সৌমিক ডি.মজুমদারের কয়েকটি কবিতা

0
254
সৌমিকএনকে

বিনিময়
সৌমিক ডি.মজুমদার

তোমরা জানো কি,এই ‘বাংলায়’ আজও কবিতা বিক্রি হয়?

কোন এক অচেনা মফস্বলের সন্ধ্যায়, অচল কোন স্টেশনে, যেখানে স্টেশনগুলো প্লাটফরমে ঘুমিয়েছে বহুদিন আগে,এখন এখানে কোন ট্রেন নেই, স্টেশন মাস্টার নেই, আছে শুধু পরিত্যাক্ত কিছু বগি,যাত্রী ছাউনি, ফেলে আসা মানুষের আর্তনাদ ও পায়ের ছাপের বিস্মৃতি ।এখানে গজিয়ে ওঠা ঘাসই জানে সেই আর্তনাদ ও পায়ের ছাপের ফসিলের যন্ত্রণা।

এমনই এক পরিত্যাক্ত স্টেশনে আমি এবং আমার কবিতা।

আমার প্রতিটি কবিতার বিনিময় মুল্য
এক লিটার দিশি মদ, দুশ গ্রাম চানাচুর।

তোমাকে
সৌমিক ডি.মজুমদার

রাতের সবটুকু চুম্বন শেষ হয়ে গেলে
পড়ে থাকে শূন্য মাটির গেলাশ

স্থবিরতার শরীর বেয়ে নেমে আসে ক্লান্তির কাল দাগ

গোধূলী শেষে
অন্ধকার ঘরে
ঘিরে থাকে জলজ অবগাহন।

সারমেয় ১৯৪৩
সৌমিক ডি.মজুমদার

ঘুম থেকে উঠে আসা চাঁদ
বিছানা থেকে গড়িয়ে পরা জল দ্যাখিনি
দ্যাখেছিলাম, চালের গুদামের ড্রয়ার থেকে থেকে দৌড়ে আসা লাশেদের সারি
অনাহারী মুখের নিরব মিছিল
একটি অভুক্ত কুকুর
প্রতিবেশী কাক।

নারী ও নদীর গল্পো
সৌমিক ডি.মজুমদার

আমি নারীকে নয় বরং নদীকে ভালবাসতে চেয়েছি, ভাল রাথতে চেয়েছি।জানো কি,সে নদীতে নারীরা ক্রমশ সাঁতরিয়ে বেড়ায়। মাছের সাথে জলের যে সম্পর্ক ঠিক তেমন নারী ও নদী। এখানে “মা”য়েদের কোন স্পর্শ নেই মানে নারী মানেই “মা” নয়।যেখানে বেদ আর চর্যাপদের মৈথনের দাগগুলো ফসিল হয়ে দৃশ্যমান আজও,এই ভূমিতে এবং অনার্যীয় পরম্পরায়।তাই আমি নারীকে নয় বরঙ নদীকে ভালবাসতে চেয়েছি।

Advertisement
পূর্ববর্তী নিবন্ধ“কোন পাড়ে তুমি”- বারুনি বিশ্বাসের কবিতা
পরবর্তী নিবন্ধ“আয়োজন “- বেনজির শিকদারের কবিতা

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে