প্রসঙ্গ একুশে বইমেলা- স্বকৃত নোমান 

0
487
Swakrito Noman

প্রসঙ্গ একুশে বইমেলা- স্বকৃত নোমান 

একুশে বইমেলা এলে কেউ কেউ দাবি তোলেন, মেলায় প্রবেশের জন্য টিকেটের ব্যবস্থা করা হোক। তাদের যুক্তি, টিকেট সিস্টেম চালু হলে মেলায় ‘উটকো লোকজন’ যাবে না। এই উটকো লোকজন কারা? যারা বই কেনে না, যারা শুধু ঘুরতে যায়, যারা শুধু ফুচকা-চটপটি খেতে যায় এবং যারা সেলফি তুলতে যায়। টিকেট সিস্টেম চালু হলে এদের ‘উৎপাত’ কমবে, প্রকৃত পাঠকরা আরামসে বই কিনতে পারবে।

আচ্ছা, বইমেলাটা কি শুধুই বই কেনা-বেচার জন্য? মোটেই তা নয়। এর নাম কিন্তু মেলা। মেলায় মানুষ শুধু কেনা-বেচা করতে যায় না। মেলায় মানুষ যেমন কলা বেচতে যায়, তেমনি রথও দেখতে যায়। মেলায় মানুষ ঘুরতে যায়, আনন্দ করতে যায়। যেমন বৈশাখী মেলা। বৈশাখী মেলায় গিয়ে কাউকে জিনিসপত্র কিনতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। বৈশাখী মেলায় প্রবেশের জন্য কেউ কি টিকেট সিস্টেম চালুর দাবি তোলে? তোলে না। বইমেলাও তেমনি একটি উৎসব। বইমেলা শুধু বই কেনা-বেচার উৎসব নয়, এটি একটি জাতীয় উৎসবের রূপ পেয়েছে। এই উৎসবে পাঠকরা যেমন অংশ নেবে, অপাঠকরাও অংশ নেবে। এই অংশ নেওয়াটা ইতিবাচক। অংশ নিতে নিতেই অপাঠকরা একদিন পাঠকে রূপান্তরিত হবে।

বই মানুষ কেন পড়ে? বেঁচে থাকার জন্য? বেঁচে থাকার জন্য বই পড়ার কোনো দরকার নেই। মানুষ বই পড়ে সাহিত্যরস আস্বাদনের জন্য। বইপাঠ একটা আনন্দও। বই কিনবেও মানুষ আনন্দের সঙ্গে। আমি তো এমন বই বিক্রয় কেন্দ্রের স্বপ্ন দেখি, যেখানে বসে মানুষ চা খাবে, কফি খাবে, বিয়ার খাবে, প্রেমিক-প্রেমিকারা বসে প্রেম করবে, মন চাইলে বসে বসে বই পড়বে, ফেরার সময় পছন্দের বইগুলো কিনে নিয়ে যাবে।

বইমেলাও তেমনি। মানুষ ঘুরবে, চা খাবে, চটপটি-ফুচকা খাবে, আড্ডা মারবে, মন চাইলে বই কিনবে, মন না চাইলে কিনবে না। আমরা যখন দাবি তুলছি, তোমাকে বই কিনতেই হবে, না কিনলে মেলায় ঢোকা যাবে না, তখন আমরা বইমেলাকে কেন্দ্র করে মানুষের উৎসবকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছি। এটা এক ধরনের জবরদস্তি। শিল্প-সাহিত্য কোনো জবরদস্তির ব্যাপার নয়। উৎসবের ব্যাপার, আনন্দের ব্যাপার।

আমরা বরং দাবি তুলতে পারি, বইমেলায় যেসব খাবারের দোকান থাকে, সেগুলো যাতে কারো পকেট কাটতে না পারে সেই ব্যবস্থা করা হোক। মেলার মাঠের খাবারের দোকানগুলো ইচ্ছেমতো দাম নেয়। এই অন্যায় বন্ধ করা হোক।

কদিন পরেই শুরু হচ্ছে অমর একুশে গ্রন্থমেলা। প্রথম দিন থেকেই মানুষে মানুষে ভরে উঠুক মেলাপ্রাঙ্গণ। মানুষের জোয়ার নামুক। বইমেলা হয়ে উঠুক পাঠক-অপাঠকের সম্মিলিত উৎসব।

মহাকালে রেখাপাত
২৫.০১.২০২০

Advertisement
পূর্ববর্তী নিবন্ধবই মেলায় পলাশ মজুমদারের প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘হরিশংকরের বাড়ি’ প্রকাশিত হলো
পরবর্তী নিবন্ধকামাল খাঁ’র কয়েকটি ছড়া

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে