মনির জামানের তিনটি কবিতা

0
460
মনিরজামান

শাশ্বত সেই স্মৃতিকথা

তখন সহসাই গাছের পাতা ছিঁড়ে টাকা বানাতাম
আর যুগপৎ বাজারের ঝক্কি এসে তোমায় শোনাতাম।
তোমার রান্নাঘরের কাছেই থামতো এসে
আমার সুপোরি খোলের গাড়ি!
বাজার দেখে তোমারও চক্ষু চড়কগাছ
শুধুই সব্জি! কোথায় মশলা মাছ?
একে ওকে ডেকে দেখাতে
এই দিয়ে কী রান্না করতে পারি!
কী আর করা ফের বাজারে যাওয়া
রেগে মেগে তুমিও শোনাতে
দেরি হবে আজ দুপুরের খাওয়া।

ইচাগাছ আহা কী নরম সুরভী নামে
পিঁপড়ের মাটি কালোজিরা চাল, ঘাস-লতা-পাতা
বেশি বেশি আনি
লাগে যদি কোনো কামে
সেসব দেখেই, তোমার লাজুক মিষ্টি হাসি
আমিও অবাক
ঐটুকু বুকে কী অগাধ ভালোবাসাবাসি!

আশেপাশেই মোরগের বাগ শুনে বলো
গোসলে যান, এক্ষুনি হবে আযান
আমিও রান্না-বান্না সারি
তুমি মিছেমিছি দিন বদলাতে
আজ ঈদ-উৎসব কিংবা পৌষ-পার্বন!
এই ব’লে কোর্মা পোলাও মাছ মাংস পিঠা পায়েশ
বিবিধ খাবারের পদ বাড়াতে
আমিও চুক চুক
খেয়ে নিতাম সব
খাওয়াতেই যেন তোমার যত সুখ।

বাস্তবতার মাঝগাঙে আজ
ডুব সাঁতারে মীণজনম
খেয়ে আছি কি
না খেয়ে তা জিজ্ঞাসে কোন জন?
হে প্রিয়জন,
কোথায় আছো? আছো কেমন?
মিছে চড়ুইভাতির শাশ্বত সেই স্মৃতিকথা
তোমারও কী আছে স্বরণ!

উদগ্র বাসনা

পৌষেই এবার ফাল্গুনের হল্কা
লাগছে এসে গাঁয়ে
তোমার ভেজা চুলের জল
আর্দ্র করে তুলছে মু্খ।

আবহাওয়াবিদদের কোনো আগাম বার্তাই
হচ্ছে না ফলপ্রসূ
শরীরের প্রয়োজনে উদগ্র শরীর
মুক্তমনে চলছে পূর্ণদৈর্ঘ্য পান।

মে’ তুমি আমার চকোরিণী হবে?
ডাক দাও, ডেকেই দ্যাখো তবে
আমিও বিলোতে পারি
পূর্ণরাত্রি কবিতার কিরণ!

চুপিসারে আসে যায়

আলেয়ার আলো কাটে পথ ফুরায় আয়ু
ধরণীতে চুপিসারে আসে যায় প্রাণের বায়ু
আমাকে এনেছে যে আমি তার ছায়া
বুকে পুষে হেঁটে যাই স্বতঃশ্চল সিন্ধুর দিকে
যেতে যেতে ব্রহ্মাণ্ডের বাগান জীবনে জাগায় মায়া
পাতার মর্মরে বহু ভাষার ধ্বনি, রঙ হ’য়ে আসে ফিকে!

মানুষের লোভাতুর মনে জাগে তবু কমলা কস্তুরী
ক্ষমতার শর ভরা তূণ ক্রোধে সাধে শর্বরী
চিল হ’য়ে ওড়ে চোখ সাথে নিয়ে নদীর ধারণা
যে তুমি ডেকে ওঠো ঘুঘু কোড়া ডাহুকের স্বরে
আমিও অধরে রেখে অধর করি সংযমের বাহানা
কেউ দেখে না কোন দূরে..অলখে পাখি মরে!

আমাদের আগমন-প্রস্থান, কৃত-কর্মের হেতু না জানি
বেপরোয়া যাপনে চাঁদ-চকোরে আঘাত হানি
কারে যে খুঁজে বেড়াই? আল ডিঙিয়ে সারাদিনমান
হ’তে গিয়ে অজর অমর হই ঘৃণ্য পামর মনে
এত যে ফাঁদ রক্তচক্ষু অপবাদ অপমান
আরশিতে চোখ রেখে তোমাকেই যেন দেখেছিলাম প্রভাত অরণ্যে!

প্রকৃতির মতো কে আছে বলো শক্তিধর?
আমাদের কাছে এই শীত এই গ্রীষ্মের জ্বালা বহুতর।

 

Advertisement
পূর্ববর্তী নিবন্ধ“পিতার জন্য জায়নামাজটাই থাক” – আসাদজামানের কবিতা
পরবর্তী নিবন্ধ“বৃষ্টিমঙ্গল”- এম আসলাম লিটনের কবিতা

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে