নাটোরের গ্রীনভ্যালী পার্কে উপচে পড়া ভিড়

0
39
গ্রীনভ্যালী পার্ক

নাটোর কন্ঠ : নাটোরের লালপুর উপজেলার গ্রীনভ্যালী পার্কে নানা বয়সের মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিশু-কিশোরসহ পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীর উপস্থিতি অনেক বেশি।

সকালে দর্শনার্থীর সংখ্যা কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিতিও বাড়তে থাকে। দুপুরের দিকে টিকিট কাউন্টারগুলোতে দীর্ঘ লাইন। সবচেয়ে বেশি শিশু-কিশোর এবং তাদের সঙ্গে আসা অভিভাবকরা।

পার্ক কতৃপক্ষ জানায়, ৩৮ জন পরিচালকের সম্মিলিত উদ্যোগে ২০১৯ সালের ২৫ জানুয়ারি উদ্বোধন হয় গ্রীন ভ্যালী পার্ক লিঃ। প্রায় ৪০ একর জমির ওপরে প্রতিষ্ঠিত সবুজেঘেরা অপরুপ সুন্দর্য, নয়নাভিরাম লেক, ঝর্ণা, মনোরম পরিবেশ, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যেমন্ডিত পার্কটি যেন সৌন্দর্যের লীলাভূমিতে পরিনত হয়েছে।

তাইতো প্রতিদিনই এই অপরুপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে পরিবার পরিজন নিয়ে হাজারো মানুষ সবুজ সৌন্দর্যের লীলাভূমি খ্যাত গ্রিনভ্যালি পার্কটিতে আসছেন। শহরের যান্ত্রিকতার একঘেঁয়েমি থেকে প্রকৃতির কাছাকাছি কোলাহলমুক্ত পরিবেশে সময় কাটাতে লোকজন প্রতিনিয়ত ছুটে আসছেন এখানে।

দেশের বিভিন্নস্থান থেকে দলে দলে বিনোদন প্রেমীরা পার্কে আসছেন। বিনোদনপ্রেমীদের ভীড় চোখে পড়ার মতো। স্পীডবোট, প্যাডেল বোট, বুলেট ট্রেন, মিনি ট্রেন, নাগরদোলা, পাইরেট শীপ, ম্যারিগোরাউন্ড, হানি সুইংসহ বিভিন্ন রাইডের আনন্দে মাতে আগতো দর্শনার্থীরা।

গ্রীনভ্যালী পার্ক

এ সময় পার্কে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী আনিকা ইসলাম বলেন, ‘উত্তরবঙ্গের মধ্যে সর্বচেষ্ট পার্ক গ্রিনভ্যালি। গ্রিনভ্যালি নামের সঙ্গে পার্কটির মিল রয়েছে। আমি জীবনে অনেক পার্ক ঘুরেছি এতো সুন্দর মনোরম পরিবেশর নয়নভীরাম পার্ক আর দেখিনি। আগামীতে আমি আবারো আসবে।’

পরিবারসহ ঘুরতে আসা আরেক দর্শনার্থী আব্দুর রশিদ মাস্টার বলেন, সবুজে ঘেরা পার্কটি অত্যান্ত মনোরোম পরিবেশ আমার ভীষন ভালো লেগেছে। স্বপ্নপুরীর চেয়েও অনেক ভালো লেগেছে। পার্কটির ওয়েবপুলে গোসল করে সবচেয়ে বেশি মজা পেয়েছি।

পার্কের পরিচালক প্রশাসন শামসুজ্জোহা বলেন, দেশের উষ্ণতম ও সর্বনিম্ন বৃষ্টিপাত এলাকা হিসেবে দেশবাসীর নিকট পরিচিত লালপুর। তার সাথে আরেকটি মাত্রা যোগ হয়েছে গ্রীনভ্যালী পার্ক।

পার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নুরীয়া পারভীন বলেন, ‘জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পর্যটনের জগতে লালপুরকে প্রতিষ্ঠা করার প্রয়াসই গ্রীনভ্যালী পার্ক লিমিটেড। পার্কের লভ্যাংশের সিংহভাগ ব্যয় হবে সমাজকল্যাণ মূলক কর্মকান্ডে। পর্যায়ক্রমে প্রতিষ্ঠা করা হবে আন্তর্জাতিক মানের বিদ্যালয়, শিশু পরিবার, বৃদ্ধাশ্রম ও হাসপাতাল প্রভৃতি।’

পার্কটির জনসংযোগ কর্মকর্তা এএম রায়হান বলেন, ‘সবুজে ঘেরা পার্কটিতে স্পীডবোট, প্যাডেল বোট, বুলেট ট্রেন, মিনি ট্রেন, নাগরদোলা, পাইরেট শীপ, ম্যারিগোরাউন্ড, হানি সুইং, পিকনিক স্পট, শ্যুটিং স্পট, এ্যাডভেঞ্চার রাইডস, কনসার্ট এন্ড প্লে-গ্রাউন্ড, নিজস্ব বিদ্যুৎ সুবিধা, নামাজের সু-ব্যবস্থা-

সিকিউরিটি সার্ভিসের ব্যবস্থা, ডেকোরেটর সুবিধা, গাড়ি পার্কিং ব্যবস্থা, ক্যাফেটেরিয়া, শপ কর্ণার, সভা-সেমিনার এর জায়গা, আবাসিক ব্যবস্থাসহ নানা ধরনের সুবিধা রয়েছে। এই কারনে পার্কটি নির্মল ও সবুজে ঘেরা পরিবেশে বিনোদনের অনন্য স্থান হিসেবে ইতিমধ্যেই দেশবাসী কাছে সুপরিচিত হয়েছে।’

Advertisement
পূর্ববর্তী নিবন্ধমাদকদ্রব্যের অপব্যবহার রোধকল্পে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা সভা
পরবর্তী নিবন্ধনাটোরের সিংড়ায় আইটি হাই-টেক পার্ক’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন 

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে