“আমার আমি”-নাসিম উদ্দিন নাসিম

0
567
নাসিম এনকে
আমার আমি….
……………….নাসিম উদ্দিন নাসিম….……………….
আমি অতি সাধারন একটা মানুষ …………
পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের কিছু আশা-আকাঙ্কা থাকে, থাকে সীমাহীন স্বপ্ন।যেখানে সে তার জীবনকে সাজায় একিবারে নিজের মত করে। আমারো তেমন একান্ত কিছু স্বপ্ন আছে, যা আমাকে ভালো কিছু করার প্রেরনা যোগায়। জীবনে কখনো প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসেব মেলানোর চেষ্টা করিনি, হিসেব মেলানোর কোনো ব্যর্থ চেষ্টাও আমার নেই। যেকোনো মুহুর্তকে সহজে গ্রহন করার মানসিকতা লালন করি আমি, জীবনকে সব সময় বুঝতে চেষ্টা করেছি অতি-স্বাভাবিক ভাবে। বন্ধুরা বলে আমি নাকি বিপদেও হাসতে পারি, আমি আসলে আপদ-বিপদ এর অর্থ খুঁজিনা। মাঝে মাঝে ভাবি আমি তো সাধারন একজন , হাজার মানুষের মধ্যে আমার কোন বিশেষত নেই। হাজার মানুষ না ধরলাম শত মানুষ ধরলাম তারপর ভাবলাম নাহ্‌ আমার কোন বিশেষত নেই। আর দশ টা পাঁচ টা মানুষের মত আমি অতি সাধারন।
নিজের অজান্তেই সিধান্ত নিলাম কিচ্ছু একটা করি সাধারন থেকে অসাধারন হতে । আমি বুঝতে চেষ্টাকরি এই পৃথীবিতে যা ঘটমান, তার সবই স্বাভাবিক। এখানে অস্বাভাবিক অথবা হতেইপারেনা নামক শব্দের কোনো স্থান নেই। ক্রম পরিবর্তনশীল পৃথিবীর সাথে আমিও পরিবর্তীত হচ্ছি অনবরত। আমি এক স্বপ্নকথক, চলেছি অজানার উদ্দেশ্যে। আমার কিছুই বলার নেই। তারপরেও, অনেক কিছুই বলতে ইচ্ছে করে। কিন্তু বলার সাহস পাই না। অসীম শূন্যতার মাঝে সামনের দিকে চলা একাকী এক নাবিক। আমার আমি’কে নিয়ে সামনে চলা,এক নিরন্তরের পথে! হাজারো মানুষের ভিড়ে একজন মানুষ, এখনো জীবনের উদ্দেশ্য খুঁজে পাইনি। বেঁচে আছি, বেঁচে থাকতে হয় বলে।
পৃথিবী উদার এবং আচরনেও স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক। আমরা পৃথিবীর সন্তানরা বড় বেশী আত্মমুখী ও স্বার্থপর, নিজে যা বুঝি তাকেই সর্বোচ্চ বুঝেছি মানি এবং নিজে যা দেখেছি তাই সর্বশ্রেষ্ঠ দেখা বলে ভাবি। যেমন খুশি অন্যকে মেপে যাচ্ছি, যারপরনাই ঠেকে যাচ্ছি এবং ঠকাচ্ছি! কেউ ভুল না করে শেখে না, একেকটি ভুল শিক্ষা একেকটি নতুন ধাপের মত। কারো ভুল দিয়ে তার মানদন্ড হয় না, ভুল থেকে সে কেমন শিখেছে সে দন্ডেই সর্ব পর্যায়ের বিচার নির্ধারিত হয়। কারো অতীত দিয়ে তার বর্তমানকে মূল্যায়ন করা অনুচিত, মানুষ মাত্রই বিবেকবান, যার বিবেক যত প্রখর তার ভুলের ক্ষয় তত উজ্জ্বল।
প্রখর বিবেকের দহন ভুলকে ঠিকই পুড়িয়ে দেয়। বিছানা আমার খুব প্রিয়। তবে ঘুমানোর জন্য নয়। নাসা, মার্কিন সিনেট, তালবান, হামাস থেকে শুরু করে নক্ষত্র ও গ্রহানু পুন্জেও চলে যাই এই বিছায় শুয়ে। যখন দীর্ঘ পথ পারি দিয়ে আবিষ্কার করি কোন গ্রহ অথবা গাজাকে স্বাধীন করি ইসরাইলের হাত থেকে তখন ঘুম চল আসে চোখে। অলস শব্দটা সম্ভবত আমার জন্যই। পারস্যের অখ্যাত কবি বলেছিলেন- যার মুখোশ যত সুন্দর, পৃথিবীর কাছে সে তত আকর্ষণীয়… কথাটা যথেষ্ট সত্য, তবে পৃথিবীর কাছে নয় পৃথিবীর মানুষগুলোর কাছে বলা উচিত।
পৃথিবী স্বাভাবিক প্রাকৃতিক ধারায় চলে, সে মুখোশ এবং স্বাভাবিকের মানবিক তফাৎ নির্ণয় করতে জানে না। কিন্তু মানুষ মাত্রই মানবিক, তার কাছে সবার উপরে কোমলতা-সরলতা এবং নিষ্কলঙ্ক ভালোবাসাই প্রাধান্য পায়। সে অপর মানুষদের সাথে সর্বদা নিষ্কলঙ্কের অভিনয় করে যায়, দৃষ্টি জুড়ে আরেক কোমলতা-সরলতা এবং নিষ্কলঙ্ক ভালোবাসা-কে খুঁজে যায়। অনেকেই পায়, হয়তো কেউই পায় না, তবু কেউ কিছুনা কিছুতো পায়…
আবার নিজের সম্পর্কে বলি, পৃথিবীর কাছে আমি কেমন তা এখনো জানি না, জানতে পারবো বলেও মনে হয় না। তবে কবির বক্তব্য অনুযায়ী পৃথিবীর মানুষগুলোর কাছে আমি মোটেই আকর্ষনীয় কেউ নই, আমার প্রধান দূর্বলতা আমার মুখোশ! সে এতই নিম্ন পর্যায়ের যে, যা করি বা যাহাই বলি সবই প্রকাশ্যে। যা সত্য মানি, যাহা মিথ্যা বুঝি তার কিছুই মুখোশে লুকাতে পারি না। আমি এখনো বিশ্বাস করি এই পৃথীবিতে ভালো মানুষের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি, যারা খারাপ কাজে লিপ্ত তারা কেবলি পরিস্থিতির শিকার। সব সময় আশীর্বাদ করি জগতের সকল ভালো মানুষ সুখে থাকুক, অন্যায়কারীর বিবেক জাগ্রত হোক। সৌন্দর্য্য গুলো দেহ ছাড়িয়ে মন পর্যন্ত পৌছে যাক, শুভহোক সকল মঙ্গল প্রয়াস।
Advertisement
পূর্ববর্তী নিবন্ধ“চেতনার চোখে প্রকৃতি দেখা” -মনিমূল হক
পরবর্তী নিবন্ধঅনিল মারান্ডী ছিলেন মানব মুক্তির সংগ্রামের নেতা

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে