“দ্যা হেড কোয়ার্টার” -অনুপ সরকার

0
990
www.natorekantho.com

বাংলাদেশী ভ্রমণ পিপাসু তরুন, অনুপ সরকার, ছাত্র জীবনে পাড়ি জমিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ায়।
কাজ করছেন অস্ট্রেলিয়ার রাজস্ব বিভাগে। অস্ট্রেলিয়ার রাজস্ব বিভাগের-তিনি তথ্য প্রযুক্তিবিদ।
কাজের বাহিরে শখ বিভিন্ন দেশ ঘুরে বেড়ানো। এবারের ভ্রমণ কাহিনীর দ্বিতীয় পর্ব থাকছে নাটোর কন্ঠের পাঠকদের জন্য। অনুগ্রহ পূর্বক ওযেব পেইজে একটি মন্তব্য লিখুন।

অনুপ সরকার : নাম দেখে মোটেও ভাববেন না, কোন ইউরোপীয় দেশের সেনা, নৌ বা বিমান বাহিনীর সদর দপ্তরের আতিথেয়তার অভিজ্ঞতা নিয়ে গল্প ফাঁদতে বসেছি। আমি সে রকম কেউকেটা কেউ না। বেড়ালের ভাগ্যে যেমন শিকে ছেড়ে ননী জোটে না, আমার ভাগ্যও তেমন শিকেতেই তোলা থাকে।

www.natorekantho.com

তাই বলে, এ হেড কোয়ার্টারকে কোন ভাবেই অন্যগুলোর থেকে কম ক্ষমতা সম্পন্ন ভাববেন না বরং কিছু কিছু ক্ষেত্রে পৃথিবীর বাকী সব সদর দপ্তর এটার আশির্বাদের জন্য হুমড়ি খেয়ে পরে থাকে। এটা হলো “দ্যা হলি ভ্যাটিকান” এখান থেকেই রোমান ক্যাথলিকদের প্রধান ধর্ম গুরু পোপ পৃথিবীর ১.২ বিলিয়ন অনুসারীদের দেখাশুনো করেন। এটা একই সাথে উনার অফিস এবং স্থায়ী ঠিকানা । অর্থাৎ এক কথায় এটা রোমান ক্যাথলিকদের হেড কোয়ার্টার।

লেখাটা আরও আগ বাড়ানোর আগে, আমার ভ্যাটিকান জ্ঞানের পরিধিটা একটু বলে রাখা ভালো। ব্যক্তিগত ভাবে আমার ভ্যাটিকান জ্ঞান হাইস্কুলের ভূগোল বই আর হলিউডের Angel and Demon, Infarno টাইপের মুভির মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তাই এখানে যা লেখার চেষ্টা করছি, তার কিছু গুগলের আর কিছু নিজের দেখা বা বুঝার মিশেল বলতে পারেন।

www.natorekantho.com

শুরুতেই ভ্যাটিকানের রাজস্ব বা ট্যাক্স, এটাতে আমার উৎসাহের কারন আমি নিজে একজন রাজস্ব বিভাগের কর্মচারী। তা যখন, ও দেশের রাজস্বের উৎস গুলো কি কি বোঝার চেষ্টা করতে গেলাম, তখন বিষয় আশয় দেখে তো আমার আক্কেলগুডুম। এ দেশের সরকারি ইনকামের প্রধান উৎস নাকি: মিউজিয়ামের প্রবেশ ফি, ডাক টিকেট আর স্যুভেনির (স্মারক) বিক্রির টাকা থেকে আসে আর সাথে থাকে ধর্মীয় অনুসারীদের প্রণামী/দক্ষিণা ।

আমার ক্ষুদ্র বুদ্ধিতে মনে হলো এ দেশতো ইথিওপিয়ার থেকে গরীব হবার কথা কিনতু দেশটা দেখে বা ঘুরে আমার কোন ভাবেই এটাকে দরিদ্র দেশ বলে মনে হয়নি। এটাও হয়তো ঈশ্বরের আর এক রহস্যময় খেলা। যেহেতু অর্থনীতি আমার বিষয় নয় তাই এ ব্যাপারটা এখানেই ক্ষান্ত দিলাম।

www.natorekantho.com

এবার ফিরি ভ্যাটিকান স্যুভেনির আর হলি ওয়াটারের দিকে:- ভ্যাটিকান বা তার চারপাশে কয়েক শ বড়, মাঝারি বা ছোট স্যুভেনিরের দোকান পাবেন (বেশীর ভাগই ফুটপাতের উপরে)। এর ৯০ থেকে ৯৫ ভাগের মালিক বা কর্মচারী আমাদের বাংলাদেশের ভাই ব্রাদাররা। এদের কেউ বা হিন্দু, কেউ বা মুসলিম বা অন্য ধর্মাবলম্বী । আর এসব দোকানেই বিক্রি হয় পোপের সব পবিত্র ছবি, বাইবেল, তাবিজ , তসবি আর বোতল বন্দি হলি ওয়াটার। ওখানেই পরিচয় সিরাজ ভাইর সাথে, বাড়ি ঢাকার মুন্সিগজ্ঞ, মাথায় টুপি পরেন সারাক্ষন।

www.natorekantho.com

তার দোকানে স্পেশাল দুইটা তাক করে রেখেছেন শুধুমাত্র হলি ওয়াটারের রাখার জন্য। যাতে যে কেউ যেনতেন ভাবে এগুলো নাড়াচাড়া করতে না পারে। উনি মানেন এ পানি ওদের কাছে যেমন, তেমন তার কাছেও সমান পবিত্র। মনে মনে চিন্তা করলাম সিরাজ ভাই যা বুঝেন তা কোন বই/পুস্তকে পাওয়া যাবে না।

সিরাজ ভাইয়ের গল্প এখানেই শেষ করলে তার সাথে একটু অবিচার হবে। উনার কাছ থেকে আমি একটা লোকাল টিপস শিখে আসছি, আপনাদেরও কাজে লাগতে পারে যদি আপনি কফি প্রেমিক হোন। খুবই সোজা কাজ এতে কয়টা ইউরো বাচবে।

www.natorekantho.com

ব্যাপারটা এরকম : ভ্যাটিকানে কফি শপে দাঁড়ায় কফি খেতে হবে (প্রত্যেক কফি শপের ক্যাশ কাউনটারের পাশে একটা উঁচু বেনচি থাকে, ওখানে সবাই দাঁড়ায়); খবরদার সব চেয়ার টেবিল খালি থাকলেও ভুলেও বসে কফি খাবেন না তাইলে মূল কফির দামের সাথে সম পরিমান সার্ভিস চার্জ দিতে হবে এখানে।

যেহেতু ভ্রমন কাহিনী লিখতে বসছি তাই চট করে কিছু কাজের তথ্য দিয়ে দেই এ ফাঁকে (এ সব আপনি গুগল করলেও পেয়ে যাবেন):

www.natorekantho.com

১- রোম থেকে ভ্যাটিকান কেমন করে আসবেন ?
⁃ রোম Termini স্টেশনে থেকে মেট্রো রেলে করে Ottaviano-S. Pietro স্টেশনে নামবেন (মোটামুটি ৩০ মিনিটের মতো সময় লাগবে)। এখান থেকে পাঁচ মিনিট হাঁটলেই St Peters Square – Vatican City।

২- কতোক্ষন থাকবেন :
⁃ এ দেশটা দেখতে ৫ থেকে ৬ ঘন্টাতেই হয়ে যাবার কথা, যদি কোন বড় বিরতি না নেন।

৩- কোথায় থাকবেন:
⁃ ভ্যাটিকানের আশেপাশের হোটেলে না থেকে রোমে থাকাটাই ভালো হবে। বুকিং ডট কম বা Trivago বা last minute এর মতো website বা এ্যাপ চেক করতে পারেন।

www.natorekantho.com

৪- খাওয়া/দাওয়া:
⁃ আমার দেখা সবচেয়ে কম খরচের শহর রোম , আর চারদিকে অনেক দেশী লোকজন (সব সময় একটা দেশী আমেজ পাবেন তাই মনের জোরটাও থাকে )। তাই যখন আপনার পিৎজা বা পাস্তা তে আর পোষাবে না, তখন চট করে কোন দেশী ভাইরে জিজ্ঞাস করলেই আপনাকে কাছের বাংলাদেশী রেস্টুরেন্টের খোঁজ দিয়ে দিবে। (নাইলে ব্যাক আপ হিসাবে গুগল তো হাতের কাছে থাকলেই)

৫- কেনা কাটা :
⁃ যতোটা শপিং করা সম্ভব রোম থেকেই করে নিবেন, সস্তা পড়বে।

৬- মানি এক্সচেঞ্জ:
⁃ সাথে যদি ডলার বা অন্য কোন দেশের মুদ্রা থাকে তবে দুই একটা দোকান ঘুরে ফিরে রোমেই ইউরো করে নেয়াটাই ভালো হবে, কারন এখানে কোন এক্সচেজ্ঞ ফি দিতে হবে না । (ভেনিসে ২০০ ডলার চেনজ করতে আমার কাছে ২০ ইউরো ফি নিয়েছিল)।
⁃ রোমা টারমিনির আশেপাশে অনেক গুলো ম্যানি চেনজার আছে।

www.natorekantho.com

৭- কখন যাবেন:
⁃ ভ্যাটিকান বেড়ানো সবচেয়ে ভালো সময় গ্রীষ্মকাল
বেড়িয়ে আসুন হলি ভ্যাটিকান।

-লেখক তথ্য প্রযুক্তিবিদ,অনুপ সরকার, ব্রিসবেন; অস্ট্রেলিয়া

Advertisement
পূর্ববর্তী নিবন্ধআদিবাসী ও প্রতিবন্ধিদের বিনামূল্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণের সুযোগ
পরবর্তী নিবন্ধ“অনঘ প্রেরণা”- মনির জামানের কবিতা

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে