“মধ্যরাতের চিঠি “- সৌমিক ডি.মজুমদারের কবিতা

0
430
সৌমিকএনকে

মধ্যরাতের চিঠি
সৌমিক ডি.মজুমদার

জানো
আজ মন ভাল নেই
সেদিন বেশ থেকে যেতে পারতে, অনেক রাত হয়েছিল গল্পে করতে করতে,বলেওছিলাম থেকে যাও,থাকনি।

কথাগুলো অনেকটা সেকেলে, লতাপাতায় জীর্ণ পুরনো জমিদার বাড়ীর মত।

মৃতপ্রায়, তবুও সাঁঝবাতির মতো আলো দিয়ে নিজেকে দৃপ্তমান জানাচ্ছে।

জানি, তোমার কোথাও না কোথাও জায়গা হবে,বাড়ীর পাশে লোকাল কোন স্টেশনের যাত্রী ছাউনীতে হ্যালোজেন বাতির নিচে ট্রেনের অপেক্ষায় কাটিয়ে দিতে পারবে সারাটারাত।তারপরও তোমার মনে পড়বে না আমার “থেকে যাও অনেক রাত হয়েছে” আহবানের।

এতে হয়তো তুমি ভাল থাকবে,
কিন্তু আমি?
নির্ঘুম সারারাত ভেবে যাব…
তুমি এখন কোথায়?
রাস্তায় হাঁটছো অদ্ভুত অন্ধকারের সাথে?
রাতের লোকাল ট্রেনে অন্যকোন স্টেশনে?

পাশাপাশি হাতে হাত রেখে
রেললাইনে হাঁটতে তুমি পছন্দ করতে।
জানো, আমার এখন মনে হয়,পাশাপাশি আমরা আজো হাঁটছি সেই রেললাইনের সমান্তরাল রেখাধরে,
যে রেললাইনের সমান্তরাল রেখাদ্বয় এক হবে না জানি কোনদিন।

দুরত্ব থাকলেও পাশাপাশি তাই কথারা হারিয়ে যায়নি আজও।

তুমি কি এখনও কবিতা লিখ?তোমার একটি কবিতা বইয়ের ভূমিকা লিখতে বলেছিলে,আজও লিখা হয়নি।বই বের করেছিলে?
এ শহরে কবিদের নামে যদি রাস্তার নামগুলো হত, ক্যামন হতো ?তোমার নামে একটি রাস্তা,তুমি তো কবি।তাইনা?

সেই রাস্তা ধরে আমি প্রতিদিন হেঁটে যাব সন্ধ্যে রাত্রিতে মফস্বলের অন্ধকার আর আলো কে সাথে নিয়ে।

রাস্তার পাশের দেয়ালে স্লোগানের ন্যায় সেঁটে থাকবে তোমার কবিতার প্রিয় লাইনগুলো।
কখনও হয়তো থমকে দাঁড়াবো রাস্তার পাশে মিষ্টির দোকানের সাইনবোর্ডে তোমার নাম দেখে।
কখনও বিস্ময়ে আঁতকে উঠব পাশের দেয়ালে সাঁটানো তোমার কবিতার লাইন দেখে।

এইটুকু তো চাইতেই পারি।
কি বল?
যদিও আমাদের সবার চাওয়া তো এক নয়,
আমি তাই মফস্বলের সন্ধ্যেতে প্রতিদিন হেঁটে চলি তোমার কবিতার লাইন ধরে …
সন্ধ্যের চৌকাঠ মাড়িয়ে রাত্রীরা যখন কড়া নাড়ে এ শহরে তখন মনে পড়ে সেই রাতের কথা ,
কোথায় ছিলে সে রাতে?

Advertisement
পূর্ববর্তী নিবন্ধ“ধর্ষণ বন্ধ হয় না কেন?”-আমীন আল রশীদ
পরবর্তী নিবন্ধ”আতর লোবানের ঘ্রাণ এসে…. “- মনির জামানের কবিতা

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে