মকবুল,ম্যাকবেথ ও দশ টাকার ছোটো রিচার্জ -অমিতকুমার বিশ্বাস

0
637
Amit

মকবুল,ম্যাকবেথ ও দশ টাকার ছোটো রিচার্জ -অমিতকুমার বিশ্বাস

এই তো গতকালই একটা বিজ্ঞাপনে দেখলাম দৌড়াচ্ছেন। একসময় দেখতাম হাচের ছোটো রিচার্জ নিয়ে বোকা বাক্সে হাজির। দুটো চোখ আর কন্ঠ, ব্যস!

হাচ অনেকদিন নেই এদেশের বাজারে। মিশে গেছে নাকি অন্য শরীরে। এইসব ব্যাবসায়িক সমীকরণ সাধারণের স্পর্শের বাইরে, বোধের বাইরে। খুব গোলমেলে সে-পুতুল নাচের চিরকথা।
কে নাড়ায়, কে নড়ে?
জল পড়ে, পাতা নড়ে।

সেই ব্যাবসায়িক ছবিতেই তাঁকে প্রথম দেখেছিলাম খলের চরিত্রে। ছবিতে ওম পুরি, মনোজ বাজপেয়ি। বাজে ছবি, নাম মনে নেই। কিন্তু সেখানে ওম পুরির স্ত্রীর সঙ্গে সম্ভোগ-দৃশ্যে ওম পুরির বাধা পাবার পর গায়ে সাদা জামাটা গলাতে-গলাতে তাঁর হিমশীতল কথাগুলি আজও শিরদাঁড়ায় শীতল স্রোত বয়ে আনে।

তারপর তো তাঁকেই চাওয়া——- চোখ ও কণ্ঠের কাঠপেনসিলে আঁকা অভিব্যক্তিতে ডুবে যাওয়া। তাঁর নীরবতা কত কথা কত যন্ত্রণা কত ক্রোধ কত ভালোবাসা কত ঘৃণা জ্যান্ত করে তুলত আলোকবিজ্ঞানের পরদাখেলাটাকে।

হ্যাঁ, কাল দেখেছিলাম বিজ্ঞাপনটা। সে দৌড়াচ্ছিল।
হ্যাঁ, তাঁর মায়ের কথাটা শুনেছিলাম এই দুঃসময়ে।
এবং নিজেও, অবশেষে!
মকবুল তো!
কিংবা ম্যাকবেথ।
মায়ের প্রয়াণের পর কি ম্যাকবেথ আর্তনাদ করে উঠেছিল:

Tomorrow, and tomorrow, and tomorrow,
Creeps in this petty pace from day to day,
To the last syllable of recorded time;
And all our yesterdays have lighted fools
The way to dusty death. Out, out, brief candle!
Life’s but a walking shadow, a poor player,
That struts and frets his hour upon the stage,
And then is heard no more. It is a tale
Told by an idiot, full of sound and fury,
Signifying nothing.

(William Shakespeare’ s ‘Macbeth’, Act V, Scene V, Lines 19-28)

ম্যাকডাফ!
ম্যাকডাফ সম্মুখে, ঘোড়ায়। স্বয়ং যম? দৌড় থামাতে বলে?
হুম! ও যে সবাইকেই বলে, ‘ব্যস, থামো!’——সময়ে কিংবা অসময়ে।

ম্যাকডাফ যেন মানুষের নিষ্ঠুর নিয়তি। তারও কিছু দায় আছে।
‘হো হো’ করে হেসে ওঠে ম্যাকডাফ!
চিৎকার করে ওঠে অসময়ে মাতৃজঠর থেকে তাকে সিজারিয়ান পদ্ধতিতে বের করে নেবার জন্মকথা শুনিয়েই।
মৃত্যু নিয়ে এসেছে সে, অন্ধকার জঠর থেকে এই অসময়ে বেরিয়ে, অথচ কথা ছিল না এমনটা।
কারা এমনটা করল? কোন চিকিৎসক?

অবশেষে মৃত্যুটা ঝাঁপিয়ে পড়ে!

কিন্তু সে মুম্বাই-অন্ধকারের মকবুল নয়, আবার সুদূর স্কটল্যান্ডের ম্যাকবেথও নয়। হয়তো ‘হায়দর’-এর রুহু সে, আত্মা মাত্র!

আত্মা! হা হা হা!

“বাসাংসি জীর্ণানি যথা বিহায়
নবানি গৃহাতি নরোহপরানি !
তথা শরীরানি বিহায় জীর্ণান্য-
ন্যানি সংযাতি নবানি দেহী।” .

(গীতা/ দ্বিতীয় অধ্যায়/ সাংখ্যযোগ / শ্লোক ২২)

“শরীর পোশাক শুধু, ছিঁড়ে গেলে পালটায় যেমন,
পুরনো শরীর ছেড়ে আত্মা যায় শরীর নূতন।

(গীতা/ দ্বিতীয় অধ্যায়/ সাংখ্যযোগ / শ্লোক ২২/ অনুবাদ: তমাল বন্দ্যোপাধ্যায়, কবিতা আশ্রম ট্রাস্ট, ২০১৯, ISBN:9788194482901, ২৫০ টাকা)

নাটকের শেষপর্বে নিয়তি তাঁর কর্তিত মস্তকটি ঝুলিয়ে রেখেছে মঞ্চের এক কোণে।
সেটি ক্রমশ বড় হতে হতে
সমস্ত মঞ্চটাকে ভরাট করে ফেলছে…

এখন আমাদের সামনে সেই বিশাল শরীরবিহীন মুখাবয়ব।

ছাতা আছে?
রঙ্গশালায় যে বৃষ্টি নামল খুব।

ll অকুবি, ২৯ এপ্রিল ২০২০ ll

Advertisement
পূর্ববর্তী নিবন্ধবড়াইগ্রামে নাটোর- পাবনা মহাসড়কে পুলিশের ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন
পরবর্তী নিবন্ধমুক্ত গনমাধ্যম দিবসে সাংবাদিক ফয়েজ আহমদ স্মরণ  -রেজাউল করিম খান

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে