“নদীর এপার কহে ছাড়িয়া নিশ্বাস, ওপারেতে স্বর্গসুখ আমার বিশ্বাস” -মনিমূল হক

0
640
www.natorekantho.com

জনাব মনিমূল হক, তিনি নাটোর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের একজন সরকারী কর্মকর্তা ছিলেন। অবসরের পর বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন। সেখানকার শীতের তীব্রতা  নিয়ে নিজের ফেসবুক ওয়ালে  “নদীর এপার কহে ছাড়িয়া নিশ্বাস, ওপারেতে স্বর্গসুখ আমার বিশ্বাস”শিরোনামে তুলে ধরেছেন আদ্যপান্ত। নাটোর কন্ঠের পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো।

মনিমূল হক : গত এক সপ্তাহে বাংলাদেশ থেকে বিশেষ করে নাটোর থেকে যত জনের সাথে মোবাইলে কথা হয়েছে তাদের অধিকাংশই কুশল বিনিময়ের আগে সেখানকার কড়া শীতের বর্ণনা দিচ্ছেন। একজন তো জরুরী কথা বলার জন্য অস্থির হলেন, কিন্তু ভুমিকা শুরু করলেন শীতের তীব্রতা নিয়ে।

এরপর জরুরী কথাটি মনেই করতে পারলেন না। শীতের এ ভয়াবহতার অস্থিরতা দেখে ছোটবেলার সেই ভাবসম্প্রসারন উদিত হলো মনে, যেটি লেখার বিষয়ে বলেছি। এবার আমি আমার অবস্থান থেকে এখানকার শীতের একটু বর্ণনা সবিনয়ে বলতে চাই।

গত ১৫ দিন থেকে ওয়াশিংটন ষ্টেটস-এ বরফ পড়া শুরু হয়েছে। চলবে আগামী দুই মাসের অধিক। এক রাতে মাঠ-ঘাট-রাস্তা সবকিছু বরফে সাদা। বরফের উচ্চতা প্রায় এক ফিট। এখনো শক্ত হয়নি। চোরাবালির মত পা দেবে যাচ্ছে। চারিদিকের পরিবেশ এতো সাদা যে,থুতু ফেললেও তার রং রক্তের মত লাল দেখাচ্ছে। প্রকৃতির কি বিভ্রম। সুর্যের কোন দেখা নাই। কবে দেখা মিলবে তাও অজানা।

বরফ আর মেঘে প্রকৃতি বিবর্ণ রুপ ধারণ করেছে। মনে হচ্ছে এখনই বোধহয় দুনিয়া ভেঙ্গে ঝড় উঠবে। যেরাতে বরফ পড়ে সেরাতে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি হয়। সাথে থাকে বাতাস। বিশেষ জ্যাকেট ও জুতা পরে বাইরে বেরোতো হয়। শুধু চোখ খোলা থাকে। শীতের তীব্রতায় সে চোখ দিয়ে ঝরঝর করে পানি পড়তে থাকে। হয়তো আরো এক সপ্তাহ পরে সুর্যের ক্ষীন দেখা মিলবে। কিন্তু কোন উত্তাপ থাকবে না।

এসময় সুর্যে আলট্রা ভালোলেট থাকবে উচ্চ মাত্রায়। সাদা মানুষের কোন অসুবিধা না হলেও আমাদের মত কালো দেশের মানুষেরা সুর্য থেকে ভিটামিন ”ডি” নিতে পারবে না। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাবে। মনের কোনে জমবে মেঘমালার মত ডিপ্রেশন। এ অবস্থায় আপনাকে উচ্চমাত্রার ভিটামিন ”ডি” খেতে হবে। যারা এখানে নতুন আসেন তারা প্রথমদিকে বুঝে উঠতে পারেন না। তাই ডিসেম্বর মাস আসলেই কান্নাকাটি করে ছেলেমেয়ে ফেলে নিজ দেশে পলায়নপর হন। তবে এটি স্থায়ী হয় না।

সময়ের সাথে সাথে প্রকৃতি হয়তো আপনাকে খাপ খাইয়ে নেয়। আমিও সেই পর্যায়ের একজন। আমার সকালের হাটাঁহাটিও চলছে কিন্তু বরফের মধ্যেই। যে ছবিটি দেখছেন সেটি আজ সকালের। দেখলাম,স্কুলের বাচ্চারাও মাঠে বরফ দিয়ে মানুষ বানাচ্ছে। গাছের ছোট ছোট পাতা দিয়ে সে বানানো মানুষের চোখমুখ বানিয়ে তার সাথে খুনসুটি করছে। জীবন চলেছে স্বাভাবিক।

আর এ আনন্দের সবকিছুকে ম্লান করে এই হাড়কাপানি শীতের মধ্যেই বাইরে কাজ করছে বাংলাদেশ থেকে আসা শ্রমজীবী মানুষ। আর যারা অবৈধভাবে আছেন তাদের করুন ইতিহাস নাইবা বললাম। স্বপ্নের দেশে এ- যেন একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ………….

— Spokane, Washington এ।

Advertisement
পূর্ববর্তী নিবন্ধ“অসঙ্গতি” – সোহেল রানা শুভ’র কবিতা
পরবর্তী নিবন্ধ“আজ আমার বাবার ১৮তম মৃত্যু বার্ষিকী”- নাসিম উদ্দিন নাসিম

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে