চন্দন গাছ ও একজন কালীদা

0
149
Chhanda Das

ছন্দা দাশ : জগতে কতো অদ্ভুত সব জীবন নিয়ে বেঁচে আছে মানুষ কে তার খবর রাখে! যে যার জীবন নিয়ে ব্যস্ত। পাওয়া না পাওয়ার হিসেবেই দিন কেটে যায়। শেষ জীবনে এসে ভাবে বড়ো ভুল হয়ে গেছে। সবই যে নিরর্থক কাজ। এদের মধ্যেও দু একজন ছিটকে আসে যেন অন্য গ্রহ থেকে।

এরা যেন আসেই অন্যের জন্য। অন্যের কল্যাণে। কালীদা এরকমই একজন মানুষ। দেখলেই ভালো লেগে যায় ধরনের। বিয়ে থা করেন নি। একাই থাকেন ভাড়া করা তিন রুমের বড় ফ্ল্যাটে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ছাত্র পড়ান। আর সবাই জানে কালীদার কাছে পড়া মানেই এ+ তার কপালে বাঁধা।

তাই বলে যে উনি বেছে বেছে ভালো ছাত্রদের পড়ান তা কিন্তু না। শুনেছি উনি শুধু দেখতেন পড়ার প্রতি কার কতোটুকু অনুরাগ। কালীদার শিক্ষাগত যোগ্যতা কতটুকু তা নিয়ে বিভিন্ন জনের মুখে বিভিন্ন রকম কথা শুনেছি।

কালীদা কারো সাথে তেমন মিশতেও দেখিনি। ঐ ছাত্র আর বই। এছাড়া যেন তাঁর জীবনে আর কিছু নেই। শুধু কি পড়া ? কে কোন বিষয়ে পড়লে সফল হবে আর তার জন্য কি করতে হবে, কী তার দরকার সব কালীদাই ঠিক করে দিতেন।আর তাঁর নির্দেশিত পথে যেই হেঁটেছে সেই অভীষ্ট লক্ষ্যে

পৌঁছে চুড়ান্ত সাফল্য অর্জন করেছে। কালীদার সব আনন্দ যেন অন্যের সন্তানকে সফল হতে দেখা। বছরের পর বছর এমনিভাবেই তাঁর দিন কেটে গেছে একা একটা জীবন নিয়ে। ঠিকমতো নাওয়া নেই, রান্না নেই, রোগে ওষুধ নেই, সেবা নেই।

নিজেকে নিয়ে ভাববার অবসরই বা তাঁর কোথায়! তাই হয়তো দুঃখ বা হতাশা তাঁর কাছে ঘেঁষবার সাহসও দেখায় না। কেউ কেউ বলে কালীদা অন্যকে মানুষ করছে অথচ নিজে কেন এভাবে অখ্যাত,অশ্রুত হয়ে জীবন কাটাচ্ছে। আমি ভাবছি সেই বোধ যদি সবার থাকতো তবে সবাই যে কালীদা হয়ে যেত।

শুধু আমার মধ্যে যে ভাবনার বিস্ময়, এতো এতো ছেলেমেয়েদের নক্ষত্র বানিয়ে চলেছেন কালীদা, তাদের মধ্যে একজনেরও কী কখনও কালীদা হতে ইচ্ছে হয়নি? নিজেকে তিল তিল করে ছড়িয়ে দেওয়ার মহানুভবতা বোধহয় কঠিন।

এ শিক্ষা কেউ কাউকে দিতে পারে না। এ নিজের ভেতরে জন্মাতে হয়। যেমন একটি চন্দন গাছের সুরভিতে সমস্ত বৃক্ষ সুবাসিত হলেও চন্দন গাছ হওয়া দুঃসাধ্য। কালীদা সেই চন্দন গাছের মতো বিরল এক সৃষ্টি।

০২/০১/২০২২

Advertisement
পূর্ববর্তী নিবন্ধকোথাও গেলে না তো? -কবি চন্দনা রায় চক্রবর্তী‘এর কবিতা
পরবর্তী নিবন্ধএকাকীত্ব -কবি হেমা পাল বর্ধন‘এর কবিতা

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে