আই লাভ নিউইয়র্ক !- পলি শাহিনা

0
509
Poly Shahina

আই লাভ নিউইয়র্ক !- পলি শাহিনা

বসন্তকাল হলেও সেদিন কিছুটা ঠান্ডা ছিল, সঙ্গে ঝড়ো হাওয়া। সে বছর ঠান্ডা বেশ আঁটসাঁট বেঁধে বসেছিল, যাই যাই করেও যাচ্ছিলো না। আকাশে এলোমেলো খন্ড খন্ড মেঘ উড়ছিলো। নিশ্চিন্ত ছিলাম, এমন হালকা মেঘ বৃষ্টি হয়ে ঝরবে না। পূর্ব পরিকল্পনা অনুসারে ম্লান ঠান্ডা রোদ সাঁতরে, আমাদের গাড়ী হাইওয়ে ধরে দ্রুতগতিতে ছুটে চলছিল, লাগোর্ডিয়া এয়ারপোর্টের দিকে। উপরোক্ত বর্ণনাটি ২০০৯ সালের এপ্রিল মাসের ঘটনা।
সে বছর বসন্তের ছুটিতে আমরা এক সপ্তাহের জন্য, ফ্লোরিডার অরলান্ডোতে বেড়াতে গিয়েছিলাম। এয়ারপোর্টের নির্দিষ্ট এরিয়ায় এক সপ্তাহের জন্য গাড়ী পার্ক করে, আমরা চেক ইন শেষে যথাসময়ে প্লেনে চেপে বসি। সৌভাগ্যক্রমে, আমি সিট পেয়েছিলাম জানালার পাশে। প্লেনে জানালার পাশে বসতে পারাটা আমার কাছে সৌভাগ্যই মনে হয়। আমার বাবা সবসময় প্লেনে জানালার পাশের সিট পছন্দ করতেন। বোধ জ্ঞান হবার পর থেকে বাবার মুখে প্লেন জার্নির অসংখ্য গল্প শুনেছি, যেগুলোর বেশীরভাগ ছিল জানালার পাশের সিটের গল্প। সেজন্যই বোধ করি প্লেন জার্নিতে সর্বদা আমি জানালার পাশের সিট আশা করি। কখনো পাই, কখনো পাই না৷ পেলে খুশিতে মন টগবগিয়ে উঠে। না পেলেও মন খারাপ করি না।
আমাদের প্লেন রানওয়েতে কচ্ছপের গতি পেরিয়ে ততক্ষণে চিতা বাঘের গতিতে ছুটছিল সম্মুখে। কি সুন্দর পৃথিবী ও প্রকৃতি! পাখীরা দলবেঁধে উড়ছে! আকাশ যেন নুয়ে এসে মানুষ এবং প্রকৃতির সঙ্গে সখ্যতা গড়তে চাইছে! আনন্দ ঢেউ উপছে পড়ছে, আমি যেন থৈ খুঁজে পাই না! প্লেন এতক্ষণে আকাশের বুকে স্থির হয়ে, এগিয়ে যাচ্ছে গন্তব্যের দিকে। আমি তখন বসন্তের মৃদু হাওয়ায় উড়ছিলাম, আর দু’চোখ মেলে মনোরম মুহূর্তটিকে নিংড়ে নিংড়ে অনুভব করছিলাম। বিমান বালার মধুর সম্ভাষণে সম্ভিত ফিরে পাই। জুস এবং বিস্কুট দিয়ে আমাদেরকে আপ্যায়ন করা হয়। আমার পাশে বসেছিল এক অল্প বয়সী কোরিয়ান, বেড়াতে এসেছে আমেরিকায়। আলাপচারিতায় জানলাম, নিউইয়র্ক শহর তার ভালো লেগেছে, কিন্তু অতিরিক্ত ঘনবসতি হওয়ায় তার কিছুটা হাসফাঁস লেগেছে। বিশেষ করে উল্লেখ করলো, ট্রেনের কথা। তার আচরণে নিউইয়র্কের প্রতি এমন নেতিবাচক মনোভাব, সেদিন আমার একদম ভালো লাগে নি। যখন কোনকিছু ভালো লাগেনা চুপ হয়ে যাই, কিংবা উক্ত পরিস্থিতি হতে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলি। আমি চুপচাপ বাইরের দিকে তাকিয়ে থাকি, বাবার প্লেন জার্নির গল্পগুলো মনে পড়ে। বাবাকে মনে পড়ে। আমার নিজস্ব একটা জগৎ আছে, যে জগতে আমি ছাড়া দুনিয়ার অন্য কারো প্রবেশাধিকার নেই। খুব আদরে নিজের সে জগতে ডুবে যেতে থাকি, মন খারাপ হলে একান্তে নিজের এই জগতে আমি ডুবে থাকি।

আমাদের প্লেন অরল্যান্ডোতে এসে ল্যান্ড করে। আকাশ থেকে জমিনে নামতেই আমার মন ভালো হয়ে যায়। পাখির পালকের মত আলো উড়ে এসে খসে খসে পড়ছে সর্বত্র। আলোর বানে ভেসে যেতে থাকি। প্রয়োজনীয় কার্যাদি সম্পূর্ণ করে এয়ারপোর্ট থেকে বেরিয়ে, গাড়ী নিয়ে আমরা রিসোর্টের দিকে রওনা দিই। গাড়ী, রিসোর্ট সবি অনলাইনে ঠিক করা ছিল আগে থেকেই। কুয়াশার চাদর ভেদ করে অচেনা পথ পাড়ি দিয়ে, রিসোর্টে পৌঁছাতে আমাদের মাঝ রাত হয়ে যায়। রিসিপশন ডেস্ক থেকে চাবি নিয়ে রিসোর্টে চলে যাই সোজা। রিসোর্টে ঢুকেই চক্ষুদ্বয় ছানাবড়া। এতবড় ঘরের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তের দিকে তাকালে চারপাশ ধু ধু লাগে। বড় বড় রুম, প্রশস্ত হলওয়ে, খাবার ঘর, বসার ঘর, লন্ড্রি রুম, সুইমিং পুল – এককথায় সুখে-শান্তিতে, আরাম-আয়েশে জীবন যাপনের সব ধরণের ব্যবস্থা রয়েছে। রিসোর্টটি ছিল আন্তর্জাতিক মানের। ঘরে ঢুকেই মনের আনন্দে হাত-পা ছুঁড়ে ইচ্ছেমতো হৈ হুল্লোড় শুরু করলাম। আচমকা মনে হলো, আমাদের চিতকার- চেঁচামেচি কঠিন নির্জনতার দেয়ালে প্রতিধ্বনিত হয়ে, আবার আমাদের কানেই ফিরে আসছে। সুনসান নীরবতায় কোথাও কোন শব্দ নেই। যেন গোরস্তানের নিঃস্তব্ধতায় ঘুমিয়ে আছে চারপাশ।
মনে পড়ে রাতদিন সমানভাবে জেগে থাকা প্রাণের নিউইয়র্ক শহর থেকে, আমরা অনেক দূরে বেড়াতে এসেছি। আমাদের চোখাচোখি হয়, আমরা থেমে যাই। রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ি।

পরদিন সকালে আমরা বেড়াতে বের হই। অরলান্ডো শহরটি ছোট হলেও ডিসনি ওয়ার্ল্ডের জন্য এটি পৃথিবীর একটি বিখ্যাত, অনন্য শহর। এছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন পার্ক, ইউনিভার্সেল স্টুডিও, সী ওয়ার্ল্ড ইত্যাদি।
যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে তা হলো নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া, এবং বাংলাদেশের মতো রাস্তার দুপাশে দিগন্ত বিস্তৃত মাঠ, ক্ষেতের পর ক্ষেত যেখানে গরুর দল চরছে। এই দৃশ্যগুলো দেখার জন্য উদ্দেশ্যহীন ভাবে ঘন্টার পর ঘন্টা ড্রাইভ করেছি অচেনা পথ ধরে।
বইএর পাতায় আঁকা ছবির মত শহর অরল্যান্ডোতে প্রথম দুই-তিন দিন কেটে যায় বেশ ভালোভাবেই। সাত দিনের জন্য বেড়াতে গিয়ে তিন-চার দিন পর আমাদের আর ভালো লাগছিলো না সেখানে। এত এত সুন্দরের হাতছানি, তবুও কেন জানি আমাদের ফাঁকা ফাঁকা লাগছিলো। কারণ খুঁজতে গিয়ে দেখি, আমরা নিউইয়র্ক এবং নিউইয়র্কের কোলাহলকে খুব মিস করছিলাম। আমরা বাস, ট্রেন, গাড়ীর শব্দ এবং মানুষ খুঁজতে থাকি। অরল্যান্ডো শহরে এসব খুঁজে না পেয়ে আমরা একাকীত্বে ভুগতে থাকি। প্রসাদের মতো বিশাল নির্জন রিসোর্টটি আমাদের আর ভালো লাগে না। আমরা মন খারাপ করে নিউইয়র্কে ফিরে আসার ফিরতি ফ্লাইটের জন্য অপেক্ষা করতে থাকি। আজো স্পষ্ট মনে পড়ে সে পাথর সময়ের কথা। পাথর সময় বলছি এজন্য যে, সে সময়গুলো যেন স্থবির হয়ে বসেছিলো ঘড়ির কাটায়। কষ্টের সময়গুলো খুব ধীরে ধীরে চলে, পাথরের মত বসে থাকে বুকে। পাথর সময় পেরিয়ে এক সপ্তাহ পর নিউইয়র্কে ফিরে এসে আমরা হাঁপ ছেড়ে বাঁচি।

সঠিক সাল মনে পড়ছেনা এই মুহূর্তে। সম্ভবত ২০০১ সালের কথা। পৃথিবীর অন্যতম বিস্ময় নায়াগ্রা ফলস দেখতে কানাডায় গিয়েছিলাম। ছোটবেলা থেকে পাঠ্যক্রমে নায়াগ্রা জলপ্রপাতের কথা পড়লেও, সেখানে যাওয়ার আগে আরেকবার অনলাইন, বই-পুস্তক ঘেটে জলপ্রপাত সম্পর্কে জেনে নিই। পুরনো তথ্যাদি নতুন করে জেনে আমার ভেতরে একটা অদ্ভুত শিহরণ জেগে উঠে। উত্তেজনায় অস্থির হয়ে উঠি। আমরা একটা ভ্যান গাড়ীতে করে যথাসময়ে কানাডায় গিয়ে পৌঁছাই। সত্যি বলতে ১০/১২ ঘন্টার এত লম্বা ভ্রমণ করেও আমার মধ্যে কোন ক্লান্তির ছাপ পড়েনি। দুপুরের শেষাংশে হোটেলে যাই। দিনটি ছিল খুব উজ্জ্বল, ঝকঝকে। সামান্য বিশ্রাম নিয়ে বিকেলের মিষ্টি রোদে বেরিয়ে পড়ি জলপ্রপাত দেখার উদ্দেশ্যে। জলপ্রপাতের গন্ধ মেখে হোটেলে ফিরে আসি মাঝরাতে।
কিছু কিছু সৌন্দর্যের কোন ব্যাখ্যা হয় না। কিছু কিছু অনুভূতির বর্ণনা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। আমার দেখা রাতের সে নায়াগ্রা ফলসের সৌন্দর্য আমি ভাষায় তুলে ধরতে পারবো না। শুধু বলতে পারি, সে সৌন্দর্য আমার বহু রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছিলো । যে সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য পরেও আবার গিয়েছিলাম।

নায়াগ্রা জলপ্রপাত এবং কানাডার কয়েকটি শহর ঘুরে দেখার জন্য তিন দিনের ছুটি নিয়েছিলাম। ফলস দেখার পর শহরে ঘুরতে গিয়ে আমি তেমন আর কোন আগ্রহ অনুভব করছিলাম না। সবার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চললেও মন চুপসে থাকে। মনে হচ্ছিলো নতুন কিছুই তো দেখছিনা, সবি আছে আমাদের নিউইয়র্ক শহরে। নিউইয়র্কের ভালোবাসার টানের কাছে আমার কানাডা দেখার উত্তেজনায় ভাটা পড়ে। নিউইয়র্ক আমাকে পরম আদরে ডাকছিলো, আমি পরের দিন ফিরে আসি নিউইয়র্কে।

কোন এক গ্রীষ্মের ছুটিতে আমার পাশের শহর কানেকটিকায় গিয়েছিলাম আত্মীয়ের বাড়ীতে। তাদের বাড়ীর সামনে, পিছনে বিরাট খোলা জায়গা। সবুজ, ফুল, পাখী, ঝিরিঝিরি বাতাস বেয়ে, দূরন্ত প্রেমের কবিতার মত বিকেল পেরিয়ে সন্ধ্যা নামে। রাতের আড্ডা, খাওয়া শেষে যে যার ঘরে ঘুমাতে যায়। কি নিঝুম চারপাশ! আমার ঘুম আসে না। চোখ বন্ধ করলেই মনে হয় আমার সামনে কেউ বসে আছে, কেউ আমাকে নাম ধরে ডাকছে, কেউ সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামছে, কারো পায়ের শব্দ বাজছে। আমি ভীতু মানুষ। ভাইবোনের মাঝখানে মায়ের বুকে মুখ লুকিয়ে ঘুমিয়েছি সবসময়। আমার নাকের ডগায় ঘাম জমতে থাকে। ডিম লাইট জ্বালিয়ে সারা রাত জেগে থাকি। মনে মনে নিউইয়র্ক শহরের কোলাহল কে পূজা কর‍তে থাকি। কোলাহলের মধুর সুধা চোখ বুঁজে পান করতে থাকি। বেড়ানো ফেলে কানেকটিকাটের ভুতুড়ে নির্জনতা ছেড়ে, আমি দ্রুত নিউইয়র্কে নিজের ঘরে চলে আসি।

সমগ্র পৃথিবী এবং পৃথিবীর মানুষগুলো আজ গভীর অসুখে ভুগছে। পৃথিবীতে এক মারণ পোকা এসেছে। চরাচরে মহাকালের মতো মস্ত তালা ঝুলছে। করোনা ভাইরাস আতংকে নিউইয়র্ক শহর কাঁপছে, শহরের মানুষগুলো কাঁদছে৷ মহামারি করোনা ভাইরাস ব্যাধিতে গোটা পৃথিবীতে আক্রান্ত এবং মৃতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি নিউইয়র্কে। এই শহরের মানুষগুলো এক শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থার মধ্যে দিনাতিপাত করছে। এই শহরের মানুষগুলোর পায়ে পায়ে মৃত্যুভয় হাঁটছে। এই শহরের মানুষগুলো আজ দিশেহারা।

জীবন বাঁচানো ফরজ। জীবন বাঁচাতে এরমধ্যে আমার পরিচিত কিছু মানুষকে দেখলাম, নিউইয়র্ক ছেড়ে আপাতত দূরের কোন নিরিবিলি শহরে চলে গেছেন। অনেকেই বলছেন, এই সময় পার হলে ঘণ জনবসতিপূর্ণ নিউইয়র্ক শহর ছেড়ে অন্যত্র চলে যাবেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও অনেককে দেখেছি এমন মনোভাব প্রকাশ করতে। আমার আত্মীয় -স্বজনরাও আমাকে বলেছেন, নিউইয়র্কের কোলাহল ছেড়ে নিরিবিলি অন্য শহরে চলে যেতে।

বেঁচে থাকার মত প্রাপ্তি আর অন্য কিছুতে নেই। জগতে সবাই বাঁচতে চায়। চাওয়াটি অতি স্বাভাবিক হলেও, গত দুই মাস ধরে বিষয়টি আমাকে খুব আবেগপ্রবণ করে তুলেছে। আমার মনে পড়ে যায় আমার মায়ের কথা এবং আমাদের গ্রামের হিন্দু কালুর মায়ের কথা। আব্বা মারা যাওয়ার পর বিশেষ করে উন্নত চিকিৎসার জন্য, আম্মাকে আমাদের কাছে নিউইয়র্কে রাখতে চাইতাম সবসময়। আম্মা থাকতে চাইতেন না বলে তাঁকে খুশি করার জন্য, তাঁর পছন্দমতো সবুজের কাছে, খোলা মাঠে, সমুদ্রের পাশে, প্রকৃতির সান্নিধ্যে নিয়ে যেতাম। যেখানেই নিতাম কিছুই পছন্দ করতেন না। বলতেন, তাঁর চোখে শুধু বাংলাদেশের দৃশ্য ভাসে, দেশ তাঁকে টানে, বাংলাদেশের কাছে নিউইয়র্কের সব সৌন্দর্য ফিকে।
আমাদের গ্রামের নিসঙ্গ কালুর মাকে কৌতুহলবশত একদিন জিজ্ঞেস করেছিলাম, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে ভারতে চলে না গিয়ে কেন এমন অনিরাপদ, অসুখী জীবন বেছে নিয়েছেন? উত্তরে বলেছিলেন, ‘এই মাটির টান বড় কঠিন। এই মাটির মায়ায় বুঁদ হয়ে আছি। এই মাটি ছেড়ে অন্য কোথাও গিয়ে সুখী হবো না। যে মাটির আলো বাতাসে শ্বাস নিই, সে মাটিতেই একদিন মিশে যাবো।’

আমার মা আর কালুর মায়ের মত করে আমিও ভালোবাসি নিউইয়র্ক শহরকে। বাংলাদেশের মাটিতে পোঁতা আছে আমার নাড়ী, আর নিউইয়র্কের আলো -বাতাসে মিশে আছে আমার সবচেয়ে মূল্যবান জিনিস, আবেগ৷ যে আবেগ আমাকে নিয়ন্ত্রণ করে, বাঁচিয়ে রাখে সুস্থভাবে। বাংলাদেশ থেকে বর্ণমালা শিখেছি, সার্টিফিকেট নিয়ে এসেছি। নিউইয়র্ক শহর আমাকে হাতে কলমে জীবন বোধের মূল্যবান শিক্ষা দিয়েছে। নিউইয়র্ক শহরের শিক্ষা আমাকে বিনয়ী, মানবিক, সহনশীল, ন্যায়পরায়ণ, সামাজিক, সৎ ও পরিশ্রমী হতে শিখিয়েছে। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় পাশ করার বাইরেও যে জগতে সফলতার জন্য আরো অনেক বিবিধ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়, সে শিক্ষা পেয়েছি নিউইয়র্কে এসে। জীবন যাপনের অনেক নিগুঢ় রহস্য উন্মোচিত হয়েছে এই শহরের আলো – বাতাসে। নিউইয়র্ক শহর অন্তর্চক্ষু খুলে দিয়েছে, এই শহরের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। জীবনকে পূর্ণ গভীরতায় অন্বেষণ করতে শিখিয়েছে নিউইয়র্ক। যে শহরেই যাই ঘুরেফিরে নিউইয়র্কে এসে শান্তি পাই।

করোনা ভাইরাসের আধিপত্যের কাছে যদি জীবন প্রদীপ শেষ পর্যন্ত নিভে আসে, হাসিমুখে তাকে আলিঙ্গন করে নেব এই শহরেই। তবুও ভালোবাসার নিউইয়র্ক শহর ছেড়ে অন্য কোথাও যাব না! আমার ভালোবাসার শহর নিউইয়র্ক ভালো হয়ে উঠুক অতি দ্রুত, এই শুভ প্রত্যাশা রাখি!

Advertisement
পূর্ববর্তী নিবন্ধঘুড়ি – কবি আগমণী ধর এর কবিতা
পরবর্তী নিবন্ধপূর্বঘোষিত মৃত্যুর বৃত্তান্ত- ফাল্গুণী মুখোপাধ্যায়

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে