চিন্তার দৈন্যতা দূর না হলে মুক্তি নেই- আবরার শাঈর

0
71

চিন্তার দৈন্যতা দূর না হলে মুক্তি নেই- আবরার শাঈর

স্কুলের গন্ডি না পেরুতেই মেধাবি বন্ধুটি ফলের দোকান নিয়ে বসলো উপজেলা শহরে। শিকেয় উঠলো পড়াশোনা, কারণ তার বাবা হঠাৎ মারা গেলেন। অন্যদিকে কলেজ পর্যন্ত টপে থাকা বন্ধুটি ২বার চেষ্টা করেও কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেলোনা। এখন সে একটি এনজিওতে চাকরি করে। যে ছেলেটি এসএসসিতে ২ বার ফেল করলো একাধিক বিষয়ে, রাগ করে পড়া ছেড়ে সে কৃষি কাজে মন দিলো। অন্যের জমি লিজ নিয়ে এখন সে লাখপতি।

না এসব রূপকথা নয় এটি জীবনেরই বাস্তবতা। প্রতিষ্ঠানের কোয়ালিটি কন্ট্রোল বিভাগের মতো মানব সম্পদও কিউসি পাশ হয়ে চাকরির বাজারে আসে এবং টিকে থাকে। ফলে নব্বইয়ের দশকের বাবা মায়ের চূড়ান্ত চাহিদা সন্তানকে ডাক্তার ও ইঞ্জিনিয়ার বানানো চেষ্টা অধিকাংশই বৃথা। এমনও দুজনের সাথে আমার জানাশোনা আছে যারা রুয়েট থেকে পাশ করে ছোট্ট একটা ব্যবসা করেন, অন্যজন রামেক থেকে এমবিবিএস ডিগ্রী নিয়ে চালান কোচিং। দেশের প্রেক্ষাপটে আমরা চাকরিকে এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছি যে এটা বাদে অন্য কোন কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করলে পরিবার বা গ্রামবাসী তাকে আর দশজনের সাথে আলাদা করতে পারেনা।

আজ জাতীয় দৈনিকে মোটরবাইক রাইডার সজীবের কাহিনী পড়ে যার পর নাই আমি বিস্মিত হয়েছি। আমাদের পরিবার, আমাদের সমাজ আমাদের চিন্তাকে কোন পর্যায়ে নিয়ে গেছে যে চাকরি বাদ দিয়ে সে উবার, পাঠাও এর রাইডার হলে ছবি গণমাধ্যমে দিতে লজ্জাবোধ করে। এখানে কারণ শুধু একটাই “লোকে কি বলবে?” গ্রামে তার ইমেজ নষ্ট হবে। সৎ পথে আয় করা প্রতিটি মানুষেরই গর্বের সাথে তার পেশার পরিচয় দেয়া উচিৎ। তবে না, আমরা এর ভাগ করে রেখেছি- বিসিএস দিয়ে সরকারি চাকুরিরত রা এক কাতারে, ইঞ্জিনিয়ার রা এক কাতারে, ডাক্তার রা এক কাতারে, সরকারি কার্যালয়ে চাকুরিরত পিওন, আরদালি, মুদ্রাক্ষরিকরা এক কাতারে। বেসরকারি চাকুরিজীবীরা এক কাতারে। বড় ব্যবসায়ী না হলে ছোটদের কোন কাতার নেই।

বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও পাশ করা উদ্যোক্তা কৃষিজীবীদেরও কোন কাতার নেই। এ অবস্থায় শুধু কাতারে ওঠার জন্য এই মুহূর্তে দেশে কতো যুবক যুবতী চেষ্টা করে যাচ্ছে একবারও ভেবেছেন। এদের মধ্যে কতো জন বিষণ্নতায় ভুগছে, কতোজন নিজের জীবন শেষ করে দিচ্ছে একবারও ভেবেছেন। এতো কিছুর পরও যদি কেউ খুড়িয়ে খুড়িয়ে সারা জীবন কাতারে ওঠার চেষ্টা করতেই থাকেন। তাকে সাদরে গ্রহণ করুন। চিন্তার দৈন্যতা দূর না হলে তা সম্ভব নয়। এরপরও সজীবেরা টিকে থাকবে, পুরো ঢাকা শহরে মুখ ঢেকে মোটরসাইকেলে যাত্রী বহন করবে। আবার গ্রামে গেলে বাবা মা আত্মীয় স্বজনের কাছে কর্পোরেট জবের চটকদার গল্প শোনাবে। ক্লান্ত শরীরে বাড়ি ফিরে শক্ত বিছানায় আধোঘুমে সে গল্প বুনবে…

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে