“কবি মারজুক রাসেলের জন্য শুভকামনা”- স্বকৃত নোমান

0
653
www.natorekantho.com

বইমেলায় প্রতিদিন বায়ান্ন প্রকাশনীর স্টলের সামনে হৈ-হট্টগোল শোনা যায়। কী কারণ? এখান থেকে প্রকাশিত হয়েছে মারজুক রাসেলের নির্বাচিত কবিতার বই ‘দেহবণ্টন বিষয়ক দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর’। মারজুক রাসেলের ভক্তরা লাইন ধরে বই কিনছেন, বই হাতে পেয়ে উল্লাস করছেন। এই দৃশ্য খুব সুন্দর। এরই মধ্যে বিক্রি হয়েছে ১০ হাজারেরও বেশি বই। আগামী দিনগুলোতে হয়ত দ্বিগুণ বিক্রি হবে।

তাঁর কবিতার বইয়ের এই তুমুল বিক্রি দেখে একদল কবি-সাহিত্যিক বলে বেড়াচ্ছেন, ‘মারজুক তো অভিনেতা। এই কারণেই তার ভক্তরা তার বই কিনছে। শুধু কবি হলে কেউ কিনতো না।’ আরেকদল বলে বেড়াচ্ছেন, ‘তার কবিতা তো অশ্লীল। কবিতায় তিনি ঠাপ, ঠাপা, ঠাপানো শব্দ ব্যবহার করেন।’ বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক ও চিন্তক আজফার হোসেন ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে জানতে চেয়েছেন, “বেয়াদপি মাফ করবেন। অজ্ঞতাও মাফ করবেন (অজ্ঞ তো বটেই)। কিন্তু এই মারজুক রাসেল কেডায় আসলে?”

মারজুক রাসেল আগে কবি, তারপর গীতিকার, তারপর অভিনেতা। তিনি যাপনও করেন কবিজীবন। এই তথ্যগুলো শ্রদ্ধেয় আজফার হোসেন যে কাউকে ফোন করে জেনে নিতে পারতেন। ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে জানতে চাইলেন। এটি তাঁর ব্যক্তিগত ব্যাপার। পোস্ট দিয়ে তিনি জানতে চাইতেই পারেন। কিন্তু তাঁর জানতে চাওয়ার মধ্যে বিদ্রুপ স্পষ্ট। অবশ্য বিদ্রুপ চলতেই পারে। চলতে পারবে না, এমন কোনো বিধি নেই।

আর আমি নিশ্চিত নই মারজুক রাসেলের কবিতায় এই ধরনের শব্দ আছে কিনা। থাকলে সমস্যাটা কোথায়? ঠাপানোতে এত আপত্তি কেন? চারদিকে তো ঠাপানির মহোৎসব চলছে। কেউ দেশটাকে ঠাপাচ্ছে, কেউ ব্যাংক ঠাপাচ্ছে, কেউ শেয়ার বাজার ঠাপাচ্ছে, কেউ সংস্কৃতিকে ঠাপাচ্ছে। কবি তাঁর কবিতায় ‘ঠাপ’ ব্যবহার করলে সমস্যা কোথায়? নাকি এই শব্দ কেবল রিকশাওয়ালাদের? কেবল নিম্নবর্গের? কবির মতো ‘ভদ্রলোকের’ পক্ষে এমন শব্দ ব্যবহার করা বারণ।

যে কারণেই হোক পাঠক কবিতার বই কিনছে, এটা অনেক বড় ব্যাপার। আশা জাগানিয়া। বইটির বিক্রি এক লাখ ছাড়িয়ে যাক। কবি মারজুক রাসেলের জন্য শুভকামনা। ভালোবাসা।

Advertisement
পূর্ববর্তী নিবন্ধ“দেখা দাও” কবি শাহিনা রঞ্জু‘এর কবিতা
পরবর্তী নিবন্ধবাগাতিপাড়ায় নিজ প্রার্থীকে নিয়োগ দিতে না পেরে পরীক্ষা নিয়ে তালবাহানার অভিযোগ সভাপতির বিরুদ্ধে

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে