নাটোরে প্রায় ১০ হাজার মেট্রিক টন সরিষা উৎপাদন হবে

0
176
সরিষা

নাটোর কন্ঠ : সরিষার দানা মশলা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সরিষা শাক হিসাবে রয়েছে জনপ্রিয়তা। এছাড়াও সরিষার দানা পানির সাথে মিশিয়ে ভিনেগারসহ বিভিন্ন তরল তৈরি করা হয়, দানা পিষে সরিষার তেল তৈরি করা হয় যা রান্নার কাজে ব্যবহৃত হয়।

সরিষার পাতা সরিষার শাক বা সর্ষে শাক হিসেবে খাওয়া হয়। সরিষা ফুলে স্ব-পরাগায়ন ঘটে থাকে। স্বপরাগায়ন এর ফলে পরাগরেণুর অপচয় কম হয়। ফলে বিপুল পরিমাণে উৎপাদন হয় মধু। এছাড়াও সরিষা জীব বৈচিত্র ও পরিবেশ রক্ষায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে বলে মনে করেন কৃষিবিদরা। অপরদিকে কৃষকরা অধিক লাভবান হচ্ছেন।

আর তাই নাটোরে দিন দিন বাড়ছে সরিষার আবাদ। স্বল্প খরচ ও শ্রমে অধিক ফলন হওয়ায় সরিষা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন কৃষকরা। অন্যান্য ফসলের চেয়ে এ রবিশস্যের দামও রয়েছে বেশ আর ভোজ্য তেলের দাম বৃদ্ধিতে নিজ পরিবারের চাহিদা মেটাতে সরিষা চাষ করছেন অনেক কৃষকরা।

এছাড়া সরিষা চাষে জমির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়। ফলে একদিকে যেমন আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন কৃষক, অন্যদিকে জমির উর্বরতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। নাটোর জেলার সাতটি উপজেলা জুড়ে ফসলি জমিতে এখন সরিষা ফুলের ঘ্রাণে মোহিত। আর সবচেয়ে বেশি সরিষার আবাদ হয়েছে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলায়।

জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে হলুদের সমারোহ। সরিষার হলুদ রঙের ফুলে ভরে আছে সরিষা ক্ষেত। মৌমাছি আর প্রজাপতির আনা-গোনায় সরিষা মাঠগুলো হয়ে উঠেছে মনোমুগ্ধকর। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সরিষার বাম্পার ফলন হবে বলে মনে করছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

গুরুদাসপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র বলছেন, গতবারের চেয়ে এবার কিছুটা বেড়েছে সরিষার আবাদ। গত মৌসুমে ৭শ ৬০ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে। তবে চলতি মৌসুমে এবার ৭শ ৯০ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে। এরমধ্যে টরি-৭ ও বারি-১৪ জাতের সরিষার চাষ বেশি।

গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজীপুরের শ্রীপুর গ্রামের চাষি শরিফুল ইসলাম রেজো বলেন, ‘রসুনের আবাদ করে লোকসান গুনতে হয়েছে। তাই সরিষার ভালো দাম থাকায় রসুনের লোকসান পুষিয়ে নিতে ২৫ বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করছেন তিনি।

প্রতি বিঘা জমিতে সর্বোচ্চ ৬ হাজার টাকা খরচ হয়। ভালো ফলন হলে বিঘাতে ৬ থেকে ৭ মণ সরিষা হবে। প্রতি মণ সরিষা বিক্রি করা যায় ২ হাজার ৫শ থেকে ৩ হাজার টাকা দরে।’ একই গ্রামের শাকিল আহম্মেদ বলেন, খাবার তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে ১বিঘা জমিতে সরিষার চাষ করেছেন। এতে কিছুটা হলেও সঞ্চয় হবে।

গুরুদাসপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হারুনর রশিদ জানান, মাঠ পর্যায়ে গিয়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের মধ্যে প্রয়োজনীয় সার, বীজ ও কীটনাশক বিতরণ করা হয়েছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মাহমুদুল ফারুক জানান, ‘চলতি মৌসুমে নাটোর জেলায় ৭ হাজার ৭ শত ৪৫ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ হাজার ৫ শত হেক্টর। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৬ হাজার ২ শত ১২ মেট্রিক টন। তবে উৎপাদন হবে প্রায় ১০ হাজার মেট্রিক টন।

লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অধিক পরিমাণে উৎপাদনের কারণ হিসেবে তিনি জানান, চলতি বছরের আবহাওয়া প্রতিকূলে ছিলো, কুয়াশা দেখা যায়নি, অন্যদিকে মৌয়াল‘রা বিভিন্ন স্থানে মধু উৎপাদন করছে, ফলে পরাগায়নে কোন বাধা সৃষ্টি না হওয়ায়, উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা চেয়েও অধিক পরিমাণে সরিষা উৎপাদন হবে। ফলন বেশি হওয়ায় কৃষকরাও লাভবান হবেন।’

Advertisement
পূর্ববর্তী নিবন্ধউমা চৌধুরীকে পত্রিকা বিক্রেতাদের ফুলেল শুভেচ্ছা
পরবর্তী নিবন্ধনাটোরের পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা বিপিএম পদকে ভূষিত

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে