নাটোর জয়কালীমাতার মন্দির প্রাঙ্গনে বারঠাকুরের পূজা অনুষ্ঠিত

0
26
বারঠাকুর

নাটোর কন্ঠ : লোকনাথ পঞ্জিকা মতে আজ ১১ ভাদ্র ১৪২৮ বঙ্গাব্দ। ২৮শে আগস্ট ২০২১ খ্রিস্টাব্দ রোজ শনিবার। নাটোরের কেন্দ্রীয় জয়কালীবাড়ী মাতার মন্দির প্রাঙ্গনে সন্ধ্যা সাতটায় অনুষ্ঠিত হয় বারঠাকুরের পূজা। মৃত্যু ও ন্যায় বিচারের দেবতা, যমদেব বা ধর্মরাজ ও পবিত্র শ্রী যমুনা দেবীর অনুজ ভ্রাতা এই বারঠাকুর।

ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ মতে একদিন শনিদেবতার ধ্যানের সময়, তার স্ত্রী দেবী ধামিনী সুন্দর বেশভূষা নিয়ে তার সামনে এলে ধ্যানমগ্ন শনিদেব সেদিকে খেয়াল না করাতে পত্নী ধামিনী বা মন্দা শনিদেবকে অভিশাপ দিলেন-‘আমার দিকে তুমি ফিরেও চাইলে না ! এরপর থেকে যার দিকে চাইবে, সে-ই ভস্ম হয়ে যাবে !’

কোনো কোনো মতে মনে করা হয় যে এটি মঙ্গল দোষের প্রভাবে হয়েছে। মধ্যযুগীয় গ্রন্থ মতে শনি হলেন একজন দেবতা, যিনি দুর্ভাগ্যের অশুভ বাহক হিসেবে বিবেচিত হন। কিন্তু তা প্রকৃতপক্ষে সত্য নয়। শনিদেবতা ভালোর জন্য ভালো আর খারাপের জন্য খারাপ। তিনি খুব ধৈর্যশীল ও বুদ্ধিমান ।

নাটোর জয়কালীবাড়ী মাতার মন্দিরের পুরোহিত পঞ্চানন ঠাকুর জানান, ‘বারঠাকুরের বাৎসরিক পূজার আজকেই প্রসিদ্ধ দিন।এছাড়াও প্রতি সপ্তাহে এই দেবতার পূজা অর্চনা করা হয়। নবগ্রহের একটি অন্যতম গ্রহ, শনিগ্রহকে গ্রহরাজ বলা হয়ে থাকে।

সনাতন ধর্ম মতে শনি একজন উগ্র দেবতা হিসেবে পরিচিত। জ্যোতিষীদের মতে শনির বক্রদৃষ্টির ফলে যে ভালো কাজ করে তার ভালো হয় আর যে মন্দ কাজ করে তাদের সেরূপ শাস্তি হয়। শনিগ্রহ ও সপ্তাহের শনিবার দিনটি শনিদেবের নামে নামকরণ করা হয়।

শনিদেবকে বারঠাকুর, শনিশ্চর, শনৈশ্চর নামেও ডাকা হয়। সূর্যদেব ও তার পত্নী ছায়াদেবীর পুত্র, এজন্য তাকে ছায়াপুত্র-ও বলা হয়। তিনি মহাদেব হতে বক্রদৃষ্টির বর পেয়েছিলেন, যা মানুষকে সঠিক পথে নিয়ে আসে।

বারঠাকুর কর্মফল দিতে গিয়ে অনেকের রোষানলে পড়লেও কখনোই সত্যের পথ থেকে বিচ্যুত হননি।শনিদেব সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারণা যতই ভয়ভীতিমিশ্রিত হোক না কেন, মৎস্য পুরাণ কিন্তু শনিদেবকে লোকহিতকর গ্রহের তালিকাতেই ফেলেছে। প্রতি শনিবার সন্ধ্যায় শনিদেবের পূজার্চনা করার বিধান আছে।

সাধারণত শনিদেবের মন্দিরে অথবা গৃহের বাইরে খোলা জায়গায় শনিদেবের পূজা হয়। নীল বা কৃষ্ণ বর্ণের ঘট, পুষ্প, বস্ত্র, লৌহ, মাষকলাই , কালোতিল, দুগ্ধ, গঙ্গাজল, সরিষারতেল প্রভৃতি বস্তু শনিদেবের ব্রতের জন্য আবশ্যক। নির্জলা উপবাস বা একাহারে থেকে এই ব্রত পালন করতে হয়।’

বারঠাকুরের পূজা অর্চনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, জয়কালীবাড়ী মাতার মন্দিরের সভাপতি খগেন্দ্র নাথ সাহা, সহ-সভাপতি সুবল রায়, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নীলমণি কর্মকারসহ কমিটির অন্যান্য সদস্য ও স্থানীয় ভক্তবৃন্দরা।

এই পূজার্চনায় তুষ্ট হবেন দেবতা, মহামারি করোনা থেকে মুক্তি পাবে বিশ্ব। সমাজ, দেশ তথা বিশ্ব থেকে অন্যায়, অনিয়ম ও নিপীড়ন থেকে মুক্ত হবে মানুষ। সুখ আর সমৃদ্ধিতে ভরবে বসুন্ধরা, এমন প্রত্যাশা আয়োজক ও ভক্তদের।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে