করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে ব্লাড প্লাসমা ( Blood Plasma)-ই এখন একমাত্র ভরসা।

0
1972
ZK Banta

জাহিদ বিন আজাদ : করোনা ভাইরাস যে একটি প্রাণঘাতি ভাইরাস তাতে তো কোনো সন্দেহ নেই। এমনিতেই দিনকে দিন আমাদের আতংক বাড়ছে, তার উপর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক মুখপাত্র জানাচ্ছেন-আমরা হয়ত কখনই করোনা ভাইরাসের ভ্যাক্সিন আবিস্কার করতে পারব না! এই ধরনের দুঃসংবাদ আমাদের হৃদয়ের তলানিতে যেটুকু সাহস ছিল, সেটুকুও যেন কেড়ে নিতে চায়! হায়!

সত্যি যদি ভ্যাক্সিন আবিস্কার না হয় ! তাহলে! ভাবতে পারি না! তার মানে সব জানালাই কি বন্ধ হয়ে গেছে! তা তো হবার কথা না! কোথাও না কোথাও কোন না কোন জানালা নিশ্চয়ই খোলা আছে, যেখান দিয়ে ঠিক আলো এসে পড়বে আমাদের উপর!

যাই হোক, বাঁচার উপায় কি! সেটাই বড় বিষয়। আমি কয়েকটি দেশের উদাহরণ থেকে একটা গবেষণাকে উস্কে দিতে চাই, যার কারণে হয়তো,হয়তো আমরা করোনা ভাইরাস থেকে বাচতে পারি। এখন সেটা নিয়েই বলবো
যখন কেউ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয় তখন তার দেহের ভিতরে যে ইম্মিউন সিস্টেম আছে, সেটি অনবরত চেষ্টা করে যে কিভাবে সে এই ভাইরাসকে শেষ করবে।

এর কারণ করোনা ভাইরাস আমাদের দেহের জন্য একটা ফরেইন বডি, কারণ কোনো দিনও এই জিনিস আমাদের দেহের ভিতরে প্রবেশ করে নাই। তাই আমাদের দেহ করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে এন্টিবডি তৈরি করে । এবং যাদের ইমিউনিটি সিস্টেম ভালো তারা এই ভাইরাসকে ঠেকাতে পারে। কিন্তু যাদের ইমিউনিটি সিস্টেম খারাপ অর্থাৎ যাদের বয়স বেশি অথবা যাদের বিভিন্ন ধরণের রোগ আছে তাদের এই ভাইরাস থেকে বাঁচা কঠিন হয়ে যায়। এই জন্য বয়স্ক মানুষরাই এই ভাইরাসের ভিকটিম হয়।

কারও দেহ যদি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয় তাহলে দেহের টি সেল্গুলো যুদ্ধ করে মৃত্যুবরণ করেছে, এবং যাদের ইম্মিউন সিস্টেম ভালো তারা কিন্তু এই ভাইরাসকে ঠেকাতে পেরেছে। এখন ভাইরাস্কে মারার পরে আমাদের দেহের যে টি এবং বি সেল গুলো আছে সেগুলো নিজেরাই আত্মহত্যা করে। এবং থেকে যায় শুধু মেমরি টি এবং বি সেল।

এখন এগুলো থাকার কারণে পরের সময় যখন এই করোনা ভাইরাস আসবে তখন কিন্তু আমাদের দেহ তার সাথে লড়াই করবে এবং জিতে যাবে। যেমন আপনাকে জন্মের পরে টিকা দিয়েছিলো যার কারণে আপনার কিন্তু কলেরা হয় না । এখন কিন্তু কলেরার সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে, কিন্তু আপনার দেহ তাকে চিনে গেছে বলেই আপনার কিছু হচ্ছে না। আপনি প্রতি নিঃশ্বাসে অনেক কলেরা, টাইফয়েড টেনে নিচ্ছেন, কিন্তু আপনার দেহ চিনে বলে সেটি থেকে আপনাকে বাচাচ্ছে।

সেই রকম কেউ করোনা থেকে আরোগ্য পেলে তার আর কোনো সময় করোনা আক্রান্ত হলে কিছু হবে না।এখন যে যুবক বা যে মানুষ করোনা ভাইরাস থেকে আরোগ্য পেয়েছে , তার দেহের ভিতরে কিন্তু অভিজ্ঞতা প্রাপ্ত অনেক মেমোরি টি এবং বি সেল আছে।এখন এই জিনিশ গুলো বা টি লিম্ফসাইট এবং বি লিম্ফসাইট কিন্তু তার রক্তের, রক্ত রসের ভিতরে আছে। এই রক্ত রস্কে বলে প্লাসমা।

এখন যেটা আমি ভাবতেছি যে যদি এই প্লাসমা অন্য কোনো করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীর গায়ের ভিতরে দেওয়া যায়, তবে করোনা ভাইরাস থেকে বাচার সম্ভাবণা থাকে।এটি কিন্তু একটা মারাত্মক ব্যাপার, যদি কোনোমতে এই উপায়টি কাজ করে তবে আমাদের আর ভ্যাক্মিন তৈরির দরকার নাই। এখন এটি সম্ভব কিনা সেটি আমাদের কয়েকজন মানুষের উপর পরিক্ষা করে দেখা উচিত, কেন ?

যেটা বললাম যে কোনোভাবে এটি কাজ করলে অর্থাৎ কোনো করোনা ভাইরাস থেকে আরোগ্য রোগীর যে রক্ত রস আছে সেটি যদি কোনো করোনায় আক্রান্ত মানুষের রক্তে দেওয়া যায় এবং এর কারণে যদি সে মানুষ করোনা ভাইরাস থেকে বেচে যায় তবে তার দেহে আর কনোদিন হয়তো করোনা হবে না এবং তার দেহে যে মেমোরি টি এবং বি সেল আছে সেটি আবার সে অন্য কোনো করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগিকে দিলে সে আবার আরোগ্য পাবে। এবং তার রক্ত রস নিয়ে আবার আরো অনেকজনকে দেওয়া যাবে।

এবং এইভাবে আমরা করোনা ভাইরাস থেকে বাচতে পারি।আমাদের উচিত কোনো করোনা ভাইরাস থেকে আরোগ্য রোগীর রক্ত রস নিয়ে , কোনো করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর উপর পরিক্ষা করা। এবং যদি এটি সম্ভব হয়, তাহলে আমরা করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে পারবো। এবং আমাদের দেশে রক্ত দান করার মতো লোকের অভাব নেই,

কারণ আমাদের দেশের মানুষ তাদের ভাইদের ভালোবাসে। তা আমি বলবো যে আপনারা যদি পারেন তাহলে কোনো উপায়ে একজন আরোগ্য রোগীর রক্ত রস নিয়ে সেটি কোনো করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর রক্তে পরিক্ষা করে দেখা যে এটি কাজ করে নাকি না। আর যদি করে তাহলে আমরা অবশ্যই করোনা ভাইরাসকে জয় করতে পারবো। এটি আমার বিশ্বাস।

Advertisement
উৎসZK Banta
পূর্ববর্তী নিবন্ধসেলফি-ভাস্কর বাগচী’র ছড়া
পরবর্তী নিবন্ধটের কি মামু পাইতেছ! -কামাল খাঁ‘এর ছড়া

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে