বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কবি আতিক কাজী’র পাঁচটি কবিতা

0
446
আতিকএনকে

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কবি আতিক কাজী’র পাঁচটি কবিতা

বঙ্গবন্ধু অনন্ত প্রতীক্ষা আমার

কখোন প্রভাত হবে, কখনো ঘুচবে আঁধার?
এই নিবু নিবু দ্বীপ জ্বলা গৃহ থেকে পর্যাপ্ত আলোয়
কখোন যে মুক্তি হবে সবার?

কখোন বৃষ্টি হবে, কখোন উঠবে ঝড়
কখোন আবার জানালায় বসে দেখতে পাবো
নিসর্গের উপচে পড়া রূপ, সেই রক্তিম প্রত্যয়ে
কখনো কি আবার এই পথে হেঁটে যাবে তুমি?

কখনো কি আবার কাঁচাপাকা চুল মেঘরাশি
দেখতে পাবো আকাশের খোলা জানালায়।
ক্লান্ত রাখালিয়ার সুরে সুরে কখনো কি
পৌঁছতে পারবো মধুময় সে স্মৃতির আঙ্গিনায়।
কখোন আবার গোলাপ পাপড়ির স্নিগ্ধতায়
ভরে উঠবে কামনায় দগ্ধ জোড়া ঠোট দয়িতার!

কখোন আবার এলোমেলো ভাবনাগুলো কবিতা হবে
আবার আমি ফিরে পাবো আলো
প্রতীক্ষার এ আঁধার হয়ে যাবো পার

আবারো কি কখনো সেই কণ্ঠ
লাখো লাখো মানুষের কণ্ঠে প্রতিধ্বনিত হবে
বিশ্বময় শান্তির অন্বেষায়?

পথ ভুল ছিলো না তোমার।
অনিবার্য সেই পথেও ঠিকানায় পৌঁছে যাওয়া হলো না তবু
কাঁটাও হাতে বিঁধেছিলো তবু ফুল তোলা হলোনা তোমার।
বর্বর ঘাতকেরা নিয়ে নিলো প্রাণ দেশের প্রতিষ্ঠাতা পিতার।
তবুও গাইছে পাখি, বাজছে সানাই, পথে ঘাটে মাঠে
চেনা জানা লোকেদের ভিড়ে তোমার স্বপ্নগুলো থাকবে সদাই।
দিন দিন প্রতিদিন অবশেষে সেইদিনও এসে যাবে
পায়ে পায়ে এসে পরিশেষ একদিন অনন্ত প্রতীক্ষার এ প্রহরও
পেরিয়ে যাবে, তোমারই পথে ফিরবে নিশ্চয়ই স্বদেশ আমার।

(ঢাকা, ১৫ আগস্ট ‘১৯৭৯)
————–
বঙ্গবন্ধু: আদর্শিক মুজিব আমার চেতনায়

কেউ একজন আসবেন আঁচিরেই – মুজিব, ক্ষুদিরাম অথবা সিরাজ
লক্ষ্মীবাঈ অথবা সুভাষ- কেউতো একজন আসবেন।
মীরণ, মীরজাফর আর ঘষেটি বেগমদের করতে বিনাশ,
এই বাউল বাংলায় কেউ একজন আসবেন অচিরেই।
ঈসা মসীহ ফিরে আসার আগেই কেউ একজন আসবেন।

আর আমার কোনো ভয় নেই- জানো!
হাজারটা উড়িরচর, সাটুরিয়া কিংবা সুন্দরবন
লণ্ডভণ্ড হয় হোক, কোনো ভয় নেই-

ভয় নেই মধ্যপ্রাচ্যে ইহুদী আগ্রাসনে
অথবা- এমনকি ইউরোপে সার্বিয় তাণ্ডবেও
যেমন ভয় নেই চীন, কোরিয়া কিংবা ইন্দো-পাক উত্তেজনায়
ভয় নেই আফ্রিকার ক্রাইসিসে, অথবা
ইঙ্গো-মার্কিন আঁতাতে দুনিয়াজোড়া অস্থিরতায়ও।

দেখোনা- কতো অসহায় মহামতি লেলিন,
মাও কিংবা টিটো’ও হয়েছেন প্রায় নির্বাসিত-
হোঁ কিংবা আলেন্দেও তেমন ভালো নেই জানি
ফিদেলও বুঝি নতজানু হবেন !
একজন আরাফাত অথবা মেন্ডেলার মতো কৌশলে।
তারপরও ফিরে এসেছিলেন আঁকিনো ফিরে আসতে পারেন সুকর্ণও।

যেমন এখানে, এই দেশে মুজিবও এসেছেন ফিরে। নাম-সর্বস্ব।
যিনি দেশে ও বিদেশে কেবল সভাসমিতিতে
বক্তৃতার সিংহভাগ জুড়ে থাকেন। তিনি
ঘরে ঘরে, অফিসের দেয়ালে শুধুই ছবি। প্রচার সর্বস্ব।
এই মুজিব শুধুই স্মৃতিচারণের। মনে হয় য্যানো
কোনো এক অজানা অচেনা অখ্যাত মুজিবকে
সবাই ঠিকা নিয়েছেন চিনিয়ে দেবার।

অথচ আমার এবং লক্ষ-কোটি মানুষের চেতনায় মুজিব
আপাদমস্তক আদর্শিক মুজিব
মানুষের দুঃখ কষ্ট লাঘবের মুজিব
দেশ ও জাতির মুক্তির প্রশ্নে অটল, অবিচল এক মহামহীরুহ।

ঈসা-মসীহ ফিরে আসার আগেই কেউ একজন আসবেন
মুজিবের এই দেশে, হয়তো মুজিবেরই বেশে,
মুজিবেরই অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্তি দেবেন,
কেউতো একজন আসবেন। এবং আসবেন অচিরেই।

(ঢাকা, ২৫ আগস্ট, ১৯৯৯)
—————
বঙ্গবন্ধু এবং ৭ই মার্চ/

তিনি আসবেন, আবারোও আসবেন তিনি –
মঞ্চে এসে দাঁড়াবেন সেই পরিচিত ভঙ্গিমায়
তিনি আবারোও আঙুল উঁচিয়েই বলবেন
‘এবারের সংগ্রাম ……………….’
আমি অপেক্ষায়, অনন্ত প্রতীক্ষা আমার –

যে তিনি সাতই মার্চকে মাহান বানিয়েছিলেন!

কেবল আঙ্গুল উঁচিয়েই সেদিন- রচনা করেছিলেন
পৃথিবীর সব চেয়ে শক্তিশালী অলিখিত সংবিধান,
‘আজ থকে বন্ধ থাকবে…’
‘আমি যদি হুকুম দেবার না পারি’ অথবা
‘ঘরে ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তুলো’
অতঃপর সেই যুগ সৃষ্টিকারী পঙক্তিমালা
বঙ্গবন্ধুর আঙুল উঁচিয়ে সেই দৃপ্ত উচ্চারণ-
“এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম
এবারের সংগ্রাম- স্বাধীনতার সংগ্রাম, জয় বাংলা”

তৈরি হয়ে গেলো স্বাধীনকামী একটি রাষ্ট্রের পথ পরিক্রমার বিধান,
সেই থেকেই মূলত পৃথিবী গোলকে শুরু আমদের রাষ্ট্রের সম্মান,

হাজার বিপত্তি পেরিয়ে অতঃপর আমরা আবারও বাঙালী হলাম,
তাই বঙ্গবন্ধু- স্বাধীনতা, বাংলা ও বাঙ্গালীর সমার্থক একটি নাম।

আমার প্রতীক্ষা আবারোও, এবং কাটবে প্রতীক্ষায় বাকি দিনগুলো-

আর একটিবার যদি তিনি মঞ্চে এসে দাঁড়ান
আর একটিবার কেবল ফিরে আসুন তিনি,
ফিরে আসুন তিনি তাঁরই এই বাংলায়,
আকাশ বাতাস প্রকম্পিত করে ধ্বনিত হোক সেই বজ্রনিনাদ
“এবারের সংগ্রাম, …….” শুনতে চাই কেবল আর একটিবার-
আঙুল উঁচিয়ে যেমন তিনি শুনিয়েছিলেন সেদিন-
বাঙ্গালীর মুক্তির ইশতেহার।

(নিউ ইয়র্ক, ৭ মার্চ, ২০১৪)
—————-
আমরা নির্বোধ নিশ্চিন্তে তাই ওরা নির্মম অনায়াসে

আমাদের জেগে থাকারই কথা ছিলো
অথচ আমরা জেগে ছিলাম না
ছিলাম এক আচ্ছন্ন তন্দ্রায় বুঁদ হয়ে অহর্নিশ
তাই স্বভাবতই আমাদের স্বাভাবিক বোধগুলো
নিস্তেজ নির্বিকার কুম্ভকর্ণের সাথী হয়ে ছিলো।

যারা সুযোগের অপেক্ষায় ছিলো- তাদের পোয়াবারো,
ইচ্ছে মতো হানা দেয় যত্রতত্র, যেমন আমাদের
অরক্ষিত ধানি জমি গোলাবাড়ি, গরুর বাথান
দুর্বল-চিত্তদের বুক পাঁজরের বেড়া ডিঙ্গিয়ে অবলীলায়
ইন্ধন জ্বেলে জ্বেলে তৈরি করে বিভীষণ
অতঃপর তাতিয়ে তুলে মেকী পুঞ্জিভূত অভিমান।

আর আমরা? এই ভেবে নিশ্চিন্ত ছিলাম যে-
ওরা কেবল আমাদের অনুর্বর জমিগুলোতে
ফলন বাড়ানোর চেষ্টায় দিচ্ছে উর্বরা উপকরণ,
অথচ ওরা কুটিল গুছিয়ে নিচ্ছিলো নিজেদের আখের,
আমাদের নাকের ডগায় বসে, টের পাইনি
কেনো না- আমরা তখোন অঘোরে ঘুমিয়ে।

আসলে আমরা মূলত অর্বাচীন দলভুক্ত, তা’ না হলে
বার বার কেনো আমাদের সাথেই এমন হবে?
যেমন- আমরা তখোনও সুখ সুখ ভাব নিয়ে নির্বোধ
নিশ্চিন্ত ঘুমে, যখোন ওরা সদর দরোজা দিয়ে এসে
নির্মম অনায়াসে আমাদের পিতাকে হত্যা করেছিলো।

তারপরও কিভাবে- আমরা
এতোটা বোধহীন আয়েসি হতে পারি? কেনো বুঝি না কেউ
আমরা নির্বোধ নিশ্চিন্তে- তাই ওরা এতো নির্মম অনায়াসে?

(নিউ ইয়র্ক, ১৬ এপ্রিল’২০১৮)
——————–
জয় বাংলা, বঙ্গবন্ধু এবং আমি/

বছর ১৯৬৯ গন আন্দোলনের জোয়ার বইছে দেশে
বঙ্গবন্ধু কেবলই মুজিব ভাই থেকে বঙ্গবন্ধু হয়েছেন আর
আগরতলা মামলা থেকেও তাঁর রেহাই মিলেছে সবে
আসবেন আমাদের মৌলভীবাজারে
মহকুমা শহর, জেলা হয়নি তখনো
আমি ক্লাস সেভেনে পড়ুয়া এক সদ্য বালক
নিয়মিত অংশ নিই শ্লোগানে মিছিলে,
জয়বাংলা, জ্বালো জ্বালো, স্বাধীনতা আনবোই
জেলের তালা ভেঙ্গেছি শেখ মুজিবকে এনেছি, ইত্যাদি
সকাল, সন্ধ্যা এবং রাতেও।
আমি ছোট হলেও কলেজ পড়ুয়া বড়োদের কাছে
আমার বিশেষ সমাদর ছিলো
কেনোনা আমি তাদের সকলের শ্রদ্ধাভাজন প্রিয় অধ্যাপকের ছেলে,
তাছাড়া আমার অগ্রজ কাজী ফয়সল আহমদ, জনপ্রিয় কবি ও লেখক
যিনি কলেজ সংসদে বিপুল ভোটে বিজয়ী সাহিত্য সম্পাদক।

ওটা ছিলো আগুন সময় দেশে। বুঝে না বুঝে সবাই তখোন মিছিলে
শ্লোগানে। জয় বাংলা, বাঙলার জয়গান।
আমিও ওই না বুঝাদেরই দলে, কেনো না
আমি তখোন সবে এগারো যার কৈশোরই এখনো দেরী।

তিনি যেখানে আসবেন তার পাশেই আমরা ছোটরা তখোন ব্যাডমিন্টন খেলছিলাম
আর সেখানে সবে ভরাট মাটি তাই নরম আলগা মাটির চিহ্ন লেগে আছে
আমদের নগ্ন পায়, ঠিক উল্টোদিকেই ওয়াপদা রেস্ট-হাউসে তখোন ভারী জটলা,
গণ্য মান্য আর ছাত্র নেতাদের অধৈর্য অপেক্ষা, অস্থির পায়চারি কেবল্‌
অবশ্য আমাদের এখানেও অধৈর্য হৈ চৈ, ওয়ান লাভ, সেকেন্ড হ্যান্ড সার্ব
এই চাপটাও উঠাতে পারলিনা, ব্যাক হ্যান্ড স্ম্যাশ যে, ফার্স্ট ওয়ার্নিং, ইত্যাদি।

তিনি এলেন, সজীব ফুলের মালা হাতে লাইনে দাঁড়িয়ে সবাই
কিন্তু প্রথা অনুযায়ী বরন মালাটি পরাবার জন্য একটি শিশুর প্রয়োজন
আমাকে চেনেন সবাই তাই আমাকেই ডাকলেন, আমি দেখি আমার পা দুখানা,
পাশেই পুকুর তবুও কাদা মাখা পা নিয়েই যেতে হলো দৌড়ে, কেনোনা
‘অতিথি দাড়িয়ে দুয়ারে’। পাগুলো ধুয়ার সময় পাওয়া গেলো না।

আমি গেলাম কখোনো দেখিনি যাকে মালা পরাবো তাকে
তাঁর মর্যাদা অথবা তিনি আসলে কে, তখোনও তেমন জানিনা কিছুই।
আসলে, সেটা বোঝার মতো আমার বয়সই হয়নি তখোনও।

যা হোক, আমি গেলাম, তিনি ধীরে ধীরে নেমে এলেন গাড়ী থেকে,
নেমে দাঁড়ালেন, আমি সম্মুখে দাঁড়িয়ে মালা হাতে, কিন্তু কিভাবে পরাবো,
আমার হাত যে কেবল উনার বুক অব্ধি পৌছুলো,
তিনি ঈষৎ বাঁকা হলেন সম্মুখে, তাতে লাভ হলো না কিছুই
পৌছুলাম তাঁর মুখ অবধি কেবল, তিনি আর মাথা নোয়ালেন না,
আবার সোজা হয়ে দাঁড়ালেন, আর আগেই তাঁর দুহাত পৌঁছেছিলো
আমার বুকের দু পাশে, বা হাতের তালুটি ঠিক হৃৎপিণ্ডের উপর
মুহূর্তেই উঠে গেলাম শূন্যে, কাঁদামাখা পাদুটো বাতাসে ভেসে থাকলো
অনায়াসে মালাটি গলিয়ে দিলাম তাঁর মাথার উপর দিয়ে, দেখলাম
এক জোড়া গভীর চোখ চশমার কাচের ভেতর দিয়ে আমাকে দেখছে।

এভাবে কতক্ষণ ছিলাম আমি জানি না, মনে হয় অনেক গুলো মুহূর্ত
যুগ, যুগ, বছরের পর বছর, মনে হয় আজও,
বঙ্গবন্ধুর দুহাত আমার পাঁজরের পাশে ঠিক হৃৎপিণ্ডের উপর
বাতাসে ভর করে আমার পা দুখানা,
আমার দুহাত পেঁচিয়ে আছে তাঁর কণ্ঠ গাদা ফুলের মালা সহ,
বঙ্গবন্ধু তাকিয়ে আছেন সরাসরি আমার চোখে,
চশমার কাঁচের ভেতর থেকে গভীর দুটো চোখ আমাকে দেখছে।

একসময় টের পেলাম আমার পা দুটো আবারো মাটির সান্নিধ্যে, আমার মাথা
আবারো তাঁর কোমরের কাছাকাছি, দেখলাম তাঁর হাত দুটো নিজের কণ্ঠ থেকে
নামিয়ে আনলো সেই মালাটি যা একটু আগে আমিই পরিয়ে ছিলাম তাঁকে
আমি সরে যাবার আগেই ঐ হাত দুটো নেমে এলো আমার মাথার উপর দিয়ে
মালাটি চালান হলো আমার গলায় আর বঙ্গবন্ধুর গালের স্পর্শ আমার গালে।
আমি কি তখোন বুঝেছিলাম আমি কি পেলাম? না, মোটেই না
তবে ভেবেছিলাম তিনি খুব ভালো, কেনোনা, বড়োরা যেখানে ছোটদের কেবল
তাচ্ছিল্য করে, তিনি সেখানে আদর দিয়েছেন মালাটিও পরিয়ে দিয়েছেন আমাকে।

তবে অচিরেই আমি বুজতে পারলাম ঐ দিন আমি যা পেয়েছিলাম
সে এক অবিস্মরণীয় ব্যাপার ছিলো যা আমার সারা জীবনের সঞ্চয় হয়ে থাকলো।
তারপর আমি দেখলাম ধীরে ধীরে বোঝতে পারছি অনেক কিছুই,
বোঝতে পারছি জয়বাংলার মানে, বোঝতে শিখছি বঙ্গবন্ধু কে এবং কেনো,
আর ধীরে ধীরে আরো একটা শব্দ যোগ হলো এ দুটো শব্দের সাথে, বাংলাদেশ,
আমার বাংলাদেশ। আমি বিস্ময়ে অভিভূত, অতঃপর এক সময় দেখলাম
আমার কাছে ওই তিনটে শব্দেরই আর আলাদা কোনো অস্তিত্ব রইলোনা,
হয়ে গেলো এক ও অভিন্ন, অর্থাৎ পূর্ণ সমার্থক। আমার বিশ্বাস, আমার অস্থিত্ব
বাংলা বাঙ্গালী বঙ্গবন্ধু এই তিনটি শব্দে আমি কোনো তফাৎ দেখিনা এখনো।

(নিউ ইয়র্ক, ৩রা জুন, ২০১৩)

Advertisement
পূর্ববর্তী নিবন্ধ“দীর্ঘশ্বাসের চিঠি” – পলি শাহীনা
পরবর্তী নিবন্ধ“অতি অভিপ্রায়ে যখন প্রযুক্তি হয় অভিশাপ”-আজিজা রুপা

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে