোনা ভাইরাসে মৃতের দাফন করবে ‘জাগো বাহে কোনঠে সবায়’ সংগঠন

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে