সালাম সাহিত্যজগত! – জাকির তালুকদার

0
65
জাকির-এনকে

সালাম সাহিত্যজগত! – জাকির তালুকদার

জনপ্রিয় ধারার বাইরের একজন লেখক বাংলাদেশে যা যা পেতে পারেন, সাহিত্য আমাকে সবগুলোই দিয়েছে।
দিয়েছে সারাদেশের সচেতন পাঠকের কাছে পৌঁছানোর সৌভাগ্য। অনেক সংগ্রামী মানুষের কাছে আমি ‘তাদেরই লোক’।
দিয়েছে পুরস্কার, পরিচিতি, কিছু খ্যাতি, কিছু কুখ্যাতি।
দিয়েছে দেশের সর্বত্র বন্ধু, এমনকী যতদূর আছে বাংলাভাষা ততদূর পর্যন্ত দিয়েছে স্বজন।
সাহিত্যই আমাকে সাথে নিয়ে হেঁটেছে সুন্দরবন রক্ষার লংমার্চে, মৌলবাদবিরোধী মিছিলে, আদিবাসী ভূমিরক্ষার আন্দোলনে, পাঠ্যপুস্তক সাম্প্রদায়িকীকরণের বিরুদ্ধে।
সাহিত্য দিয়েছে ব্যক্তিগত সম্পর্কের ঊর্ধ্বে উঠে সমষ্টিকে নিয়ে ভাবার অভ্যাস। শিখিয়েছে আত্মসমালোচনা, যাতে নিজেই নিজেকে দাঁড় করাতে পারি আসামীর কাঠগড়ায়।
সাহিত্য শিখিয়েছে কোনো ব্যক্তির অন্ধ অনুগত না হতে, প্রশংসার নামে স্তুতির গান না গাইতে। কেননা স্তুতির সাথে প্রায়শই জড়িয়ে যায় স্বার্থ আর ব্যক্তিত্বহীনতা।
সাহিত্যের জগতে আমি একলা চলা পথিক। কোনো গুরুর শিষ্য হইনি, আবার নিজের কোনো শিষ্য বানাতে চাইনি। তবে ভালোবাসা পেয়েছি অফুরান যেমন গুরুস্থানীয়দের কাছ থেকে, তেমনই অনুজদের কাছ থেকে।
তারুণ্যের শুরুতেই কীভাবে যেন জেনে গিয়েছিলাম, সাহিত্যের জন্যই জন্ম আমার। তাই রাজনীতিবিদ হইনি, বড় ডাক্তার হইনি, আমলা হতে চাইনি, সামরিক অফিসার হতে চাইনি। সাহিত্যের জন্যই কখনো উন্নত দেশে স্থায়ী বসবাসের চিন্তা করিনি। কারণ আমার মনে হয়েছে বাংলাভাষার লেখক আমি; বাংলাদেশের মাটিতে পা না থাকলে, বাংলার গনগনে আঁচময় জীবনের সাথে মিশে না থাকলে আমি লিখতে পারব না। সাহিত্যের জন্য অন্য সব বিসর্জন দিয়েছি, তবে কোনো অনুশোচনা নেই।

দুঃখ একটাই, সাহিত্য দেশের মানুষকে অন্ধত্ব আর অন্ধকার থেকে একটুও মুক্ত করতে পারছে না। তাই সারাজীবনের কাজকেই বৃথা মনে হয় মাঝে মাঝে।
ব্যর্থতার কোনো সান্ত্বনা হয় না। এমনকী দৃষ্টান্তে রবীন্দ্রনাথ বা নজরুল থাকলেও।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে