“না লিখলে আমি কি করতাম ?”- সমরজিৎ সিংহ

0
543
সমরজিৎ সিংহ

“না লিখলে আমি কি করতাম ?”- সমরজিৎ সিংহ

না লিখলে আমি কি করতাম ? এই নিরীহ প্রশ্নটি ইদানিং আমাকে বিব্রত করছে খুব । কলেজে, ফার্স্ট ইয়ার । তখনই বেশি বেশি করে লেখার ইচ্ছে জেগে গিয়েছিল । হয়তো, জাগত না, খাদ্য আন্দোলনে, তখন এসএফআই করি, অংশগ্রহণ করতে গিয়ে, জেলে যেতে হয় । জেল থেকে বেরিয়ে এসে, কলেজে এবং মহকুমা শহরে, হিরো বনে গেছি এই জেলে যাওয়ার সুবাদে, সিপিএম থেকে, এসএফআই থেকে নিজেকে সরিয়ে নিই, তাদের তখনকার কাজকর্মে তিতিবিরক্ত হয়ে ।

ছাত্র ইউনিয়ন করছি না, বলে, লেখায় পুরোপুরি নিজেকে সমর্পণ করতে পারলাম । ততদিনে, আর এক মামলায়, আমার বিরুদ্ধে ননভেইলেবল ওয়ারেন্ট আর আমি মহকুমা শাসকের পরামর্শে, বন্ধু এবং কবি হিমাদ্রি দেব এর উসকানিতে বাড়ি পালিয়ে শিলচর ।
এই ঘটনাগুলি যদি না ঘটত, আমি কি করতাম ? হয়তো, সিপিএম করতাম । পার্টির দৌলতে কোনো পদ পেতাম । তারপর ?
আমার আগে এবং পরে যারা যারা পার্টি করত, তারা সকলেই তাদের মত করে প্রতিষ্ঠিত । আমার রক্তে প্রতিষ্ঠা শব্দটি নেই । যখনই থিতু হতে গেছি, সেই অবস্থান ভেঙে, সরে গেছি ।

এখন বুঝি, প্রতিষ্ঠা, প্রেম এসব আমার ধাতে নেই । নেই, বলেই, ভেঙে যায় সব । লেখার কাছে নিজেকে সমর্পণ করেও, আজও, যেভাবে উপেক্ষিত ও গৌন হয়ে আছি, না লিখলেও তাই থাকতাম আমি । পার্টিতে, দেখেছি, নিজের জমিজমা, সঞ্চয়, জীবন সব পার্টিকে দেবার পরও, উপেক্ষিত রয়েছিলেন আমার শ্রদ্ধাভাজন কয়েকজন কমরেড । কিছুই পাননি তারা । বরং উড়ে এসে জুড়ে বসে অনেকেই নক্ষত্রসমান হয়েছেন ।

না লিখলে কি করতাম, তার সহজ উত্তর, সম্প্রতি, একটু একটু করে, খুঁজে পাচ্ছি । আমার ঘরের সামনে যে পেয়ারা গাছ আছে, রোজ, তার দিকে তাকিয়ে থাকি । দেখি, একটি একটি পাতা খসে পড়ছে, তার ঐ খসে পড়া দেখে, আমার ভেতরে এক শীত নেমে আসে । পাতাগুলি মিশে যাচ্ছে মাটির সঙ্গে । কেউ খোঁজ রাখে না । কয়েকটি পিঁপড়ে আসে, চলে যায় ।

কোলাহল থেকে অনেক দূরে থাকি, বলে, উপলব্ধি করি, আমার ভবিষ্যত ঐ পাতাটির মত, অলক্ষ্যে, অগোচরে ঝরে যাওয়ায় আমার ভবিতব্য, সে লিখলেও বা না লিখলেও…

Advertisement
পূর্ববর্তী নিবন্ধ“কথা প্রসঙ্গে”  – মনির জামান
পরবর্তী নিবন্ধ“দেবী”- আবু জাফর সিদ্দিকী’র কবিতা

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে