“বিষন্ন পায়ের গল্প” – শাখাওয়াৎ নয়ন

0
776
nayon

বিষন্ন পায়ের গল্প
শাখাওয়াৎ নয়ন

একটা নীল বালতিতে বৃষ্টি ধারন করে রাখলাম, তোমার মুখ ধোয়াবো বলে। তুমি তাকে ‘জল’ বলেই পা ধোয়া শুরু করলে। আরে জল আর বৃষ্টির মধ্যে কি কোনো পার্থক্য নেই? তাহলে এত কষ্ট করে বৃষ্টি ধরলাম কেন? খাল-বিল থেকে ভরে আনলেই তো পারতাম।

ইটের পর ইটের গায়ে বাড়ি লিখে লিখে সাজালাম, তুমি বললে দেয়াল। জানতে চাইলাম, ‘বাড়ি নয় কেন?’। তুমি বললে, বাড়ির গায়ে বাড়ি না লিখলেও বাড়িই বলা হয় কিন্তু হাজার হাজার ইটের গায়ে লাখো বার বাড়ি লিখলেও বাড়ি হয় না।

অনেকদিন আগে একবার তোমাকে বলেছিলাম, ‘পায়ের তলায় রেখা দেখে বলা যায়, এক জীবনে তুমি কোথায় কোথায় গিয়েছিলে এবং কোথায় কোথায় যাবে?’ তুমি হেসে হেসে উত্তর দিলে, ‘দেখি তো তোমার হাত, কবে কার হাত ধরেছিলে?’

তুমি সব অদ্ভুত অদ্ভুত কথা বলো। একদিন বললে, ‘শেষ রাতে ট্রেনের হুইসেলের মধ্যে চালকের ক্লান্তি শোনা যায়’। আমি দ্বিমত করতে পারিনি। বরং মনে মনে বলেছি, ‘যে ট্রেনগুলো শিস দিয়ে দিয়ে রোজ আমাদের বাড়ি পৌঁছে দেয়, একদিন পথের উপর হৃদয় পেতে এসো, বিষন্ন পায়ের গল্প শোনাবো’।

Advertisement
পূর্ববর্তী নিবন্ধ“এসো খোলা মাঠে” – কামাল খাঁ’র ছড়া  
পরবর্তী নিবন্ধ“তেরই ফাল্গুনে” -কবি শাহিনা খাতুন‘এর কবিতা

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে