সেদিনই দেখবো নারীমুক্তি -মো. জসিম উদ্দীন

0
286
মো. জসিম উদ্দীন

সেদিনই দেখবো নারীমুক্তি

মো. জসিম উদ্দীন

অনুন্নত, অশিক্ষিত, অসভ্য বর্বর দেশের নারীরা ধর্ষণের কবল থেকে কোনক্রমেই মুক্তি পাচ্ছে না। যদিও এশিয়া, বিশ্বের উন্নত রাষ্ট্র যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপেও ধর্ষণের ঘটনা কম নয়। চলতি বছরের ন’মাসের মধ্যেই ২০৮টি দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে দেশে। বিভৎস সে ধর্ষণের চিত্র! একটা আরেকটাকে হার মানিয়ে দিচ্ছে!

জঙ্গলের জানোয়ার রাস্তায় বেরুনোতে নারীর জীবন আজ সঙ্কটাপন্ন। মনোবিশেষজ্ঞের মতে, নৈতিকতার অবক্ষয় আর বিচারপতির মতে, আইনে ত্রুটি নেই, প্রয়োগেই বড় গলদ এজন্য বেড়ে চলেছে ধর্ষণের ঘটনা। মুলত যৌন চাহিদা মেটাতে ধর্ষণ করে না, পুরুষ তার বিবাহিত স্ত্রীকেও ধর্ষণ করতে দ্বিধা করে না। এটা পুরুষতান্ত্রিক সমাজের বিকৃতি মনের পুরুষ ক্ষমতাবান হওয়ার কারণে নারীশিশুকে ধর্ষণ করে, আর নারী ক্ষমতাহীন হওয়ার কারণে ধর্ষিত হয়, হচ্ছে, হবে ততদিন যতদিন না নারী ক্ষমতাবান হচ্ছে। জেনে বুঝে কেউ অগ্নিতে ঝাপ দেয় না। এজন্য প্রভাবশালী পরিবারের নারী নিরাপদে।

আপাতদৃষ্টিতে বিচারহীনতাও কম ভূমিকা রাখছে না নারী ধর্ষণে। যদিও ধর্ষণে কঠোর শাস্তি দেয়া দেশও ধর্ষণ রোধ করতে পারছে না। পত্রিকায় প্রকাশিত, ‘ধর্ষণ বর্বরতায় স্তম্ভিত দেশ’, শীর্ষক খবরগুলোও পড়তে ভীষণ কষ্ট হয়। সবগুলো পড়ি না, পড়তে পারি না। বুকের ভেতর কেমন যেন একটা মোচড় দিয়ে ওঠে। আমিও যে কন্যা সন্তানের জনক। না জানি আমাদেরও ঈশান কোণে কখন সে কালো মেঘ নেমে আসে। মেঘ যদি একবার নেমে আসে, তখন শিশ্নতান্ত্রিক সমাজের ভুক্তভোগীরাই জানেন জীবন যুদ্ধের সে ভয়াবহতা।

ভগাঙ্কুর কি ভীষণ অস্পৃশ্য তখন! কিন্তু শিশুর শিশ্নে চুম্বন ঠিকই বসে। বৈষম্যের সূচনা এখান থেকেই। হালিখানেক কন্যা সন্তান থাকতেও বংশের পিদিম জ্বালাতে যে একটি পুত্রের জন্যে আমরা ব্যাকুল! পুত্র এই শিখেই বড় হতে থাকে যে, হালিখানেক কন্যা সমান সে নিজে এবং সেই এ সুন্দরের কর্ণধর। কাজেই পুত্রের প্রতি ব্যাকুলতা মানেই নারীর প্রতি প্রবঞ্চনা। যার রেশ আমাদের টানতে হচ্ছে আজ, আমাদের এ মানসিকতার পরিবর্তন না আনা অবধি সে রেশ টানতেই হবে।

ধর্ষিতা এবং তার পরিবার কতটা নিগৃহীত, বেঁচে থাকতে তাদের কতটা কষ্ট হয়, কতটা ধৈর্য তাদের ধরতে হয়, তা কল্পনারও ঊর্ধ্বে ! ধৈর্য হারা হয়ে অনেকে আত্মহত্যাও করেন। যখন কোনো উপায় থাকে না, নিকটজনেরাও যখন পাশে এগিয়ে আসে না একটু মনোবল নিয়ে; বিচার হয় না যখন পূজিত শিশ্ন’র, তখন পৃথিবীর উপর তার অনীহা জাগতেই পারে। সর্বোচ্চ আদালতের বিচারপতি তার বিচারাসনে বসেই যখন ধর্ষিতাকেই দায়ী করতে পারেন, তখন তার দুনিয়া থেকে নিজেকে সরিয়ে নেয়ার পথটা সুগম বৈকি। যদিও আত্মহত্যায় তার কোনো স্থায়ী সমাধান নেই। ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব কন্যা দিবস।

এদিনও চাঁপাইনবাবগঞ্জে তেরো বছরের আসিফা খাতুন ধর্ষণের বিচার না পেয়ে, কন্যা দিবসের কন্যা আত্মহত্যা করে দিবসটি পালন করে। সদ্য ধর্ষিত, খাগড়াছড়ির প্রতিবন্ধী চাকমা মেয়েটির আত্মহত্যার সংবাদ যেন আর আমাদের শুনতে না হয়। দল বেঁধে গণধর্ষণ করেছে শিশ্নধারী বীর পুরুষেরা। এ বীরের গোপনাঙ্গের কেশও কী স্পর্শ করতে পারবে ভুক্তভোগী পরিবারটি? না, শিশ্নের রাজ্যে ভগাঙ্কুর দাসী, প্রজা। কাজেই শিশ্নরাজার কাচা মাংসের যোগান তো প্রজারই দিতে হবে।

কিন্তু লাম্পট্য শিশ্নরাজার তো মনে রাখা দরকার , যে একটি মাত্র Y ক্রোমোসম নিয়ে গর্ব করে; আসলে এটি গর্বের কিছু নয়, এটি তার ধংসের কারণ। পুরুষের সৃষ্টিই নারীত্বকে হত্যা করে। অপরাধবিজ্ঞানীরা বড়ো-বড়ো অপরাধীদের মধ্যে YY ক্রোমোসম লক্ষ্য করেছেন। অপরাধের সঙ্গে Y ক্রোমোসমের নিবিড়ভাবে সম্পর্ক আছে বলে মনে হয়। পুরুষ যে এখনো অসভ্যের জনক তার বড়ো উদাহরণ পতিতালয়।

সেখানে তার তেরো বছরের একটি কন্যা সন্তানকে ‘স্টেরোয়েড’ খাওয়ায়ে বিশ বছরের পূর্ণ যুবতীর ন্যয় পেশির জোরে বানিয়ে রেখেছে যৌনদাসী। অপর তেষট্টি বছরের ছেলে আদরের দুলাল, শিশ্নরাজাকে পাঠিয়েছে কাঙ্ক্ষিত কাম সুখের সুড়সুড়ি মেটাতে। তাতে কন্যাকে যতোই নিগৃহীত করা হোক না কেন, জনকের মুনাফা অর্জনের পথটা সুগম হয়ে আসছে অনন্তকাল ধরে। এটাও প্রমাণ করে মুনাফাবাজেরা কতটা নিচে নামতে পারে।

কন্যার ভগাঙ্কুর বেচা অর্থ দিয়ে তার মদের পেয়ালা করছে পূর্ণ। এই অসভ্যতার নাম দিয়েছে তারা যৌনকর্ম। যৌনতাকেও তারা পেশায় যুক্ত করেছে। এটি কর্ম নয় অসভ্যতা, নারীর প্রতি পুরুষের বর্বরতা। সখ করে কেউ পতিতাবৃত্তি করে না। এই লাম্পট্যরা পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করে দোষটা নারীর ঘাড়েই চাপিয়ে দিয়ে দায়মুক্তি পেতে চায়। কতটা নির্লজ্জ মিথ্যেবাদী হলে এমনটি বলা সম্ভব! ভগাঙ্কুরের গন্ধ শুঁকতে কে যায়? শিশ্ন। সে শিশ্ন সারাজনম নিষ্পাপই রয়ে গেল তার জনকের কাছে, মানুষের কাছে নয়। মানুষের কাছে সে ঘৃণিত!

হাজার বছর আগের নীতি থেকে আধুনিক যুগের মানুষ এখনো শতভাগ বের হয়ে আসতে পারেনি। কুসংস্কারাচ্ছন্ন নারীশিক্ষা। নারীকে শিক্ষার নামে এখনো অশিক্ষা কুশিক্ষায় দেয়া হচ্ছে। ইংরেজি, বাংলা, আরবি তিন মিডিয়াম শিক্ষাব্যবস্থার কোনোটার সঙ্গে কোনোটার সামঞ্জস্য নেই। তেঁতুলের জনক গেছেন, কিন্তু তার অনুসারী রেখে গেছেন। নারী শিক্ষায় এরাই প্রথম বাধা, দ্বিতীয় বাধা সুশিক্ষা থেকে বঞ্চিত নারী।

শাস্ত্রে নারীর মুক্তি নেই, নারী শস্যখেত। যৌনতা নারীপুরুষ উভয়ের মধ্যে থাকলেও আজ অদধি শুনিনি, কোনো নারী একটি পুরুষকে ধর্ষণ করেছে। কেননা নারীর শরীর যদি পুরুষের কাছে লোভনীয় হতে পারে, তাহলে বিপরীত লিঙ্গ হিসেবে পুরুষের শরীরও তো নারীর কাছে লোভনীয় হবে। আর লোভপীড়িত হয়ে নারীও পুরুষকে ধর্ষণ করবে। যদিও প্রকৃতির নিয়মে নারী তা পারবে না। কিন্তু ঝাপটে ধরা, কামড়ে দেয়া, খামচে দেয়াও দেখিনি, দেখিনি লোলুপ দৃষ্টিতে তাকানোও।

যা বিকৃত পুরুষের নিত্য কর্ম। যেকোনো ধর্মীয় অনুশাসন বা বিধিবিধান মেনে চললে নাকি নারী ধর্ষণ থেকে রেহাই পাবে। কিন্তু এই পদের রচয়িতারাই যখন ছোট্ট শিশু, যার মধ্যে যৌনতার বিন্দু মাত্র ইঙ্গিত বহন করে না; সেই কোলের কোমলমতি শিশুকে ধর্মশালায় ধর্ষণ করে মেরেই ফেলে, তখন তাদের ঐ থিওরির ওপর সাধারণ আমজনতাও আস্থা হারিয়ে ফেলেন। ধর্ম দ্বারা শাসিত রাষ্ট্রে ধর্ষণে অভিযুক্ত ধর্মীয় পণ্ডিতদের সংখ্যাও অত্যাধিক।

অনেকে বলে থাকেন, নারীরা বড়ো পদে গেলে তাদের ওপর যৌন নির্যাতনসহ সকল প্রকার নিপীড়ন বন্ধ হবে। বাস্তব ফল ভিন্ন। বহু দেশের রাষ্ট্রপ্রধানসহ রাষ্ট্রিয় গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের সম্মুখভাগে নারী। সেখানে নারী নিপীড়নমুক্ত নয়। বরং সে সকল প্রথম সারির নারীরাই যৌন হেনস্থার শিকার। মিডিয়ায় এ-কথা কেউ বলতে চায় না, বলে অনেকেই সমালোচিত হয়েছেন। ঘরোয়া আলাপচারিতায় পাওয়া যায় এর নিগুঢ় তথ্য। কাজেই নারী হলো আজ মুকুট ছাড়া সম্রাট।

প্রবাদ আছে, ঢাল নেই তরোয়াল নেই নিধিরাম সর্দার। বঞ্চিত নারীর অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার মতো মহতী উদ্যোগ যখনই কোনো মহান মানুষ নেন, ওমনি সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীসহ শিশ্নতন্ত্রের পূজারিরা ঝাপিয়ে পড়েন তার ওপর। তখন ‘ভিক্ষা চাই না মা কুকুর ঠেকাও’র দশা। কিন্তু সফল হয়েছিলেন রাজা রামমোহন রায়, হিন্দু নারীর দ্বিতীয় ঈশ্বর। একুশ শতকে এসে গদি ছাড়তে কেউ রাজি নয়, ধর্মের ওপর ভর করেই গদিতে বসতে হয়। রাজনীতি আর ধর্মনীতি তখন একাকার হয়ে যায়।

ধর্মনীতিতে নারীমুক্তি হয়ে যায় তখন বিলীন। রাষ্ট্র নিজেও সাম্প্রদায়িক, তার একটি বিশেষ ধর্ম আছ। যদিও সে ধর্ম পালনে তার কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। গদি নিয়ন্ত্রণে রাখতে যা যা করোনীয় তাতে সে বদ্ধপরিকর। হালিখানেক সন্তান জন্ম দিয়ে সে একমুখে দেয় দুধপান্তা, বাকিগুলো থাকে উপোষ।

আশ্চর্য হই পুরুষের নীতিবহির্ভূত কর্মকাণ্ড দেখে। তারা পুরুষ হয়েও তাদের বাবাকে ততটা মূল্যায়ন করে না, যতটা মূল্যায়ন মা’কে করে। মাকে তারা আসমানের চাঁদ বানিয়ে রাখে। সকাল-দুপুর-সন্ধ্যা-রাতে চরণে ভক্তির রাখে। চরণ ধুলি শিরোধার্য সর্বক্ষণ। অথচ এই মায়ের জাতিকে বলাৎকারে তারা একাট্টা, সব শেয়ালের এক রা’, এখানে তাদের কোনো মতভেদ নেই। এখানে তারা নারীকে পিষে মারতে চায়, মারে।

এই পিষে মারাটাও আজ থেকে নয়, এটা বিগত শতাব্দীর পর শতাব্দী থেকে তারা পিষে আসছে। নারীরা সুখে ছিল তখন, যখন ছিল মাতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা। আদিতে নারীই ছিল পৃথিবীর কর্ণধর। আজকের পুরুষের ন্যয় তখন ছিল নারী। তখন সমাজকর্তা, বিচারপতি, রাজ্যের শাসক, ধনসম্পত্তি জায়গাজমি সবই ছিল নারীর নামে নামকরণ। এই নারী আধিপত্যেরও একটা কারণ ছিল। তখনকার আদিম যুগে নারী-পুরুষ সবাই জানত যে, নারীর গর্ভ থেকে যে সন্তান আসে তা নারীর একক ঐশ্বরিক বা দৈব শক্তির গুনে।

এজন্য সবাই ছিল নারীর পদানত। নারী তথা মায়ের পরিচয়ে সবাই বড়ো হতো। এভাবে সুদীর্ঘকাল অতিবাহিত হওয়ার পরে, বিজ্ঞানের ছোয়ায় পুরুষ যখন জানতে পারল যে, নারী-পুরুষের যৌনসঙ্গমের কারণেই সন্তান জন্ম নেয় এবং তার শিশ্নই (পুরুষের দাবি) সৃষ্টি ধারা অব্যাহত রাখতে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। এবার তারে রাখে কে, তখন থেকেই শুরু হলো তার একাধিপত্য। শুরু হলো তার শিশ্ন পূজা। যা আজ অবধি চলছে এবং চলবে অনন্তকাল।

দীর্ঘকাল পেশি শক্তির জোরে কোনো প্রাজাতি টিকে থাকতে পারে না। এজন্য ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, স্বৈরাশাসকের পতন অনিবার্য। কাজেই পুরুষ আধিপত্যেরও একটা ইতি ঘটবে। এখন দেখার বিষয় সেটা সম্মানের সাথে ঘটে কিনা। যদিও স্বৈরশাসকেরা স্বইচ্ছায় ক্ষমতা ছাড়ে না। সম্মানজনক সমঝোতার মাধ্যমে, শান্তিকামী মানুষের মানবাধিকার বা সমানাধিকারের দাবি মেনে নিয়ে পুরুষ তার বুদ্ধিমানের পরিচয় দিতে পারে।

আধুনিক যুগের বিজ্ঞানীরা নিরলসভাবে গবেষণা করে চলেছেন, কিভাবে পুরুষ ছাড়াই নারী এককভাবে সন্তান জন্ম দিতে সক্ষম হয়। ইঁদুরের উপর প্রাথমিক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা ইতিবাচক ফল পেয়েছেন, তারা এগোচ্ছে। এখন যে পুরুষ নারীকে সন্তান উৎপাদনের কল রুপে ব্যবহার করে, যখন নারীরা নিজেই সন্তান জন্ম দিতে সক্ষম হবে, তখন কি আর নিষ্ঠুর পাষাণ হিংস্র নারী মাংসখেকো পুরুষের প্রয়োজন নারী অনুভব করবে? সোজা উত্তর না।

তখন কী পৃথিবী থেকে পুরুষের বিলুপ্তি ঘটবে না? লক্ষ কোটি প্রাণীর কিন্তু বিলুপ্তি ঘটেছে। যে Y ক্রোমোসম নিয়ে পুরুষের এতো বাহাদুরি, যার দোষে-গুণে হয় নারী থেকে পুরুষ; কয়েক’শ জিন তার Y ক্রোমোসম থেকে হারিয়ে ফেলেছে পুরুষ তিরিশ কোটি বছর ধরে। আমি জেনে-বুঝেই এ কলাম লিখতে বসেছি, নারীবাদী লেখক এ-সমাজের চক্ষুশূল। আমি মানুষের পক্ষে লিখছি।আমি সভ্যতার পক্ষে লিখছি।

তারা (পুরুষ) একটু বোঝার চেষ্টা করে না যে, নারীবাদীই তো মানববাদ। নারী তার মানবাধিকার চায়, এটা তার ন্যায্য মৌলিক অধিকারের দাবী। পৃথিবীর কোনো কিছুই চিরস্থায়ী নয়। পৃথিবী আজকের এখানে ছিল না, বর্তমানের অবস্থাও ভবিষ্যতে থাকবে না। সে পরিবর্তন, বিবর্তনের পথ ধরে খেলা করে। ইতিহাসের চাকা পেছনে ঘোরে না। এটা সকলেই উপলব্ধি করতে পারে না, না পারার কারণ, লক্ষ-কোটি বছরের বিবর্তনের ইতিহাস পাঠে তাদের ধৈর্য নেই। ধৈর্যহীন জাতির ইতিহাস কে না জানে।

জাতিসংঘের প্রকাশিত একটি জরিপে দেখা গেছে, কিছু দেশে নারীর তুলনায় পুরুষের সংখ্যা কম ও বেশি। কিন্তু পৃথিবীতে গড় মানুষের তুলনায় এখনো পুরুষের থেকে নারীর সংখ্যাই বেশি। রাজা রামমোহন রায়ও পুরুষ ছিলেন, মানুষ পুরুষ। তিনিই সতীদাহ প্রথা বিলুপ্তি করে নারীর জীবন দান করেছেন। পুরুষ শুধু পেশি শক্তির জোরেই আগুনের কুণ্ডলীতে নারীকে নিক্ষেপ করেনি, পুরুষের কুশিক্ষার কবলে পড়েও নারী আত্মাহুতি দিয়েছেন।

কাজেই নারীর মুক্তি যেমন পুরুষকেই দিতে হবে, তেমনি পুরুষ প্রজাতিকে টিকে থাকতে হলে, পৃথিবীর ভারসাম্যকে রক্ষা করতে হলে, সম্মুখভাগে পুরুষকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা কবে কখন থেকে সভ্য হবে, মানুষ হবে। সঙ্গে নারীদেরও সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে তাদের অধিকার আদায়ে। সব পুরুষ খারাপ নয়, সব নারীও ভালো নয়। কিন্তু নারী খারাপের জন্য পুরুষ যতটা দায়ী, ততটা দায়ী পুরুষ খারাপের জন্য নারী নয়।

শিশ্নের পূজা যতদিন না বন্ধ হচ্ছে, যতদিন না নারী ক্ষমতায়ন হচ্ছে ততদিন নারীমুক্তি শ্লোগানেই সীমাবদ্ধ থাকছে। নারী নির্যাতনে কঠোর শাস্তি দেয়া আর মূল কেটে জল মাথায় ঢালা সমান, ফল শূন্য। নারী ক্ষমতায়নের মাধ্যমেই নারীমুক্তি। ভালো কাজের ফল যেমন মন্দ নয়, তেমনি মন্দ কাজের ফলও ভালো নয়। যেমন চিন্তা তেমন ফল। শিশ্নতন্ত্রের শির থেকে কুবুদ্ধি কূপে ফেলে সুবুদ্ধি সাদরে শিরে গ্রহণ করাই শ্রেয়। শ্রেয় তার ভেতরের ঘুমন্ত সত্তাকে জাগিয়ে বিবেক দ্বারা তাড়িত হয়ে মনুষ্য সমাজকে সমৃদ্ধ করা।

লেখক: প্রতিষ্ঠাতা, খোকসা কমিউনিটি লাইব্রেরি

Advertisement
উৎসমো. জসিম উদ্দীন
পূর্ববর্তী নিবন্ধসমানে সমান -কবি কোহিনুর আকতার‘এর কবিতা
পরবর্তী নিবন্ধঅধরা -কবি মুতাকাব্বির মাসুদ‘এর কবিতা

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে