মফস্বলবাস: – জাকির তালুকদার

0
105
জাকির-এনকে

মফস্বলবাস: জাকির তালুকদার

ধরেন পৌষমেলা করতে চাইলেন। আয়োজন করতে গিয়ে পায়ের জুতার তলা হারালেন, পাছার পাতলুন ছিঁড়লেন, পকেটের সব টাকা শেষ করলেন, অন্তত ১৫ টা দিন আর রাত একাকার করে দিলেন। সরকার বা রাজনৈতিক নেতার কাছে কোনো সাহায্য চাইলেন না। কারণ আপনি তাদের সাংস্কৃতিক মান জানেন।
পৌষমেলা আপনি উদ্বোধন করাবেন জেলার কোনো প্রবীণ লোকশিল্পীকে দিয়ে।
উদ্বোধনের আগের দিন আপনার ডাক পড়বে এমপির বাসায়, সরকারি দলের জেলানেতার বাসায়।
— কী ব্যাপার? আপনেরা মেলা করতিছেন, অথচ আমরা জাননুই না। কার্ডে আমার নাম নাই। আমার দলের নেতারে নাম নাই। এইডা কীভাবে হয়?

আপনি বললেন– আপনাদের নেতাদের মধ্যে নানা গ্রুপিং। একজনের নাম উপরে লেখলে আরেকজন বেজার হয়। আমরা সেই ঝামেলার মধ্যে যেতে চাইনি। তাছাড়া এইটা লোকজ মেলা। গায়েন-শিল্পী আর সাধারণ মানুষের মেলা। সেখানে রাজনৈতিক কাউকে আমরা জড়াতে চাইনি।

তার চোখে ক্রোধ– আপনেরা না চাইলেই তো হলো না। আমার এলাকাত একটা অনুষ্ঠান হবি, আর সেই জাগাত ব্যানারে আমার ফটো থাকবি না, আমাক প্রধান অতিথি বানাবেন না, এইসব তো হতে পারে না। চলতে পারে না।

আপনি বোঝানোর চেষ্টা করলেন– এইডা তো কোনো সরকারি অনুষ্ঠান না। আর খুব বড় কিছুও না। আপনাদের সময়ের দাম আছে। তাই ছোটখাট জায়গাতে আপনাদের নিতে চাইনি।

আপনি যা-ই বোঝাতে চান না কেন, তার, ও তাদের বুঝ আলাদা। লোকসংস্কৃতি কী জিনিস তা তিনি বোঝেন না। বোঝার দরকারও মনে করেন না। তিনি চান আপনাদের তৈরি করা মঞ্চে তিনি গলা ফাটাবেন। তিনি উন্নয়নের জোয়ারের কথা বলবেন। তার অশুদ্ধ ভাষার চিল্লানি শুনে আপনাদের হাততালি দিতে হবে।
আপনি সেই সুযোগ থেকে তাকে বঞ্চিত করবেন। এত বড় সাহস!
তিনি আর ভদ্রতা দেখাবেন না। সোজাসুজি বলে দেবেন– আমাক বাদ দিয়া কীভাবে মেলা করেন তা আমি দেখে লিবো।

আপনার সাংস্কৃতিক সংগ্রাম এখানেই শেষ।
মফস্বলে কাজ করার সোদন আছে ভাইরে!

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে