নাটোর সড়ক বিভাগে রাতের আঁধারে ঘরে লাগলো টিন, সাংবাদিক প্রবেশ নিষেধ!

0
355

নাটোর কণ্ঠ: আবারো নাটোর সড়ক বিভাগের দুর্নীতি নিয়ে রিপোর্ট প্রচারিত হলো নাটকের জনপ্রিয় অনলাইন দৈনিক সজাগ নিউজ। এবারে যে নিউজটি ফলোআপ করা হয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে রাতারাতি নাকি সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কর্মচারীদের কোয়ার্টারে রাতের আধারে লাগানো হয়েছে নতুন টিন। অভিযুক্ত উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ইউনুস আলীর নেতৃত্বে এই সংস্কার কাজ করা হয়়় বলেে ওই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। সজাগ নিউজের সম্পাদক মাহবুব হোসেনের নিউজটি দেখা যাাক সেখানে কি রয়েছে। নতুন কি তথ্য সন্নিবেশিিত হয়েছে….” মাহবুব হোসেন:

নাটোর সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের শ্রমিক-কর্মচারীদের কোয়ার্টার (বাসা) সংস্কারে ১৯লাখ টাকা আত্মসাতে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর গভীর রাতে বাসায় পুরাতন টিন সরিয়ে নতুন ঢেউটিন লাগানো হয়েছে। রাত ২টা পর্যন্ত অভিযুক্ত উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ইউনুস আলীর নেতৃত্বে এই সংস্কার কাজ করা হয়।

এদিকে, সংস্কার কাজের ছবি যেন সাংবাদিকরা তুলতে না পারে সেজন্য সওজের মুল ফটকে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। মুল ফটকে এই প্রতিবেদক সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করার কথা বললে বাধা দেয় কর্মচারীরা।

এসময় তারা বলেন, নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম স্যারের অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

জানা যায়, সওজের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের কোয়ার্টার (বাসা) ও একটি মেকানিক্যাল শেড সংস্কারের জন্য ২০১৯-২০ অর্থবছরে দুটি প্রকল্প গ্রহণ করে নাটোর সড়ক ও জনপথ বিভাগ। এর মধ্যে একটি প্রকল্পের আওতায় ১০টি কোয়ার্টার সংস্কারের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয় ১৯ লাখ টাকা। অন্য প্রকল্পের আওতায় সওজের অফিস চত্বরে স্থাপন করা শেডের সংস্কারের জন্য ১৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু কোয়ার্টার সংস্কারের জন্য বরাদ্দকৃত টাকা কাজ না করেই উত্তোলন করা হয়।

অভিযোগে জানা যায়, প্রকল্পের ঠিকাদারের যোগসাজশে শুধু কাগজ-কলমে শ্রমিক-কর্মচারীদের কোয়ার্টার সংস্কার দেখিয়ে প্রকল্পের ১৯ লাখ টাকা উত্তোলন করেন উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডি) ইউনুস আলী। এছাড়া মেকানিক্যাল শেড সংস্কার প্রকল্পের যে কাজ হয়েছে, তা নিয়েই ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠে।

এ প্রকল্পে ৬৫০ টাকার একটি টিনের দাম ধরা হয় ৫ হাজার টাকা। এছাড়া সরকারি অফিসের অন্তত ১০টি গাছ কাটার পাশাপাশি গাড়ি ব্যবহার নীতিমালা ভঙের অভিযোগও রয়েছে ওই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে।

সূত্র বলছে, শ্রমিক-কর্মচারীদের কোয়ার্টার সংস্কারের ১৯লাখ টাকা আত্মসাতের বিষয়টি জানাজানি হলে তোলপার সৃষ্টি হয় সওজ বিভাগে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যাই নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম তার অফিস কক্ষে জরুরী সভা ডাকেন। এই সভা থেকেই অতি দ্রুততার সহিত কোয়ার্টারে টিন লাগানো এবং মুল ফটকে তালাবদ্ধ করে সাংবাদিকদের প্রবেশ না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সে সিদ্ধান্ত মোতাবেক রাতেই অভিযুক্ত উপ-বিভাগী প্রকৌশলী ইউনুস আলীর নেতৃত্বে জরাজীর্ন কোয়ার্টাওে পুরাতন টিন পরিবর্তন করে নতুন টিন লাগিয়ে দেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মচারী বলেন, রাত ১০টার দিকে কয়েকজন শ্রমিক এসে কোয়ার্টারের পুরাতন টিন পরিবর্তন করে দেয়। অফিস চত্বওে যে ১০টি কোয়ার্টার রয়েছে তার সবগুলোই ঘরেই টিন পরিবর্তন করা হয়। এছাড়া বাঁকি সংস্কার কাজ পরে করে দেওয়া হবে।

এদিকে, সংস্কার কাজের ছবি যেন সাংবাদিকরা তুলতে না পারে সেজন্য সওজের মুল ফটকে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। এমন সংবাদের পর মূল ফটকে যান এই প্রতিবেদক। এসময় সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করার কথা বললে বাঁধা দেয় কর্মচারীরা।

এসময় তারা বলেন, নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম স্যারের অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। ভিতরে সাংবাদিক প্রবেশের জন্য নির্বাহী প্রকৌশলী স্যারের নিষেধ রয়েছে।

বিগত দিনে এই গেট খোলা ছিল এমন প্রশ্নের জবাবে কর্মচারীরা বলেন, ভিতরে প্রবেশ করতে হলে স্যারের অনুমতি লাগবে।

এবিষয়ে নাটোর সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে যে কারও প্রবেশে নিষেধ করা হয়েছে। তবে সরকারী কোন নির্দেশনা জারি করা হয়নি। বিগত দিনে মুল ফটকের গেট খোলা ছিল, এখন বন্ধ কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, যেহেতু সরকারী ছুটির দিন, সেকারনে গেটটি বন্ধ রাখা হয়েছে।

রাতেই শ্রমিক কর্মচারীদের কোয়ার্টারে টিন লাগানো হয়েছে এমন প্রশ্নের উত্তরে নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, তড়িঘড়ি করে টিন লাগানোর বিষয়টি আমার জানা নেই।”

এদিকে সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপর আস্থাহীনতা দিন দিন বাড়ছে জনসাধারণের মাঝে। এ থেকে উত্তরণে এখনই ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি সাধারণের।

Advertisement
পূর্ববর্তী নিবন্ধনাটোরের মদনহাট গ্রামে ব্যতিক্রমী ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত
পরবর্তী নিবন্ধনাটোরে প্রতিবন্ধী শিশুকে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ পুলিশ সদস্য-স্ত্রী -শ্যালকের বিরুদ্ধে

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে