প্রসঙ্গ সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম গ্রেপ্তার -ভায়লেট হালদার

0
569
আরিফুল, সাংবাদিক আরিফুল, সাংবাদিক আরিফুল কি সত্যিই গাজা খেয়ে ছিলেন, সাংবাদিক আরিফুল গ্রেপ্তার, সাংবাদিক আরিফুল এর মুক্তি চাই

সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম গ্রেপ্তার হয়েছেন। কেন তিনি গ্রেপ্তার হলেন? সত্যিই সেলুকাস! আরিফের বাড়ীতে অর্ধেক বোতল মদ ও দেড়শ গ্রাম গাঁজা উদ্ধারে প্রশাসনের ভূমিকা বড়ই প্রশংসনীয়!!

বিশ্বস্ত সূত্রের সংবাদে, মধ্যরাতে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা গেলেন সাংবাদিক আরিফুল ইসলামের বাড়িতে, সার্চ ওয়ারেন্ট ছাড়াই ৫/৬ মিনিটের অভিযানে আরিফের বাড়ি থেকে মাদক উদ্ধার করে আরিফকে টেনে হিঁচড়ে ও শাররীকভাবে লাঞ্চিত নিয়ে করে নিয়ে গেলেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এবং বসালেন ভ্রাম্যমান আদালত, সেখানেই বিচারে আরিফকে এক বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে রাত আড়াইটা নাগাদ কুড়িগ্রাম কারাগারে পাঠিয়ে দেয়। প্রশ্ন হলো, সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম কি এত বড় সন্ত্রাসবাদী হয়ে উঠেছিল যে, মধ্যরাতে বাড়িতেই ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে সাথে সাথে বিচারের মুখোমুখি করে কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা?

অনলাইন সংবাদ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনের সংবাদ মাধ্যমে জানা যায়, সাংবাদিক আরিফুল ইসলামের স্ত্রী জানান, ‘রাত সাড়ে ১২টার দিকে হঠাৎ করে আমাদের বাড়ির গেটে ধাক্কাধাক্কির শব্দ শুরু হয়। আমরা জানতে চাই, কারা ধাক্কাচ্ছে। এসময় বলা হয়, দরজা খুলুন, না হয় ভেঙে ফেলা হবে। এসময় আমার স্বামী কুড়িগ্রাম সদর থানার ওসিকে ফোন করলে তিনি বলেন, থানা থেকে কোনও পুলিশ সেখানে যায়নি, কারা গেছে বিষয়টি তিনি দেখছেন। একপর্যায়ে দরজা ভেঙে ৭/৮ জন সাদা পোশাকধারী তাদের বাসায় প্রবেশ করে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে সাংবাদিক আরিফুলকে মারধর করতে করতে ঘরের বাইরে নিয়ে আসে।

এরপর আরিফুল তাদের কাছে কারণ জানতে চাইলে তারা আবারও তাকে মারধর করে। এরপর তাকে নিয়ে সরাসরি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়ে যায়। এছাড়া বাইরে আরও ৪০ থেকে ৫০ জন দাঁড়িয়েছিল। আশপাশের লোকজন যাতে বাইরে বেরুতে না পারে সেজন্য প্রতিটি বাড়ির গেটের সামনে ২/৪ জন করে দাঁড়িয়েছিল।তিনি বলেন, সাংবাদিক হিসেবে আরিফ জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে বেশ কিছু খবর করায় তাকে অনেক আগে থেকে নানা ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।

আমার ধারণা, প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে।’ জানা যায়, ১৯৭৮ সালে কুড়িগ্রাম শহরে একটি পুকুর খনন করা হয়েছিল এবং যার নামকরণ করা হয়েছিল ‘নিউ টাউন পার্ক’। পুকুরটির চারপাশ ঘিরে গড়ে উঠেছিল নার্সারি এবং মাছ চাষ করা হতো। সাম্প্রতিক সময়ে পুকুর পাড়ে অসামাজিক কার্যকলাপ চলার অভিযোগ ওঠার পরিপ্রেক্ষিতে সাবেক জেলা প্রশাসক জেলা পুকুরটি সংস্কার করে এর পাড়ে সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন।

তিনি কর্মসূত্রে স্থানান্তরিত হওয়ায় বর্তমান জেলা প্রশাসক মোছা. সুলতানা পারভীন পুকুরটির সংস্কার কাজ শুরু করেন, পুকুরটি পুনঃখনন করে চারপাশে ওয়াকওয়ে তৈরি করে স্থাপন করেনসোলার স্ট্রিট ল্যাম্প। ফলে বর্তমান জেলা প্রশাসক মোছা. সুলতানা পারভীন এলাকার জনগণ দ্বারা প্রশংসিত হন। কিন্ত তিনি ‘নিউ টাউন পার্ক’ নামটি পরিবর্তন করে নিজের নামে অর্থাৎ ‘সুলতানা সরোবর’ নামে নামকরণ করেন। ফলে তিনি এলাকার জনগণের সমালোচনার মুখে পড়েন।

এ বিষয়ে সাংবাদিক আরিফ তার কর্মরত পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করেন। জেলা প্রশাসক মহোদয় সাংবাদিক আরিফুল ইসলামকে একবছরের কারাদণ্ড দিয়ে আপনি শান্তি পাচ্ছেন তো? সামান্য কারণে আপনি আপনার ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতার প্রয়োগ করে সাধারণ জনতাকে কি মেসেজ দিতে চাইছেন? খ্যাতি সকলেই চায়। জানেন তো, খ্যাতি শব্দটির আগে কু ও সু দুটোই যুক্ত হয়। যদি ইতিহাসে খ্যাত হয়ে থাকার ইচ্ছে জাগে তবে নিজে উপার্জিত অর্থ ব্যয় করে এমন কিছু করেন যাতে মানুষ আপনাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে।

আপনি হয়ে যান বেগম রোকেয়া, মাদার তেরেসা অথবা মনোরমা মাসীমা, কেউই আপত্তি জানাবে না। স্মরণে রাখবেন, প্রশাসন গণপ্রজাতন্ত্রের কর্মচারী মাত্র কিন্ত জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। অনুরোধ, দয়া করে নিজ স্বার্থে ক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধ করুন।

Advertisement
পূর্ববর্তী নিবন্ধ“অতঃপর” কবি নাসিমা হক মুক্তা‘এর কবিতা
পরবর্তী নিবন্ধকুড়িগ্রামের ডিসি: এখনো কি বৃটিশ রাজ্য চলছে? – এম আসলাম লিটন

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে