চাকুরি করি এবং গর্ববোধ করি – আনিফ রুবেদ

0
21

চাকুরি করি এবং গর্ববোধ করি – আনিফ রুবেদ

জগতে মানুষ দুরকম। দাস আর মালিক। দাশ পঁচানব্বইটা আর মালিক পাঁচটা। পাঁচটা মানুষের জন্য বাকি পঁচানব্বইটা মানুষ দিনরাত খেটে চলেছে। খাটতে বাধ্য হচ্ছে।
চাকরি মানুষ করে মূলত পেটের দায়ে। মানুষ একটা জীব এবং এ জীবের মধ্যে আরো জীব বাস করে। মানুষজীবের শরীরে পেট আলাদা একটা জীব। মানুষ ইচ্ছে করলেই এ পেটজীবকে কয়েক সপ্তাহ খাদ্যকর না দিয়ে থাকতে পারবে না। একইভাবে মানুষজীবের শরীরে থাকা নাক আরো একটা জীব। ইচ্ছে করলেই কোনো মানুষ বেশকিছু মিনিট অক্সিজেনকর না দিয়ে থাকতে পারবে না। কিন্তু নাকজীবের কর মানুষ বাতাস থেকে বিনামূল্যে সংগ্রহ করতে পারে। খাবারকর এতো সহজে সংগ্রহ করতে পারে না। নানা ফিকির করতে হয়। চাকরি একটা ফিকির। এটা গর্বের কিছু নয়।
চাকরি (মানসিক এবং শারীরিক সকল শ্রম) করে পঁচানব্বইভাগ মানুষ। এটা মূলত বাকি পাঁচভাগের সুখকে জিইয়ে রাখার শ্রম।
একজন মাত্র জমিদার যদি হয় তবে তার সুখ বিধান করার জন্য হাজার খানেক লোক সরাসরি যুক্ত থাকে। কেউ পা টেপনকারী হিসেবে, কেউ বউ হিসেবে, কেউ রক্ষিতা হিসেবে, রান্নাকর হিসেবে, বাতাসকারক হিসেবে। এমন বলে শেষ করা যাবে না। কেউ যদি এসবের মধ্যে সরাসরি যুক্তও না হয় এবং সে যদি ঐ পাঁচভাগের মধ্যে না পড়ে তবে তার কাছে থেকে ঐ জমিদার সর্বনিম্ন যে সুখটা পায় সেটা হলো, সে ছোটলোক, আমি বড়লোক।
বর্তমানে জমিদারের জায়গা দখল করে আছে কর্পোরেট কোম্পানির মালিকেরা, শাসনের ছলে শোষণকারী নেতারা। এদের মিশন সাকসেস করতে, সুখ বিধান করতে বাকিসব মানুষ প্রাণপণে শ্রম দিচ্ছে শুধু কোনোরকমে টিকে থাকার জন্য।
চাকরি করে ছোটলোক। এদের কাজ বড়লোকদের মিশন সম্পূর্ণ করার জোয়ালে গবাদিপশুর মতো জুড়ে যাওয়া শুধু।
এটা নিয়ে গর্ব করার কিছু নাই। গর্ব করার নেই তাদেরও যারা ঐ পাঁচভাগের ভেতর পড়ে এবং মানুষকে শোষণ করে। তারা তাদের শোষকত্ব দিয়ে নিজেদের ভেতরের মানুষকে শোষণ করে নেয় আরো আগেই।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে