গভীর রাতে খাদ্যসামগ্রী নিয়ে বাড়ি বাড়ি ইউএনও

0
392
Tanor
 অাবু জাফর সিদ্দিকী :
তখন রাত ৮টা ৩০মিনিট। দরজার কড়া নাড়ার শব্দ পেয়েই দরজা খুলতেই একজন বললো নমস্কার আমি ইউএনও। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ত্রাণসামগ্রী নিয়ে এসেছি। শুনেই আমিও দু’হাত তুলে নমস্কার জানালাম। আবেগে আমি কেঁদে ফেললাম। এই বুড়ো মানুষের বাড়িতে ত্রাণ নিয়ে ইউএনও নিজেই এসেছে। আজ ১৮ দিন কোন কাজকর্ম নাই। কষ্টে দিনযাপন করছি।’ কথাগুলো বলছিলেন তানোর পৌরএলাকার গোল্লাপাড়া গ্রামের প্রবীণ মৃৎশিল্পী বিনয় চন্দ্র দাস।
একই গ্রামের শতবর্ষী প্রতিবন্ধী নিমাই কারিগর বললেন, ‘আমি সবেমাত্র রাতে খেয়ে বিছানায় বসে আছি। হঠাৎ দরজায় শব্দ হলো। খুলতেই দু’হাত তুলে নমস্কার আমি ইউএনও আপনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ এনেছি। আমাকে বয়স জিজ্ঞেসা করলো, আমি বললাম ১১০বছর চলছে। তিনি মাথা নেড়ে বললো আচ্ছা চলি ভালো থাকবেন। কিছু প্রয়োজন হলে আমাকে জানাবেন।’ এইভাবে প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ও কর্মহীন অসহায় মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে রাতের আঁধারে উপজেলার প্রশাসনের উদ্যোগে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছেন তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুশান্ত কুমার মাহাতো। রবিবার রাতে তিনি পৌর এলাকায় অসহায়দের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন।
ইউএনও সুশান্ত কুমার মাহাতো জানান, করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হাট-বাজার পরিদর্শন, করোনা সচেতনায় লিফলেট বিতরণ, খোলা বাজারে চাল বিক্রি, ন্যায্যমূলে টিসিবির পণ্য সামগ্রী বিক্রি, বাহির থেকে কেউ আসলে তাকে বুঝিয়ে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকাসহ বিভিন্ন বিষয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়। তাই রাতের বেলায় অসহায় কর্মহীনদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মোতাবেক খাদ্যসামগ্রী বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছি। আমরা চেষ্টা করছি আমাদের সর্ব্বোচ দিয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে। আর করোনা সচেতনায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা খুব জরুরী। আপনাদের কাছে অনুরোধ করছি বিনা প্রয়োজনে কেউ বাড়ির বাহিরে বের হবেন না। এখন বর্তমান পরিস্থিতিতে সবাইকে বাড়িতে থাকা খুব জরুরী।
Advertisement
পূর্ববর্তী নিবন্ধনাটোরের নলডাঙ্গায় আর্থিক সংকটে দিনমুজুরের আত্মহত্যা
পরবর্তী নিবন্ধরাজার চোর -বুলবুল আহমেদ‘এর ছড়া

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে