মুর্শিদাবাদ ভ্রমনের ইতিবৃত্ত -বেণুবর্ণা অধিকারী -২য় অধ্যায়

0
767
বেণুবর্ণা অধিকারী

বেণুবর্ণা অধিকারী : এরপর আমাদের বাহক আমাদের নিয়ে গেল কাঠগোলা বাগানে। এটা হাজারদুয়ারি থেকে ৪ কিমি উত্তরে । প্রবেশ গেটের সামনে দিয়ে পূর্ব-পশ্চিমে যে রাস্তাটি গেছে, ওই রাস্তার দু’ধারে একসময় কাঠের গোলা ছিল। তাই জায়গাটির নাম কাঠগোলা।

বেণুবর্ণা অধিকারী

কথিত রয়েছে, লক্ষীপৎ, জগপৎ, মহীপৎ ও ধনপৎ— তারা ছিলেন চার ভাই। কোথাও কোথাও পাওয়া যায়, তারা বর্গি-দস্যু ছিলেন, আবার কোনো বর্ণনা মতে তারা ছিলেন ব্যবসায়ী। যাই হোক, এই চার ভাই জগৎশেঠের সহযোগিতায় তৎকালীন নবাবের কাছ থেকে ১২শ টাকায় ৩২ বিঘার এই বাগানটি কিনে নেন মন্দির নির্মাণের জন্য। তবে এখানে মোট ২শ ৫০ বিঘা জমি ছিলো। বাগানে প্রবেশ করেই আমবাগানে এই চার ভাইয়ের ঘোড়সওয়ারি মূর্তি দেখা যায়।

বেণুবর্ণা অধিকারী

জানা যায়, এই চার ভাই কাঠ ও বহু মূল্যবান মণি-মুক্তার ব্যবসা করতেন। সেখান থেকেই কাঠগোলা নাম। আবার কেউ বলে, তাদের কাঠের গোলা বা গুদাম ছিলো— সেই থেকে কাঠগোলা নাম হয়েছে। আবার কেউ কেউ মনে করেন, চারপাশে যে কাঠগোলাপের বাগান রয়েছে, সেখান থেকেই কাঠগোলা নামকরণ হয়েছে।

বেণুবর্ণা অধিকারী

কাঠগোলা বাগানে একসময় গোলাপ, জুঁই, চামেলি ফুলের চাষ বিঘা বিঘা করা হোত। সেই সময় কাঠগোলা বাগানের গোলাপের খুব নাম ডাক ছিল। এত বেশি পরিমাণে গোলাপ ফুল অন্য কোথাও পাওয়া যেত না। কাঠগোলা বাগান সাজাতে লছমিপত, ছত্রপত ও শ্রীপত সিং দুগড় অনেক টাকা খরচ করেছিলেন।

বেণুবর্ণা অধিকারী

এই প্রাসাদে রয়েছে গুপ্ত পথ। এই গুপ্তপথ ভাগীরথী নদীর সঙ্গে সংযুক্ত। এই প্রাসাদ থেকে দুই কিলোমিটার দূরেই জগৎশেঠের বাড়ি। জানা যায়, প্রাসাদের এ গুপ্ত পথ দিয়ে নাকি জগৎশেঠের বাড়িতেও যাওয়া যেতো।

বেণুবর্ণা অধিকারী

সেকালে কাঠগোলা বাগানে জলসা হোত এবং অনেক লোকের সমাগম হোত। বর্তমানে দুগড় পরিবারের বংশধর কলকাতায় বসবাস করেন। সেখান থেকে বেরিয়ে আমরা এবার গেলাম হাজারদূয়ারী দেখতে, তার আগে দুপুরের খাবার খেয়ে নিলাম একটা ধাবায়।
ক্রমশঃ

Advertisement
উৎসবেণুবর্ণা অধিকারী
পূর্ববর্তী নিবন্ধকি আছে শেষে- কাজী আতীকের কবিতা
পরবর্তী নিবন্ধদুঃখ করো না মেয়ে -কবি সুলেখা শামুক‘এর কবিতা

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে