“বাকখালী নদীর বাঁকে” শাহিনা রঞ্জু‘এর ভ্রমণ কাহিনী

0
764
www.natorekantho.com

শাহিনা রঞ্জু : কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন্স যাচ্ছি। একরাত থাকবো, সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয় দেখবো। সুযোগ পেলে ছেড়া দ্বীপ যাবো আর ভ্যানে করে সেন্টমার্টিন্স দ্বীপটা পুরোপুরি ঘুরে বেড়াবো। কয়েকবছর আগে আর একবার কেয়ারী সিন্দবাদ নামক জাহাজে করে ওখানে গিয়েছিলাম। মাত্র ২/৩ ঘন্টা পরই রওয়ানা দিয়ে টেকনাফ হয়ে ফিরে এসেছিলাম। মনের মত করে দেখা হয়নি। তাই ভাল করে দেখার সাধটা মনের গভীরে রয়েই গেছে।

ভেবেছিলাম সুযোগ পেলে একরাত থাকবো। ভাল করে নৌযান পেলে ছেড়া দ্বীপও যাবো। খুব আনন্দময় সময় কাটাবো। সাথে আছে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শেখ মুজিব স্যার আর ভাবী এবং বিভাগের আরও ৩০/৩৫ জন কর্মকর্তা কর্মচারী। প্লান মাফিক খুব ভোরে রওয়ানা দিয়েছিলাম ঠিক ভোর ৫:৪৫ এ অর্থাৎ জোয়ারভাটার কারনে ৬:৩০ এর মধ্যে জাহাজ ছেড়ে না দিলে আবার জোয়ার এলে রওয়ানা দিতে হবে।

www.natorekantho.com

তাই কোন সময় নষ্ট করিনি। হোটেল মিডিয়া ইন্টারন্যাশনাল এ উঠেছি। থাকার রুমটা খারাপ ছিলোনা কিন্ত ওয়াশরুমে সমস্যা থাকায় রাতেই রুম চেইঞ্জ করতে হলো। তারপর কাযাা নামাজ আদায় করে ঘুমোতে যেতে দেরী হয়ে গেল। মাত্র তিন ঘন্টা ঘুমিয়ে তাড়াহুড়ো করে বাকখালী নদীতে অপেক্ষারত বি আই ডব্লিউ টিসির কর্ণফুলী জাহাজে সময়মত উঠলাম। বেশ ঠান্ডা পড়েছিল।

আমার ছোট মেয়ে বলেছিল কক্সবাজারে এখন ২৭ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রা চলছে, অত ভারি শীতের কাপড় নেওয়ার দরকার নেই। কিন্ত এসে দেখি পুরো উল্টোটা। দুপুর বেলাটা একটু স্বাভাবিক, তাছাড়া ঠান্ডা। যাহোক সব মিলিয়ে মনে মনে ঠান্ডা লেগে জাবার ভয় পাচ্ছিলাম। কারণ অনেক দিন পর ছোট মেয়েটা কিছুটা সুস্থ হয়েছে এবং আমিও। বেশকিছুদিন ঠান্ডায় আক্রান্ত ছিলাম।

www.natorekantho.com

কোনভাবে সেটা বেড়ে না যায় সেজন্য সতর্ক ছিলাম। যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধ্যা হওয়ার পরিস্থিতি। তাড়াাহুড়ো করে জাহাজে উঠলাম। অনেকে সময় মত না আসার কারনে জাহাজে উঠতে পারল না। তারা টারমিনালে দাঁড়িয়ে অসহায় হয়ে স্টার্ট নেয়া জাহাজটার দিকে তাকিয়ে ছিল।

কিন্তু জাহাজটা অল্প কয়েক গজ গিয়ে আর যাচ্ছিল না। পরে জানলাম ভাটা হয়েছে আবার জোয়ার না আসা পর্যন্ত জাহাজ যেতে পারবে না। মন খারাপ হয়ে গেল। লিল্যাক লাউঞ্জে বসে আছি আরো একজন অতিরিক্ত সচিবের সাথে দেখা। তাঁর সাথেও অনেক্ষণ গল্প করলাম।

www.natorekantho.com

আর শেখ মুজিব স্যারের সাথে মিসেসে ভাবি সেতো আছেই। অনর্গল প্যাঁচাল পারছিলাম। ছোটো ছোটো বোটে করে টারমিনালে অপেক্ষমান যাত্রীদের জাহাজে তোলা হলো। সবাই মিলে অপেক্ষা করতে থাকলাম। প্রায় সারে তিন ঘন্টা পর জাহাজ স্টার্ট নিল। ভাবলাম যাক শেষ পর্যন্ত যাচ্ছি তাহলে। বাকখালি নদী পার হয়ে বঙ্গোপসাগরের উপর দিয়ে কর্ণফুলী জাহাজ চলছে।

আমরা যাচ্ছি। ছোটো ছোটো নৌকাগুলোকে পাহারা দিয়ে বক পাখিগুলো প্রোটকল দিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। ছোটোবাবু আমার উপর রেগেই চলছে। টুম্পা কে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা। সে জাহাজের কোন খানে আছে বুঝতে পারছিনা। সম্পা ঘুমিয়েই চলছে। কেউ ছবি তুলছে, কেউবা সেল্ফি। কেউ চোখে কাজল, লিপস্টিক দিয়ে নিচ্ছে। আবার কেউ ছবি তোলার প্রস্তুতি হিসেবে চুলে হাত বুলিয়ে নিচ্ছে।

বাকখালী নদীর বাঁকে
১৩/২/২০২০

Advertisement
পূর্ববর্তী নিবন্ধ১৪ ফেব্রুয়ারি। স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস।-জাকির তালুকদার
পরবর্তী নিবন্ধ“আমন্ত্রণ” কবি সুরজিত সরকার‘এর কবিতা

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে