টাউট কাকে বলে?- রেজাউল করিম খান

0
913
Rezaul

টাউট কাকে বলে?- রেজাউল করিম খান

বিনীতভাবে স্বীকার করছি, আইন সম্পর্কে আমার ধারণা খুবই কম। তারপরও আইন তো কাউকে ছাড়ে না। আর তাই আইনকে পাশ কাটিয়ে বা বিধান না মেনে কার্যোদ্ধারের জন্য অধিকতর অজ্ঞদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসে একশ্রেণির মানুষ। তাদেরই অনেকে টাউট হিসেবে পরিচিত। তবে অনেককে তদবিরকারকও বলা হয়। এক্ষেত্রে যাতে ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি না হয়, তার জন্য আগেই বলে নেয়া ভালো যে, মন্ত্রী, এমপি, সরকারি কর্মকর্তা, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতা এই শ্রেণিতে পড়েন না ! যেহেতেু আমি নিজেই একাধিকবার টাউটের খপ্পরে পড়েছি, সেই কারণেই এই লেখার অবতারণা।
টাউট আইন
ধারা-১ ( সংক্ষিপ্ত শিরোনাম, প্রারম্ভ, স্থানীয় সীমা ) এই আইনকে ১৮৭৯ সনের টাউট আইন নামে অভিহিত করা যাইতে পারে, এবং ইহা ১৮৮০ সনের ১লা জানুয়ারি তারিখে বলবত হইবে । অতঃপর (ইহা সমগ্র বাংলাদেশে প্রযোজ্য!)
”টাউট” বলিতে এইরূপ ব্যক্তিকে বুঝাইবে-
(ক) যেকোনো আইন পেশাধারীর নিকট হইতে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে যেকোনো আইন ব্যবসায় কোনো আইন পেশাধারীর কর্ম সংগ্রহ করে, অথবা যেকোনো আইন পেশাধারী কিংবা কোনো আইন ব্যবসায় স্বার্থসম্পন্ন ব্যক্তির নিকট তাহাদের যেকোনো একজনের নিকট হইতে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে আইন পেশাধারীর কর্ম সংগ্রহ করার প্রস্তাব দেয়; অথবা
(খ) যে এইরূপ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে দেওয়ানী, ফৌজদারী অথবা রাজস্ব আদালতের পরিপার্শ্বে অথবা রেল স্টেশনে; জাহাজের যাত্রী উঠানামার মঞ্চে অস্থায়ী বাসস্থানে বা জনসাধারণের আশ্রয়ের অন্যান্য স্থানে ঘন ঘন আসা-যাওয়া করে; অথবা
(গ) যে, ৩৬-ক ধারার বিধানের অধীনে এই আইনের উদ্দেশ্যে হাইকোর্ট ডিভিশন বা ক্ষেত্রমত প্রধান রাজস্ব নিয়ন্ত্রণকারী কতৃর্পক্ষ কতৃর্ক প্রণীত বিধিমালা অনুসারে আউট হিসাবে গণ্য মর্মে ঘোষিত ।
আইনজীবী আর টাউট যেন পাশাপাশি চলে। যেখানেই আইনজীবী সেখানেই যেন টাউটের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। বাংলাদেশ বার কাউন্সিল প্রফেশনাল কন্ডাক্ট অ্যান্ড এটিকেট এর চ্যাপ্টার ১ এর ৩ নং দফায় টাউট রাখা, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে টাউট পালন করা, টাউটের কাজে কাউকে নিয়োগ করা, টাউটের কাজে কাউকে উৎসাহিত করাকে প্রফেশনাল মিসকন্ডাক্ট হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এই অপরাধের জন্য আইনজীবী লাইসেন্স বাতিল করার ব্যাবস্থা পর্যন্ত রাখা হয়েছে।
থানা, লঞ্চ, রেল, বাস ষ্টেশন। রাজস্ব অফিস থেকে জেলা প্রশাসকের অফিস। সহকারী কমিশনার ভূমি থেকে রেজিষ্ট্রি অফিস। নিম্ন আদালত থেকে উচ্চ আদালত। দেওয়ানী, ফৌজদারি, রিট। এমন কোন জায়গা নেই যে সেখানে টাউট নেই। কেন এরা থাকতে পারছে তা সকলের জানা। কিভাবে এদের নির্মূল করা যায় তাও সকলের জানা।
এই আইনের ৩৬ ধারা অনুসারে, সুপ্রিম কোর্ট, জেলা জজ, দায়রা জজ, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং কালেক্টরের নিচে নন এ রকম রাজস্ব কর্মকর্তা প্রত্যেকেই তাঁদের বা নিজ নিজ আদালতের এবং তাঁর অধস্তন আদালত থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে টাউটদের তালিকা তৈরি করতে পারেন। যেসব ব্যক্তি অভ্যাসগতভাবে ‘টাউট’ হিসেবে কাজ করে মর্মে তথ্য রয়েছে, এ তালিকায় তাদের নামই স্থান পাবে। তবে সমাজকর্মী ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলের নেতারা এই তালিকায় পড়েন না।
সম্প্রতি অর্থাৎ ২০১৮ সালের ৫ এপ্রিরল সাতক্ষীরা আইনজীবী সমিতি ২১ জন শিক্ষানবিস আইনজীবীর নাম টাউট তালিাকাভুক্ত করে আদালতে দাখিল করেন। এটি ব্যতিক্রম।
আবার ভিন্ন চিত্রও দেখা যায়। ধরুন, আমি এক বা একাধিক অসহায় হতদরিদ্র মানুষকে নিয়ে কোনও সরকারি অফিসে গেলাম বিষয়টি বোঝানোর জন্য। তো প্রথমেই তিনি আমাকে টাউট ভেবে নেন। কিন্তু বিশেষ পরিচয়ের কারণে আমার কাছে টাকা-পয়সার কথাও বলতে পারেন না। ফলে কাজটি আর হয় না অথবা বিলম্বিত হয়। ওদের কাছে আমি অকর্মা হিসেবে গণ্য হই।

Advertisement
পূর্ববর্তী নিবন্ধশ্রীচৈতন্যের কৃষ্ণপ্রেম – স্বকৃত নোমান
পরবর্তী নিবন্ধগুরুদাসপুর ও বড়াইগ্রামে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে দুস্থদের জন্য সামগ্রী হস্তান্তর আশার

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে