নাটোরে আজো ৩ জন করোনা আক্রান্ত, ভায়াবহ অবস্থার দিকে নাটোর

0
3250
Natore-

নাটোরকন্ঠ: আজো নাটোরে ৩ জন করোনা আক্রান্ত হবার খবর এসেছে। নাটোরের সিভিল সার্জনের কাছে ফোনে ও মেইলে ফলাফল জানানো হয়েছে। ৩ জনের পজেটিভ এসেছে বলে সিভিল সার্জন কাজী মিজনুর রহমান নিশ্চিত করেছেন। আক্রান্তদের মধ্যে একজন নাটোর সদর উপজেলার মাদ্রসামোড় এলাকার, তার বয়স ৫০ বছর অপর ২ জন ব্যাক্তির বাড়ি বড়াইগ্রাম উপজেলায়, এদের একজনের বয়স ২৫ অপরজনের ৩০ বছর। এরই মধ্যে আক্রান্ত ব্যাক্তির বাড়ি লকডাউন করার সকল ব্যাবস্থা গ্রহন করা হয়েছে বলেও জানান সিভিল সার্জন কাজী মিজনুর রহমান।

এদিকে নাটোরে ক্রমেই ভয়ংকর দিকে এগুচ্ছে করোনায়  আক্রান্তের সংখ্যা। এপ্রিল মাসের ২৭ তারিখ পর্যন্ত নাটোরে কোন করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি ছিলেন না। প্রথমে ২৮ এপ্রিল নাটোরে ৮জন করোনা শনাক্ত হয়। এই ৮জনের মধ্যে করোনা শনাক্তের আগেই একজন মৃত্যু বরণ করেন।এরপরপর ১৮ মে সব থেকে বেশী সংখ্যক মানুষ করোনায় আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হন।এদিন ১৯জন পুলিশ সদস্য ও একজন আনসার ব্যাটেলিয়ান সদস্যসহ ৩০জন  করোনায় আক্রান্ত হন।এররপর গত ২০ মে আক্রান্ত হন ৫জন। এরপর ক্রমাগত বাড়তে বাড়তে সংখ্যাটি ৬৪ জনে এসে দাড়িয়েছে।

অবশ্য সিভিল সার্জনের হিসেব মতে নাটোরে আক্রান্তের সংখ্যা ৬৩ জন।কিন্তু লালপুরের একজন চারঘাটে নুমনা দিয়ে করোনা পজেটিভ শানক্ত হলেও তাকে নাটোরের হিসেবে ধরা হয়নি।নাটোরের জেলা পুলিশ ও সিভিল সার্জন অফিস সুত্রে জানান, হোম কোয়ারেন্টিনের মাধ্যমে প্রবাসীদের কঠোরভাবে মনিটিরং করায় নাটোরে করোনা সংক্রমন ঠেকানো সম্ভব হয়েছিল।

এছাড়া অন্য জেলা থেকে যাতে কেউ নাটোরে আসতে না পারে সেজন্য জেলার প্রবেশ মুখগুলোতে পুলিশ পাহারা জোরদার করেছিলেন পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা।বিপত্তি ঘটে তখনই যখন ঢাকা,গাজীপুর ও নায়নগঞ্জের শিল্প কারখানা গুলো বন্ধ করে দেয়া হয়।ফলে স্রোতের মত লোক নাটোরে ঢুকতে থাকে।এরপর আবার কারখানা চালুর কথা বলে ঢাকা ,নারায়নগঞ্জ ও গাজীপুরে ডেকে নিয়ে পুনরায় বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়।আবার ঈদের আগে কিছু লোক করোনা হট স্পট হিসেবে পরিচিত ঢাকা নায়নগঞ্জ গাজীপর থেকে নাটোরে আসেন।

এখন বেশীরভাগই তাদের মধ্যে থেকে করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হচ্ছেন।সর্বশেষ বুধবার রাতে যে দুজন করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়েছেন তারা ঢাকা থেকে এসেছিলেন ।নমুনা দিয়ে আবার ঢাকায় ফিরে গেছেন।ফলে নাটোরের মানুষের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা।জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিগণ স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার কথা বললেও অনেকেই তা মানছেন না। ফলে এ রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন জনসাধারণ।

এ বিষয়ে সিভিল সার্জন ডাঃ মিজানুর রহমান জানান, নিরাপদ থাকার একটিই উপায় সামাজিক দুরত্ব ও স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলা।

পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা বলেন, আমরা করোনা নিয়ন্ত্রনে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছি। জনগণকে সচেতন হওয়ার কোন বিকল্প নেই।

নাটোরের জেলা প্রশাসক মোঃ শহারিয়াজ বলেন,করোনা নিয়ন্ত্রনে বাজার যানবাহন ও পথচারী নিয়ন্ত্রনে প্রথম থেকেই ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে প্রশাসন সক্রিয় রয়েছে। জনগণকে সচেতন করতে প্রচারনা চালানো হচ্ছে। এছাড়া সরকারের করোনা নিয়ন্ত্রনে সরকার নির্দেশিত কাজ করে যাচ্ছি।আসলে জনগনের সচেতনতার কোন বিকল্প নেই।করোনা নিয়ন্ত্রন করতে হলে জনগণকে সচেতনভাবে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দুরত্ব মেনে চলাফেরা করতে হবে।

সততা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারনবরুপ মিষ্টান্ন ভান্ডার

Advertisement
পূর্ববর্তী নিবন্ধবর্ষাসংগীত -কবি বেণুবর্ণা অধিকারী‘এর কবিতা
পরবর্তী নিবন্ধনাটোরের লালপুরে মাজার কমিটি নিয়ে আওয়াামী লীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ, আটক ৪

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে