বাংলাদেশের প্রেম আর কানাডার প্রেম -আব্দুল খালেক (পর্ব ০১)

0
838
Abdul Khalek

আব্দুল খালেক : বাংলাদেশের নব্যশিক্ষিত ছেলেমেয়েরা প্রেম পাগলা, এ কারন ও এই চিন্তা ভাবনাই তাদেরকে সর্বনাশ করে চলেছে। বাংলাদেশের মেয়েরা কোন ছেলের জাত কূল না দেখে যেখানে সেখানে প্রেম করে নিজের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ ও জীবনের অহংকারটুকু পচিয়ে ফেলে। ফলে বাজারে অচল হয়ে পড়ে। অচল টাকা পরিবর্তন করে নতুন টাকা পাওয়া যায় কিন্তু মেয়েরা পচে গেলে দুর্গন্ধ হয়ে যায় মাছিও সেখানে বসতে চায়না দুরে থাকে। বাংলাদেশে ভালবাসার অর্থ জেনা ব্যবিচারে লিপ্ত হওয়া।

কানাডার ৫টি পার্কে সপরিবারে বেড়াতে গিয়েছি। সে ঘোরার মত সময় কাটার যথেষ্ঠ সুযোগ রয়েছে।  সারা পৃথিবীর বৃদ্ধ যুব শিশু মনোনরম পরিবেশে একটু ক্লান্তি দুর করছে। সেখানেও প্রেমিক প্রেমিকারা ঘুরতে আসে কিন্তু বোঝা যায় না। মনে হয় একই পরিবারে মানুষ, কত শালীনতা কত সভ্যতা। সব দেশের পার্কই সকল শ্রেণির মানুষের একটু ক্লান্তি দূর ও একটু বিনোদনের জন্যই তৈরি করা হয়।

কিন্তু আমাদের দেশের পার্ক মনে হয় যেন প্রেমিক প্রেমিকা যুগলদের অবাধ প্রেম নয় শুধু প্রকাশ্যে যৌন নিবেদনের জন্য নির্মাণ করা। সেখনে কোন বয়স্ক ও ভদ্রলোকের প্রবেশ একটা চরম বিড়ম্বনা। এটাই কি আধুনিক সভ্যতা? এটাই কি বাংলার আবাল পিতা মাতার শিক্ষা? কানাডা একটি সভ্য বহুজাতিক কালচারের দেশ, কারো জীবন ব্যবস্থার উপর হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই,

এমন তাদের স্বাধীন  অধিকার, তথাপি কোথাও কোন নগ্নপনা নেই। সারা বিশ্বের ছেলে মেয়েরা এখানে উচ্চ শিক্ষা ও শিক্ষা শেষ করে জীবিকার প্রত্যশার স্বপ্ন দেখাই তাদের মূখ্য উদ্দেশ্য। এদেশের মানে কানাডার ছেলে মেয়েরাও তাই। তাদের মধ্যেও প্রেম আছে সেটা আমাদের দেশের মত ঢাকঢোল পিটে গরীব বাবার রক্তে ঘামানো উপার্জিত অর্থ পড়ালেখা বাদ দিয়ে পার্কে ঘুরে জীবনটাকে অমানুষ বানানোর জন্য নয়।

এখানে স্কুল কলেজের ছেলে মেয়েদের মধ্যে প্রেম ভালো বাসা আছে,  সেটা তারা শিক্ষা প্রতিযোগিতা ও জীবন গড়ার  কাজে ব্যবহার করে উভয় যখন পড়াশোনা শেষ করে কর্মজীবনে প্রবেশ করে তখন তাদের ভালোর মূল্য দিয়ে থাকে। সেখানে দেখা যায় একজন রাজপুত্রের মত সুদর্শন যুবক একজন আফ্রিকান নিগ্রো মেয়েকে বিয়ে করে তার ভালোবাসার মূল্যায়ন করছে।

আমাদের দেশের ছেলে মেয়েরা বাবার টাকায় পড়তে গিয়ে আগে ডুবে যায় ভালোবাসার সাগরে। পড়াশোনা বাদ দিয়ে শয়নেস্বপনে শুধুই ভালোবাসার ধ্যান করে আর পরীক্ষার আগে বইয়ের দিকে তাকিয়ে চোখে দেখে সরিষার ফুল। তাতে বুঝতেই পাড়ছেন রেজাল্ট হয় ডাব্বা। তার পর চরম হতাশা, তার পর কবি কবি ভাব।

যে মেয়ে সুখের সংসার বাধার জন্য জীবনের শেষ সম্ভল বিকিয়ে দিল সেও হয়ে গেল একজন অচেনা মানুষ। অন্যদেশের ছেলে মেয়েরা ভালো বাসে জীবন গড়ার জন্য আর আমাদের দেশের ছেলে মেয়েরা নগ্ন নির্লজ্জ ভালো বাসা করে জীবনটাকে ডাস্টবিনের ময়লায় পরিনত হওয়ার জন্য। এই তো আমাদের দেশের ছেলে মেয়েদের শিক্ষালয়ের স্বাধীনতা।

এ সকল অপশিক্ষার জন্য বাংলাদেশের ছেলে মেয়েরা উপযুক্ত শিক্ষিত হয়ে রোজগারমূলক কোন চাকরী বা বিদেশ থেকে কোন উচ্চ ডিগ্রি নিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারছেনা।বেকারত্বের কারনে বিয়ে করতে না পড়ায় দেশে লক্ষ লক্ষ শিক্ষিত ও উপযুক্ত মেয়ে উপযুক্ত পাত্রের অভাবে অবিবাহিত  রয়েছে।

(এর পর থাকবে এ কঠিন সংকট থেকে বেরিয়ে আসার জন্য অভিভাবক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারের করণীয় বিষয়ে কিছু আলোচনা ) চলবে …

Advertisement
উৎসAbdul Khalek
পূর্ববর্তী নিবন্ধনিখোঁজ সংবাদ
পরবর্তী নিবন্ধপিনাকী মন্ডল (দেবজিৎ) এর আজ জন্মদিন,নাটোরকন্ঠ পরিবারের শুভেচ্ছা

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে