“শালা হুজুগে বাঙালি “- এম আসলাম লিটন

0
638
লিটন

“শালা হুজুগে বাঙালি “- এম আসলাম লিটন

নাটোর কণ্ঠ, শুধু গার্মেন্টস নয়। আমার তো মনে হয় সকল ছুটি বাতিল করে সব কিছু খুলে দেয়ায় ভাল। সব কাজকর্ম চলুক। আধা আধা জিনিস কোনই কাজে আসছে না যে জাতিকে সর্বোচ্চ বাহিনি নামিয়েও ঘরে ঢোকানো যাচ্ছে না, সে জাতির যা হবার তাই হবে।
ঘর থেকে বের হয়েও যদি দূরতত্ব বজায় রেখে চলতো,তাও হতো। হাত ধরাধরি করে মানুষ ঘুরে বেড়াচ্ছে, এক বাইকে তিনজন করে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এক ভ্যানে ৬জন করে যাতায়াত করছে। চায়ের দোকান বন্ধ করা হয়েছে, বাড়ির উঠানে চায়ের দোকান এনে বসাচ্ছে। জনদরদিরা জনসমাগম করে ত্রাণ বিতরণ করছে। শতশত লোক গাদাগাদি করে টিসিবির চাল কিনছে। কাঁচা বাজারে ভিড় কমছেই না। গ্রামে গ্রামে হাট চলছে। মসজিদে প্রতি ওয়াক্তে কাঁধে কাঁধ লাগিয়ে শতশত মানুষ নামাজ পড়ছে। মহল্লার নারীরা গায়ে গা ঘেঁষে খোস গল্পে মশগুল। বাচ্চারা দল বেঁধে খেলছে। যখন তখন একজন আরেকজনের বাড়ি বেড়াতে যাচ্ছে। দুপুরে রদরান্না করা তরকারির বাটি চালান হচ্ছে এবাড়ি-ওবাড়ি। স্বাস্থ্যসচেতনতার বিন্দুমাত্র নাই। শুধু সানগ্লাসের মত করে কপালের উপর একটা শত নোঙরা মাস্ক তুলে রাখছে, প্রশাসনের লোক দেখলেই নাকের উপর নামিয়ে নিচ্ছে। যারা ঘরে থাকছে তারাই বা কতটুকু বিধি মেনে চলছে?? আল্লাহ মালুম!!
সব কিছুই তো চলছে। তাহলে শুধু গণপরিবহন, অফিস আদালত কিছু কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে কি লাভ?
সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাই যখন হচ্ছে না, তখন শুধু শুধু পেশাজীবীদের ক্ষতিগ্রস্ত করে লাভ কী? শুধু শুধু জনগণের টাকার তেল পুড়িয়ে প্রশাসনের এত দৌড়াদৌড়ি করে কী হবে? বেচারা পুলিশ, আর্মি, প্রশাসন এই চৈত্রের দাবদাহের মধ্যে সারাদিন-রাত রাস্তায় টহল দিয়ে কষ্টই বা করছে কেন?
সবচে মজার ব্যাপার যে ব্যক্তি গার্মেন্টস খুলে দেয়ার জন্য গালাগাল করছে, সে ব্যক্তি বন্ধুর সাথে গলা ধরাধরি করে হেঁটে বেড়াচ্ছে। যে জনসমাগম ঘটিয়ে ত্রাণ বিতরণের সমালোচনা করছে সে বাজারে গিয়ে আড্ডা দিচ্ছে। সবাই অন্যের সমালোচনা করছে, কিন্তু নিজে নিয়ম অমান্য করছে।
মানুষকে ঘরে ঢুকানোর প্রসঙ্গ উঠলেই এক শ্রেনির মানুষ ‘গরীবের খাবার কে দেবে’ প্রশ্ন তুলে তত্ব ফেঁদে বসছে। যেন সবাই গরীবের কত্ত প্রিয় বন্ধু!! সদা সর্বদা গরীবের চিন্তায় মরে যায় তারা।
অথচ সুযোগ পেলেই গরীবের পাছায় বাঁশ দিতে ছাড়ে না। রমজান এলেই ডাবল দাম। সংকট হলেই দাম বাড়ায়। স্টক করে। ঘুঁষ ছাড়া এ জাতি নড়ে না। গরীবের রক্ত চোষার সকল যন্ত্র চালু আছে এ দেশে। এনজিও গুলো ঋণের নামে শুধু রক্ত নয়, গরীবের গায়ের চামড়া, ঘরের চাল খুলে নিয়ে যাচ্ছে। রাজনীতিবিদরা গরীবের রক্ত চুঁষে একেকজন থলবলে হাতি বনে গেছে।
অথচ গরীবের বন্ধুরা তখন চুপ!!
অবরোধের নামে বিএনপি-জামাত মাসের পর মাস যখন সারা দেশ অচল করে রাখলো, প্রত্যন্ত গ্রামের চায়ের দোকান পর্যন্ত খুলতে দিল না, রিক্সা, অটো বের করলে পুড়িয়ে দিল, তখন কি কেউ এরকম দাবি তুলেছিল? কজন বলেছিল, গরীবের ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছে দাও? কজন দাবি তুলেছিল বিএনপি-জামাত দেশ অচল করে রাখার আগে গরীবের ঘরে খাবার পৌঁছে দাও?
ঘরে আগুন লাগলে আগে কোনটা বাঁচাবেন? ঘরের মানুষ? নাকি ঐ ঘরের মানুষের খাবার?
আমরা কি বুঝতে পারছি না,করোনা ভাইরাস আগুনের চাইতেও ভয়াবহ। আগে মানুষকে ঘরে ঢুকতে হবে, তারপর খাবারের জন্য চিৎকার করতে হবে।
শুধু কি খাবার সংকটের কথা ভেবে মানুষ ঘরে ঢুকছে না? মোটেও না।। যারা গোঁয়ারের মত দলে দলে মসজিদ,মন্দিরে যাচ্ছে, তারা কি খাবার অন্বেষণে যাচ্ছে? একদল লোক গায়েই মাখছে না। “দেখি না ব্যাটা করোনা কী করে!” একদল লোক ধর্মের অপবয়ান দিয়ে মানুষকে নিরুৎসাহিত করছে। “মোসলমানের ঈমান ঠিক থাকলে করোনা কিচ্ছু করতে পারবে না”। একদল লোক নিজেকে করোনার চাইতে বলবান মনে করছে! “আরে করোনা আমার কিছু করতে পারবে না!!”
যাদের ঘরে খাবার আছে তারাও কি ঘরে থাকছে? কতক্ষণ থাকছে? কতটুকু সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলছে?
করোনার মত ভয়াবহ সংকটেও যে দেশের মানুষ এতটা গোঁয়ার, মূর্খ, কুপমন্ডুক, সে জাতির ভবিষ্যৎ ভাগ্যের হাতেই তুলে দিয়ে দেশ সচল করে দেয়ার দাবি জানাচ্ছি। করোনায় মরলে মরুক, না খেয়ে তো মরবে না!!
“এম আসলাম লিটন “

Advertisement
পূর্ববর্তী নিবন্ধহাসিমুখ-১১ সংগঠনের পক্ষ থেকে দরিদ্র মানুষদের মাঝে আহার বিতরণ
পরবর্তী নিবন্ধহারু আর চৈতন্য কাকার করোনা ভাবনা! – ভাস্কর বাগচী

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে