সহযোগিতার হাত বাড়াই থ্যালাসেমিয়ার সাথে লড়াই করছেন আলামিন

0
106

রাজু আহমেদ, নাটোর কন্ঠ সিংড়া :  জীবন মূত্যুর মালিক একমাত্র আল্লাহ। তবে বেঁচে থাকার জন্য মানুষের নিরন্তর চেষ্টা থেমে নাই। সুন্দরভাবে পরিবার পরিজন নিয়ে বেঁচে থাকতে কে না চায়।

মরণ ব্যাধী থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত নাটোরের সিংড়ার আলামিন। পেশায় একজন মোবাইল মেকার। থ্যালাসেমিয়ার সাথে জীবন যুদ্ধে লড়াই করছেন ৭ বছর ধরে। বর্তমানে ১২ থেকে ১৫ দিন পর পর শরীরে দিতে হচ্ছে রক্ত। অর্থের অভাবে উন্নত চিকিৎসা নিতে পারছেন না। চিকিৎসা করতে করতে ভিটেমাটি ছাড়া সব কিছু বিক্রি করে নি:স্ব প্রায়। অসুস্থতার কারনে দোকানে কর্ম করার সামর্থ হারিয়ে ফেলছেন।

শেষ পর্যন্ত কি জীবন যুদ্ধে হেরে যাবেন এই ৩৭ বছরের যুবক আলামিন? এই প্রশ্ন এখন আলামিনের, তাঁর পরিবারের কাছের ও দুরের নাম জানা না জানা অসংখ্য শুভাকাঙ্খীদের।

আলামিনের পুরো নাম মোঃ আজমল হক আলামিন। পেশায় একজন মোবাইল মেরামতকারী। পিতা মোঃ আবুল কালাম আজাদ। জন্মস্থান উপজেলার শহরবাড়ী গ্রামে। সিংড়ায় ভাড়া বাসায় থাকেন।

সিংড়া পৌর শহরের মুরগী হাটি রোডে আলামিন টেলিকম নামে ছোট্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কর্ম করে কোনো রকম সংসার চলছিলো। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস!

আজ থেকে ৭ বছর আগের ঘটনা। আলামিন তখন ব্যবসার সাথে ও আওয়ামী লীগ দলের সাথে সক্রিয় রাজনৈতি করতো।। হঠাৎ করেই অসুস্থ্য হয়ে পড়ে সে। তারপর ২০১৪ সালের আগষ্ট মাসে তার শরীরে প্রথম থ্যালাসেমিয়া জীবানু সনাক্ত হয়। ধীরে ধীরে অসুস্থতা প্রকট আকার ধারন করে। উন্নত চিকিৎসার জন্য ইন্ডিয়া, ঢাকায় ছুটে বেড়ান। কিন্তু এ রোগ পিছু ছাড়ে না।

এভাবে নিজের জমি ও বসত বাড়ি বিক্রয় করে চিকিৎসা নেন আলামিন। ২০১৪ সাল থেকে এপর্যন্ত প্রায় ১৫ লাখ টাকা খরচ হয়েছে তার। কিন্তু মরণ ব্যাধী এই চিকিৎসার শেষ নেই। প্রথমত ২মাস পর পর তার শরীরে রক্ত দেওয়া লাগলেও এখন রক্ত দিতে হচ্ছে ১২ থেকে ১৫ দিন পর পর । নিজের ছোট্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে স্বল্প আয় হয় তার। সেই আয় থেকে সংসার চালিয়ে চিকিৎসা নেওয়া আলামিনের পক্ষে বড়ই কষ্টসাধ্য। অসুস্থতার কারনে ব্যবসায় নিয়মিত বসতে পারে না।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি মহোদয়ের সুদৃষ্টি কামনা করেছে আলামিন। মুজিব আদর্শের সৈনিক যারা জন্মগত ভাবে বংশিয় ভাবে আওয়ামীলীগ এর রাজনিতির সাথে জড়িত।সারা জীবন দলকে শুধু দিয়েই গেছে আল আমিন ও তার বাবা।
সেই আলামিন কি টাকার অভাবে তিলে তিলে জীবন নি:শ্বেস হয়ে যাবে। আলামিনের পরিবারের দায়িত্ব নিবে কে? তাঁর শিশু সন্তানের ভবিষ্যৎ কি? তার মেয়ের নাম মোছাঃ সাদিয়া ইয়াসমিন আনিকা।। সিংড়া সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর ছাএী।

এ প্রতিনিধির সাথে আলাপকালে আলামিন বলেন,শরীরের অতিরিক্ত রক্ত নেওয়ার কারনে অনেক আয়রন
জমেছে। অতিরিক্ত আয়রন এর কারনে দিন দিন শরীরের বিভিন্ন অংগো অকেজো /দূর্বল হয়ে যাচ্ছে। তাই জমাট বাধা আয়রন কমাতে ও অন্যান্য ঔষধ বাবদ প্রায় প্রতিদিন প্রায় ৪ শত টাকার ঔষধ খেতে হয়।

আমার বাবার কাছ থেকে যতটুকু বসত বাড়ি ও জমিজমা পেয়েছিলাম সবটুকু বিক্রয় করে চিকিৎসা নিয়েছি। এখন আমার সম্পদ বলতে কিছুই নাই। আমি এক অসহায় মানুষ। চিকিৎসকগণ বলেছেন দেশের বাইরে ইন্ডিয়াতে উন্নত চিকিৎসা নিলে ভালো হবে। সেখানে খরচ হবে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা। আমি এখন এতো টাকা কোথায় পাবো?

কিন্তু অর্থের কাছে কি হেরে যাবেন আলামিন? চিকিৎসার অভাবে নিভে যাবে তাঁর জীবনের আলো? মানুষ মানুষের জন্য। তাই আসুন আমরা আলামিনের পাশে দাড়াই। একটু একটু করে সহযােগতিার হাত বাড়াই।

আলামিনকে সাহায্যের জন্য বিকাশ ০১৭১১৭১৪৫৪৭ পার্সোনাল।

 

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে