সুবীর সরকারের একগুচ্ছ কবিতা

0
676
natorekantho, ‍সুবির

সাঁতার
সুবীর সরকার

আমার পৃথিবী জুড়ে আমকাঠের বেহালা।
ভাঙা আয়নার এই দেশে পেতে রাখা খড়ের
বালিশ
দুপুরগুলিকে ভাঁজ করতে শিখে গেছি
তুমি সেতার বাজাও ,আমি সাঁতার
কাটি
আমার দিনদুনিয়ায় পেঁয়াজ রঙের কত
ঘরবাড়ি
ছবি থেকে ছায়া সরে এলে
গিনিপিগের হাড় ও পিশাচের দাঁত মূলত
আলোচ্য হয়ে ওঠে
আলপথের হাওয়ায় গান মিশে যায়
কথারা ফিরে আসে
ব্যাঙের ডাক ফিরে আসে
আমি আবার গাছে গাছে ঝোলাতে থাকি
হাসিমুখের ছবি।

গান
সুবীর সরকার

বরাবরই স্লগ ওভারে মাঠ দাপাই আমি
শেয়ালের চোখ তাক করে থাকে আমার
দিকে
শয়তানও ঈশ্বর হয়ে ওঠেন।
নিজেকে সামলে নিতে জানি।ফগলাইটের আলো
বিচ্ছেদী গান হয়ে বাজে
আমার কোনো মনকেমন নেই।
আমি শুধু অবসর ভেঙে ফিরে আসি
বারবার।

দেশ
সুবীর সরকার

শ্বাসকষ্ট ছাড়া আর কি দিতে পারি!
দেশ জ্বলছে।গুলি খাওয়া বাঘের মত ছুটে
বেড়াচ্ছে মানুষ।
নরকঙ্কালের মেলা থেকে ঘুরে এসে ঘুমের
ওষুধ কিনি
মধু ও মোমের দাবিতে কত মিছিল হয়
ভয় ও ভীতি নিয়ে আমরা বসে থাকি
বারুদের স্তূপ থেকে গড়িয়ে নামে
পাখিরা।

লাশ
সুবীর সরকার

এখন উকুনভরতি একটা ঘরে থাকি
শনিবারের রাতে টিকটিকির লেজ পুড়িয়ে
খাই
নদীর জলে ধুয়ে আনি কাঁচালঙ্কা
খোঁড়া খরগোশের সাথে ঘুরতে যাই বলখেলার
মাঠ
আর আমার লাশের পাশে অস্পষ্ট ছায়া হয়ে
দাঁড়িয়ে থাকো তুমি।

একটি স্বীকারোক্তি
সুবীর সরকার

‘সুপুরিগাছের মাথা থেকে সরে যাওয়া রোদ
আমার প্রেমিকা’
পৃথিবীতে কত মানুষের ডাকনাম নেই।
আমার কান্না দেখে ফেলে পুকুরের হাঁস
অথচ ভাঙা বিষদাঁত নিয়েই বেঁচে থাকে কত
মানুষ
আমি সর্বাঙ্গে পাপ মাখি।
বালুচরে শুকিয়ে যাওয়া রক্তের দাগ ছুঁয়ে
উড়তে থাকা জোড়া শালিক
জীবন বদলে দিল অভিমান।
আগুন নিভিয়ে জেগে থাকি হাহাকারের
ভেতর
শহরে বেড়াতে আসা কচ্ছপ।
চশমার কাঁচে জল জমলে আর তো কান্না
লুকোনো যায় না
আমি পালিয়ে যাওয়া নাবিক
আমি মাহুত হারিয়ে ফেলা মাকনা
হাতি
একা হতে হতে কতদূর যেতে পারে মানুষ!
আমাকে ঘিরে অন্ধকার নামছে
সেই কবে থেকে আবার খুঁজতে শুরু করেছি
মামাবাড়ির উঠোন।

Advertisement
পূর্ববর্তী নিবন্ধআসাদজামানের দু’টি কবিতা
পরবর্তী নিবন্ধ“উড়ে গেছে ভুলগুলো”- শাহীনা রঞ্জু’র কবিতা

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে